Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Malda: কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা লুট! কাঠগড়ায় ডেটা এন্ট্রি অপারেটর

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি স্কুল এবং মাদ্রাসায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা মেয়েদের পাইয়ে দেবার নাম করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। কখনো ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রকল্পের টাকার বিনিময় কিছু টাকা আদায় করে নেওয়া হচ্ছে। এরকমই অভিযোগ উঠেছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের কন্যাশ্রী প্রকল্পে কর্মরত আবদুল মোবিন নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে খবর । কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি । বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার চাঞ্চল্য হরিশ্চন্দ্রপুরে।

সূত্রের খবর, আবদুল মোবিন ২ নম্বর ব্লকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করে থাকেন । কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্লকের বেশকিছু স্কুল এবং মাদ্রাসার ছাত্রীদের কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়া হচ্ছে। ব্লকের একজন সাধারন চুক্তিভিত্তিক কর্মী হয়েও তিনি কী ভাবে এত তাড়াতাড়ি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠলেন এবং বহুতল বাড়ি সহ অন্যান্য সম্পত্তি তৈরি করলেন তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবশেষে অভিভাবকদের তরফ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে বেশ কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসার কর্মীরা তাঁর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

সরকারের তরফ থেকে যে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে ছাত্রীদের তার মধ্যে থেকে কখনও ৫ হাজার কিংবা কখনো ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে সেই টাকা ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে সমস্ত সদস্যদের মধ্যে। এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁরা ওই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের দিকেই। জানা যায়, সম্প্রতি হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার তালবাংরুয়া হাই মাদ্রাসায় কন্যাশ্রী প্রকল্প সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে । এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। অভিভাবকদের তরফ থেকে অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার প্রধান এবং ওই ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এক সঙ্গে মিলিত হয়ে ব্যাপক দুর্নীতি চালাচ্ছে। ওই মাদ্রাসার বহু ছাত্রীর নাম কন্যাশ্রী প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে কিন্তু তারপরেও তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বিষয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলে অভিযোগ জানানো হয়েছে কিন্তু তারপরও কোনো রকম লাভ হয়নি এমনটাই দাবি অভিভাবকদের।

প্রকল্পে দুর্নীতি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই সরব হয়েছে জেলা বিজেপি । তাদের দাবি, একজন সাধারন চুক্তিভিত্তিক ডেটা অপারেটর রাতারাতি কীভাবে এত সম্পত্তির মালিক হয়ে গেলেন তা নিয়ে অবশ্যই তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও এই কন্যাশ্রী প্রকল্পে দুর্নীতিতে শুধুমাত্র ওই কর্মী নয় পাশাপাশি এলাকার শাসকদলের বড়সড় ব্যক্তিত্বরাও জড়িত রয়েছেন। বিজেপির এই অভিযোগ প্রসঙ্গে পাল্টা জবাব তৃণমূলের। হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক সভাপতি মনোতোষ ঘোষ বলেন, বিরোধীদল ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। যদি এই ব্লকে কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে কোনরকম দুর্নীতি হয়ে থাকে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে । প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories