Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘আজ সাধু সাজে, তাদের নৈতিক অধিকার কতটা’? ফের তৃণমূলকে নিশানা সব্যসাচীর

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকটে শিবসেনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা করতে দেখা গেছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গতকাল তাঁকে বলতে শোনা যায়, “টাকা আর ক্ষমতার খেলা চলছে। সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে মহারাষ্ট্র সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা হচ্ছে। বুলডোজিং চলছে। মনে রাখবেন, আপনাদের সঙ্গেও এরকম হতে পারে।” আবার, গুয়াহাটিতে যে হোটেলে ছিলেন একনাথ শিন্ডে। সেখানে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। মহারাষ্ট্রের সংকটে শিবসেনার পাশে তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে এই রাজ্যের বিশিষ্ট আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি মৃত্যুঞ্জয় দাস

গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে বিজেপি। তাদের কাছে নাম্বার নেই, তাই টাকা ছড়িয়ে ভয় দেখিয়ে বিধায়ক কেনাবেচা চলছে।” এর পরিপ্রেক্ষিতে সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমাদের দেশে দলের সাংসদ, বিধায়ক কেনাবেচা একটা সময় ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরে আমরা দেখতে পাচ্ছি যেটা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যারা আজকের বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে প্রথম এই খেলা শুরু করেছিলেন। ২০১১ তে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। ২০১৩ সালের পর থেকেই দেখা গেছে তৃণমূলকে পঞ্চায়েত দখল করতে, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ দখল করতে। মিথ্যা মামলা দিয়ে, টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার লোভ দেখিয়ে এই সমস্ত কেনাবেচা চলে।

তাঁর কটাক্ষ, “আজ তৃণমূল যদি সাধু সাজে, নেতারা বলেন, তাঁরা দলত্যাগ চাইছেন না, ঘোড়া কেনা-বেচাকে সমর্থন করেন না। তাহলে তৃণমূলের অতীতের দিকে কিন্তু সবার চোখ পড়বে। বর্তমানে বাবুল সুপ্রিয়, যারা গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তারা এখন কোথাও কোথাও যেমন ত্রিপুরার অবজারভার হয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল গেছেন সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং গেছেন এটা কি নৈতিকতার রাজনীতি?

তিনি জানান, “বিপদ হচ্ছে টাকা পয়সা দিয়ে জনপ্রতিনিধি কেনাবেচার জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র বদলে যাচ্ছে। মানুষের চিন্তা-ভাবনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিফলিত হয়। তাই দেশের শাসনের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের ওপর দেওয়া আছে। রাজনৈতিক শক্তি যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, তারা গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সেই জায়গা পরিবর্তিত হয়ে গিয়ে রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে যারা টাকা-পয়সার কারবারি বা কর্পোরেটের হাতে চলে যায়, তবে আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়বে।”

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের বিষয়টি এনসিপি, কংগ্রেস, বিজেপি, শিবসেনার বিষয়, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা কি? এর উত্তর সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব খোঁজার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করেছেন। ছলে, বলে, কৌশলে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছানো, সর্ব ভারতীয় রাজনীতিতে উঠে আসা। কিন্তু, তাঁর নৈতিক অধিকার কতটা আছে?”

“দলত্যাগ করাতে করাতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাকে দখলে রাখলেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের একটার পর একটা জায়গাতে বিরোধীশূন্য করার চেষ্টা করলেন। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে তোলার দিন পর্যন্ত বিরোধীদের উপর আক্রমণ করা হলো। বিরোধীদের খুন করা হল। পশ্চিমবঙ্গে কতটা ভয়াবহ অবস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। এটা সম্পূর্ণভাবে আবার একটা বাইনারি পলিটিক্স করার চেষ্টা। যে জায়গা থেকে মুক্তি চাইছেন রাজ্যের মানুষ।”

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories