Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হামলার ভয়, ৩২ বছর বন্ধ ছিল পুরীর রথযাত্রা ! কী এমন ঘটেছিল ?

।। প্রথম কলকাতা ।।

পুরীর রথ যাত্রার সঙ্গে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত । প্রতিবছর রথযাত্রার সময় শুধু ভারত নয়, দেশের বাইরে থেকেও প্রচুর ভক্ত এখানে উপস্থিত হন । শুধুমাত্র রথে থাকা জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে দর্শন করার জন্য। গত দু’বছর করোনার প্রকোপ থাকায় সেভাবে রথ যাত্রার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়নি । করোনার প্রকোপ কমতেই বহু ভক্তগণ রীতিমত মুখিয়ে আছেন জগন্নাথ দেবকে দর্শন করবেন বলে।

জুলাই মাসের ১ তারিখে রথযাত্রা উৎসব। পুরীর এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা প্রায় ৩২ বছর বন্ধ ছিল। যদি তার কারণ খোঁজা হয় তাহলে ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে হবে। দেখা যাবে, এই মন্দিরে বারংবার হামলা হয়েছে। যার কারণে বন্ধ থেকেছে রথযাত্রা। ১৫৬৮ সাল থেকে ১৭৩৫ সালের মধ্যে পুরী রথযাত্রা বন্ধ ছিল প্রায় ৩২ বছর। শুধুমাত্র হামলার ভয়ের কারণ এই রথযাত্রা বন্ধ করা করে রাখা হয়েছিল।

•১৫৬৮ সাল থেকে ১৫৭৭ সাল পর্যন্ত রথযাত্রার বন্ধ ছিল। কারণ এই ৯ বছরে পুরীর জগন্নাথ মন্দির আক্রমণ করেন বাংলার রাজা সুলেইমান কিররানির জেনারেল কালাপাহাড়।

•১৬০১ সালে পুরীর মন্দির আক্রমণ করেন সেই সময়কার বাংলার নবাবের কমান্ডার মিরজা খুররাম। এই বছর রথযাত্রা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তি বাঁচাতে সেগুলিকে রেখে আসা হয়েছিল ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে পঞ্চমুখী গোসানি মন্দিরে।

•১৬০৭ সালেও একই ঘটনা ঘটে। তখন আক্রমণ থেকে বাঁচাতে মূর্তিগুলিকে রেখে দিয়ে আসা হয় খুড়গার গোপালা জিউ মন্দিরে। এই বছর জগন্নাথ মন্দির আক্রমণ করেন ওডিশার মুঘল সুবেদার কোয়াসিম খান।

•১৬১১ সালে হামলা থেকে বাঁচাতে মূর্তি সরিয়ে রাখা হয়েছিল মাহিসানসিতে। সেই সময় আক্রমণ চালিয়েছিল ওডিশার সুবেদার টোডর মলের ছেলে কল্যাণ মল। তিনি ১৬১৭ সালেও মন্দিরে হামলা চালান যার কারণে রথযাত্রা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

•১৬২১ এবং ১৬২২ সালে মন্দিরের আক্রমণ করেন সুবেদার আহমেদ বেগ। যার কারণে এই দুই বছর রথযাত্রা বন্ধ ছিল এবং তখন মূর্তি রাখা হয়েছিল বানাপুরের আন্ধারিয়াগড়ে।

•১৬৯২ সালে সালে মন্দির আক্রমণ করে ওডিশার মুঘল কম্যান্ডার একরাম খান। তখন মূর্তি বাঁচাতে পুরোহিতরা মূর্তিগুলি নিয়ে বেশ কয়েক জায়গায় স্থান পরিবর্তন করেছিলেন আর যার কারণে প্রায় ১৩ বছর রথযাত্রা হয়নি। একই ভাবে ১৭৩১ সালে মন্দিরে হামলা চালিয়েছিলেন ওই রাজ্যের ডেপুটি গভর্নর মহম্মদ তাকি। তিনি আবার ১৭৩৩ সালে হামলা চালান। তখন মূর্তিগুলি লুকিয়ে রাখতে পুরোহিতদের দুবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। যার কারণে ১৭৩৩ থেকে ১৭৩৫ সাল পর্যন্ত পুরীর রথযাত্রা বন্ধ ছিল।

এবার শুধু ১ জুলাইয়ের অপেক্ষা। তারপরেই রথের দড়িতে টান পড়বে. শুধুমাত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দির নয়, কলকাতার ইসকনেও বেশ রমরমিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। রাতদিন এক করে পরিশ্রম করে চলেছেন শিল্পীরা। ইসকনের সঙ্গেও এই রথযাত্রার প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories