Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

এখানে মৃত শিশুরা গাছে পরিণত হয়, দেহ রাখা হয় গাছের কোটরে ! কেন জানেন ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সারা পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন রীতিতে বিশ্বাসী মানুষ রয়েছেন। তার মধ্যে এমন কিছু ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস রয়েছে যা সারা বিশ্ববাসীকে অবাক করে। আজকের এই প্রতিবেদনে ইন্দোনেশিয়ার এমন একটি রীতির কথা জানবেন যা শুনে হতবাক হয়ে যাবেন। যেখানে মানুষ তাদের সন্তানদের মৃতদেহ গাছের কাণ্ডে কোটরে রাখেন এবং পরবর্তীকালে প্রাকৃতিকভাবেই মৃতদেহ গাছের সঙ্গে মিশে যায়। ইন্দোনেশিয়ার তানা তরোজায় অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্করা মারা গেলে তাদের শেষকৃত্য স্বাভাবিকভাবে করা হয়। কিন্তু শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ঐতিহ্য প্রচলিত রয়েছে । সেখানে শিশুদের বাবা-মা তাদের সন্তানের দেহকে প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করতে চান।

গাছে পরিণত হয় মৃতদেহ

আগে থেকে কিছু গাছের কাণ্ড ভেতর থেকে ফাঁপা করে রাখা হয়। তারপর কোন শিশু মারা গেলে তার শরীর গরম কাপড়ে মুড়ে সেই গাছের কাণ্ডের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়। মৃতদেহ ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক ভাবে গাছের অংশ হয়ে ওঠে । প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী , পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও শিশু গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে অর্থাৎ শিশুদেহ সবুজ গাছে পরিণত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার মাকাসার থেকে প্রায় ১৮৬ মাইল দূরে অবস্থিত তানা তরোজার ঐতিহ্য বহুদিন ধরেই প্রচলিত। এই অঞ্চলের ব্যক্তিরা নিজেদের মৃত সন্তানদের গাছের কাণ্ডের মধ্যে রেখে দিয়ে ওই গাছটি নিজেদের সন্তান হিসেবে ভাবতে শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ঈশ্বর তাদের কাছ থেকে সন্তানকে নিতে পারেন কিন্তু ঐতিহ্য অনুযায়ী তাদের সন্তান তাদের থেকে দূরে থাকে না । সব সময় বাবা-মায়ের কাছে সবুজ গাছ হিসেবে থেকে যায়।

জীবিতদের সঙ্গেই মৃতের বাস !

মৃতদেহের শেষকৃত্য নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আরেকটি রীতি প্রচলিত রয়েছে । যেখানে মৃতরা জীবিতদের সঙ্গেই বাস করে। এখানে একজনের মৃত্যু হলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বেশ অনেকটা সময় লাগে। আসলে মৃতদেহ নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকটা আলাদা। ইন্দোনেশিয়ার তোরাজন এলাকায় মৃত ব্যক্তিকেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতোই বিবেচনা করা হয় অর্থাৎ এখানে মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে বসবাস করা হয়। কখনো কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার শেষকৃত্য হয় অনেক মাস পরে আবার কখনো বা অনেক বছর পর। নানান ধরনের ভেষজ উপাদান এবং রাসায়নিক দিয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ করে পরিবারের সঙ্গেই রেখে দেওয়া হয়। এমনকি মৃত দেহকে নিয়ম করে দিনে দুইবার খাবার দেওয়া হয়, টয়লেটের পাত্র রাখা হয়। নিজেদের ঘরের একপাশের বিছানায় মৃতদেহকে শুইয়ে রাখা হয়।

কখনো বা দেখা যায় ওই মৃতদেহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বসে কফি খাচ্ছেন। আসলে পরিবারের সদস্যরা কখনোই কেউ মারা গেলে তার অস্তিত্ব ভুলে যান না। সর্বদা তাকে মনে রাখার জন্য এই রীতি মেনে চলেন। কোন উৎসব অনুষ্ঠান হলে সেই মৃতদেহকে তুলে সাজানো হয়। সেই সময় বন্ধু এবং আত্মীয়রা এসে নানান ধরনের খাবার দেন, তারপরে একসঙ্গে ছবি তোলেন। তবে সম্প্রতি এই প্রথাটা দিনের পর দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories