Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পুরীর মতোই বাংলাদেশের এই স্থানে রথযাত্রার আয়োজন ! জড়িয়ে আছে বহুদিনের ইতিহাস

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রথ মানে বাঙালির এক অন্য আবেগ । রথযাত্রার বেশ কয়েকদিন আগেই রীতিমত সাজো সাজো রব থাকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পাশাপাশি ইসকনের মন্দিরে। এছাড়াও রথ নিয়ে বাচ্চাদের মনে উৎসাহ কম নেই। বাবা-মায়ের হাত ধরে রথ কিনতে যাওয়া কিংবা রথ সাজানোর জিনিস কেনার মজাটাই আলাদা। তবে এই রথযাত্রার আনন্দ সমান ভাবে দেখতে পাওয়া যায় বাংলাদেশের ধামরাইয়ে। এখানকার রথমেলা খুব জনপ্রিয়। যদিও করোনার কারণে গত দু’বছর রথযাত্রার আয়োজন করা যায়নি। তবে ২০২২ সালে করোনার প্রকোপ কমতেই ধামরাইয়ের প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসব উপলক্ষে প্রায় এক মাস মেলা বসবে। ধামরাইয়ের শ্রী শ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হবে জুলাইয়ের ১ তারিখে । তবে ৯ জুলাই উল্টোরথ হলেও এই উৎসব উপলক্ষে যে মেলা, সেটি চলবে প্রায় এক মাস ধরে।

বাংলাদেশে যে কয়টি ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসব রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল রথযাত্রা। ঐতিহ্যবাহী ধামরাইয়ের এই রথ এবং রথ মেলার সূচনা হয়েছিল বাংলায় ১০৭৯ সালে। সেই সময় এই রথমেলার আয়োজন করেন শ্রী যশোমাধব দেব বিগ্রহের সেবায়েত শ্রী রামজীবন রায়। তবে এই উৎসবেও মাঝে মাঝে ছেদ পড়েছিল। যখন বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য লড়াই চলছিল তখন সেই যুদ্ধের কারণে রথটানা বন্ধ ছিল বাংলা ১৩৭৮ সালে। ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ১৩৭৯ সালে ছোট করে বাঁশের একটি রথ বানিয়ে এই উৎসব পালন করা হয়। কিন্তু ১২০৪ থেকে ১৩৪৪ সাল অর্থাৎ প্রায় ১৪০ বছর ধরে সুউচ্চ কাঠের রথ বানানো হয়েছে। বানানো হত প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু কাঠের রথ আর সেই রথে থাকতেন শ্রী শ্রী যশো মাধবের বিগ্রহ সহ অন্যান্য বিগ্রহ।

ধামরাইয়ের এই রথ মেলা নিয়ে প্রচুর ইতিহাস রয়েছে। ঠিক কবে কিংবা কখন থেকে বাঁশের রথ কাঠের রথে রূপান্তরিত হয়েছে তার ইতিহাস এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে প্রায় ১৪০ বছর ধরে মানিকগঞ্জ জেলার বালিয়াটি জমিদার গণ পুরুষানুক্রমে কাঠের রথ তৈরি করছেন। বাংলা ১৩৪৪ সালে এই ধামরাইয়ে যে রথ তৈরি করা ছিল হয়েছিল তা এখন পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় থাকবে। এই রথের চূড়া এবং পতাকা সমেত উচ্চতা ছিল প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ ফুট। রথে ছিল প্রায় ৩২ টি চাকা। এছাড়াও ছিল মোট ৯টি প্রকোষ্ঠ।

যেহেতু করোনাকালে রথ পড়েছিল , তাই রথের যাবতীয় সংস্কার এবং রং তুলির কাজ শেষ হয়েছে। এবার শুধু জুলাইয়ের ১ তারিখের অপেক্ষা। পাশাপাশি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পুলিশের। এই রথের মেলা উপলক্ষে যে ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে সেখানে সার্কাস, নাগরদোলা, যাত্রা পালা, পুতুল নাচ ,নানান ধরনের জিনিসপত্রের দোকান প্রভৃতি দেখতে পাওয়া যায়। এশিয়ার উপমহাদেশে ধামরাইয়ের রথযাত্রা বেশ বিখ্যাত। এই ধামরাইয়ের অত্যন্ত প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক কেন্দ্র হল মাধব মন্দির। এখানেই শ্রী শ্রী যশোমাধম নামক রয়েছে বিষ্ণু মূর্তি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories