Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

“বিজেপির নাম বলবে না তো? আমরা এখনই ভয় পাচ্ছি”, আনারুল প্রসঙ্গে কটাক্ষ শমীকের

।। প্রথম কলকাতা।।

মা সারদা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলনা করেন তৃণমূলের বিধায়ক নির্মল মাঝি । আর তারপর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে রীতিমত রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রামকৃষ্ণ মিশন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা এই মন্তব্যে মর্মাহত। আর এই মন্তব্য কে কেন্দ্র করে শাসকদল কে ফের একহাত নিলেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ” উনিও যদি আহত হন তাহলে কয়েক দিন আগে স্বঘোষিত একজন ধর্মগুরু শিবলিঙ্গ প্রসঙ্গে একটি কটুক্তি করেন। দুটি এফ আই আর দাখিল করা হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বলুন সেখানে ব্যবস্থা নিতে। কোন ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা তাকে নিন্দা করে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেননি”।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় ভাবাকে বেগে আঘাত করা এবং এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদেরকে দল এবং দলের বাইরে পুরস্কৃত করেছে তৃণমূল। সুতরাং আজ নির্মল মাঝির এই বিবৃতির পরে এই ধরনের দুঃখ প্রকাশের কোনো নৈতিক কিংবা রাজনৈতিক অধিকার তৃণমূলের কোনো নেতাকর্মীর নেই।

অন্যদিকে বগটুইই গণহত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আনারুল হোসেন আজ বলেন যে , এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম সঠিক সময় আসলে তিনি ঠিক প্রকাশ্যে আনবেন । এই প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি শমীক ভট্টাচার্য তিনি বলেন, ” বিজেপির নাম বলবে না তো? আমরা এখন থেকেই ভয় পেয়ে যাচ্ছি কারণ এখানে সুদীপ্ত সেন যেভাবে শুভেন্দুর নামে গল্প বলছে, ওখানেও একটা গল্প বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রত্যেকেই জানে এই ঘটনার সঙ্গে আনরুল যুক্ত রয়েছে”। গ্রামের মধ্যে জীবন্ত কিছু মানুষকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হল এবং পুলিশ নির্বাক দর্শকের মতো কয়েক শ মিটার দূরে বসে রইল। এই ঘটনায় শুধুমাত্র দোষী আনারুল নয় বরং তিনি এদিন বলেন এই ঘটনায় বীরভূম জেলা তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের একাংশের হাত রয়েছে।

নেতাই কাণ্ডের পর শুভেন্দু অধিকারী যখন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন তখন তাকে বাধা দেয় রাজ্য পুলিশ এবং ঝাড়গ্রাম পুলিশ । এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল । এবার কেন বাধা দেওয়া হয়েছিল তাকে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে ঝাড়গ্রাম পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী একজন ভারতবাসীর প্রত্যেক জায়গায় যাওয়ার অধিকার রয়েছে বিনা বাধায়। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা যার পদমর্যাদায় স্থান মুখ্যমন্ত্রীর পরে, তাকে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের আশেপাশে গেলেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই সর্বগ্রাসী, অসহিষ্ণু মনে ভাবের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের মতো করে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মহামান্য আদালতের রায়কে আমরা স্বাগত জানাই”।

সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন বর্তমানে দাবি করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সময় তাকে ম্যানুপুলেট করে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন । একইসঙ্গে তিনি নাম উল্লেখ করেছেন মুকুল রায় সহ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর । এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ” পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সুদীপ্ত বলতে পারছে আর কুণাল ঘোষকে বলতে দেওয়া হয়নি । পুরোটাই তৃণমূলের খেলা। বর্তমানে তৃণমূলই পুলিশ আর পুলিশই তৃণমূল। কেন কুণাল ঘোষকে বলতে দেওয়া হয় নি, তিনি কি বিজেপির কারণে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন নাকি ইডি বা সিবিআই এর কারণে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন? জিজ্ঞাসা করা হোক তৃণমূলকে”।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories