Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Bankura: মেলেনি বকেয়া বেতন, বাঁকুড়ায় মিড-ডে-মিল কর্মীদের হাতে বন্দি শিক্ষকরা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে মেলেনি বেতন। এমনকি স্কুলের মিড ডে মিলের জন্য যে ডিম, মশলা , জ্বালানি কেনা হয়েছিল তার টাকাও বাকি পড়ে রয়েছে স্থানীয় দোকানে । বারবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারি শিক্ষকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা । কিন্তু তার পরেও কোনো লাভ হয়নি । যার কারণে আজ রীতিমত ক্ষোভ উগরে দেয় মিড-ডে-মিল কর্মীরা। তাঁরা শিক্ষকদেরকে স্কুলের মধ্যেই তালা বন্দি করে পালিয়ে যান সেখান থেকে। যদিও পরবর্তীতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক কর্মী এসে তালা খুলে দেন স্কুলের।

এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার ছাতনা চন্ডীদাস বিদ্যাপীঠে। বাঁকুড়ার অন্যতম নামী স্কুল গুলির মধ্যে একটি হল ছাতনা চন্ডীদাস বিদ্যাপীঠ । সেখানে মিড-ডে-মিল রান্নার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে। একটি শিবশক্তি পুরুষ গোষ্ঠী এবং অন্যটি লোকনাথ মহিলা গোষ্ঠী। তাঁরাই নিজেদের মধ্যে পালাবদল করে স্কুলের মিড ডে মিল রান্নার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এমনকি রান্নার জন্য যেসকল শাকসবজি ও জ্বালানি কেনা প্রয়োজন সেইগুলি সবই তাঁরা করে থাকেন। কিন্তু এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীরা বিগত তিন মাস ধরে তাদের পারিশ্রমিক পাননি।

স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে প্রত্যেক মাসে স্কুলের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয় । আর সেই টাকা স্কুল কর্তৃপক্ষ তুলে এনে দেন তাদের । কিন্তু বিগত তিনমাস ধরে সেই টাকা তাঁরা পাননি। এমনকি রান্নার জন্য যে সমস্ত উপকরণ কেনা হয়েছিল সেই দোকানেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা মত বকেয়া পড়ে রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় বারবার জানানো হয়েছে কিন্তু তাতেও কোনো রকম সুরাহা হয়নি । অবশেষে আজ ক্ষুব্ধ হয়ে মিড ডে মিল কর্মীরা স্কুল তালা বন্ধ করে চলে যান।

প্রায় আড়াই ঘন্টা স্কুলে এইরকম বন্দি অবস্থায় থাকার পর এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এসে তালা খুলে দেন। অন্যদিকে স্নেহাশিস মন্ডল নামে এক শিক্ষক জানান, যেভাবে মিড ডে মিল কর্মীরা আজ তাদের সাথে আচরণ করেছে তাতে স্বাভাবিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা । তাদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ, এই বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট । কিন্তু সম্প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বদলি হওয়ার কারণে এই ধরনের গন্ডগোল সৃষ্টি হয়েছে বলেই জানালেন ওই শিক্ষক।

জানা যায় , গত ৩১শে মে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যাসদেব চক্রবর্তী । তিনি জানান , প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি দেখেন যে স্কুলের বেশ কিছু কাগজপত্র এবং হিসাবে গরমিল রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধান করতে বেশ কিছুটা সময় লাগছে। সেই কারণেই পারিশ্রমিক দেওয়া সম্ভব হয়নি তাদের। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে মিড ডে মিল কর্মীদের বকেয়া বেতন দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories