Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Purulia: গৃহবন্দি দশার পর পুরুলিয়ার রাস্তায় এবার শতবর্ষ প্রাচীন রথ, উৎসবের আমেজে চলছে প্রস্তুতি

।। প্রথম কলকাতা।।

করোনা সংক্রমণ দেশবাসীর জীবন থেকে দুটি বছর কেড়ে নিয়েছে। এই দুটি বছরে সাধারণ জীবন যাপন প্রায় ভুলতে বসেছিল মানুষ । যেখানে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ সেখানে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের। এই পরিস্থিতি বর্তমানে পেরিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তাই চলতি বছরে ফের উৎসব গুলিকে নতুন ভাবে উপভোগ করছেন রাজ্যবাসী। তার মধ্যে অন্যতম একটি উৎসব হল রথযাত্রা । চলতি বছরে রাজ্যের বিভিন্ন বিখ্যাত রথ গুলি যা বন্ধ ছিল করোনার কারণে সেই গুলি বড়সড় করে পালন করা হচ্ছে। চলছে প্রস্তুতি আর এবার পুরুলিয়া জেলার শতবর্ষ প্রাচীন মুন্নি বাঈজির রথ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ উত্তেজনা চোখে পড়েছে।

জানা যায় এই রথটি সূচনা করেন পঞ্চকোট রাজাদের আমলের মুন্নি বাঈ । ১৯১২ সালে তিনি পুরুলিয়ায় আসেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে রথ উৎসব পালন শুরু করেন। তিনি বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। আর তারপর পরিচিত হন মনমোহিনী বৈষ্ণবী নামে। ১৮৯৮ সালে পুরুলিয়ার চকবাজারে তিনি একটি মন্দির নির্মাণ করেন। সেখানে স্থাপনা করেন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর বিগ্রহ। তারপর থেকে মহাসমারোহে রথ যাত্রার সূচনা হয় সেখানে। এই শতবর্ষ প্রাচীন রথটির শিল্পশৈলী একেবারেই চোখ ধাঁধানো , কারণ রথের গায়ে নানা দেবদেবীর মূর্তি সহ কারুকার্য চোখে পরে। পিতলের তৈরি এই রথটি প্রথম যখন নির্মাণ করা হয়েছিল তখন তার দৈর্ঘ্য ছিল ১২ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট।

তবে পরবর্তীতে সেই রথের সংস্কার করা হয় । কমিয়ে দেওয়া হয় দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা । কারণ রথ যাত্রার যে নির্দিষ্ট পথ ছিল সেই পথের দু’ধারে বহু দোকান এবং বাড়ি নির্মাণ শুরু হয় । যার কারণে চলাচলের সুবিধার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চারদিক থেকে কমিয়ে দেওয়া হয় দু ফুট করে । পরবর্তীতে দশ চাকার এই রথ কে ৮ চাকায় পরিণত করা হয়। এমনকি রথ টানার সময় নানান ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য রথটির নকশাই পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল ২০০০ সালে। বর্তমানে এই রথ পরিচালনা করার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে আর সেই বোর্ডের অন্যতম পরিচালক হলেন চকবাজারের বাসিন্দা নন্দলাল দত্ত কয়ালের পরিবার।

বংশানুক্রমে এই রথ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে চলেছেন তাঁরা । বর্তমানে এই দায়িত্বে রয়েছেন শচী দুলাল দত্ত । তিনি জানান, এই রথ যখন শুরু হয়েছিল তখন হরিনাম সংকীর্তন এবং বাদ্যযন্ত্র সহযোগে কুড়িজন কুলি দিয়ে টানা হতো । তবে তা সূর্যাস্তের আগেই শেষ করে দেওয়া হতো কারণ আলোর ব্যবস্থা ছিল না । পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে গ্যাস বাতির সাহায্যে সুন্দর সুসজ্জিত রথটিকে সন্ধ্যের পর বের করা হতো। আর তারপর ধীরে ধীরে যত সময় এগিয়েছে রথেও আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে । বর্তমানে আর গ্যাস বাতির প্রয়োজন হয় না এখন বৈদ্যুতিক আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় রথটিকে। চোখ ধাঁধানো সাজসজ্জার পর পথের নামে রথের চাকা। তবে এই রথের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল অন্যান্য রথের মত এখানে কৃষ্ণ বলরাম সুভদ্রা থাকেন না , থাকেন রাধা গোবিন্দ। পুরুলিয়ার মানুষের মধ্যে এই রথকে নিয়ে আলাদাই আবেগ কাজ করে, রথ উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories