Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিশ্বকে চমকে দিয়েছে পদ্মা সেতু , এর পিছনে কোন বিশেষ কারণ রয়েছে ? জানুন খুঁটিনাটি

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

২৫শে জুন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ এই দিনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উদ্বোধন হবে পদ্মা সেতুর। এই সেতুকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় ২১টি জেলার মানুষের স্বপ্ন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই ২১টি জেলার সাধারণ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াবে , পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে বাংলাদেশের জিডিপি।

২০০১ সালের জুলাই মাসে পদ্মা সেতুর জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মাঝে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটেছে । বহুবার পরিকল্পনা হলেও সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হলেও পরে বিশ্বব্যাংক পিছিয়ে যায়। অবশেষে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ।

সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশে এখন চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে এই পদ্মা সেতু। এছাড়াও দ্বিতল এই সেতুর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা পৃথিবীর অন্য কোন সেতুতে দেখা যায় না। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় , আর সেই সেতুর উদ্বোধন হবে ২০২২ সালের ২৫শে জুন। আজকের এই প্রতিবেদনে জেনে নিন পদ্মা সেতু সম্পর্কে প্রচুর অজানা তথ্য।

•নির্মাণ কাজ শুরু : ২০১৪ সালের ৭ই ডিসেম্বর ।
•মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু : মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলারের কাজ দিয়ে ।
•দৈনিক ৭৫ হাজার যানবাহন চলাচল করার ক্ষমতা ।
•জলের স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা: ১৮ মিটার ।
•পদ্মা সেতুর আকৃতি: ইংরেজি এস (S) অক্ষরের মত ।
•ভূমিকম্প সহনশীলতা : রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার কম্পন ।
•এপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য: ১২ কিলোমিটার ।
•নদীশাসন: ১৬.২১ কিলোমিটার ।
•সেতুর আয়ুষ্কাল: ১০০ বছর ।
•ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে এমন জেলার সংখ্যা: ২১টি ।
•সরাসরি উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩ কোটি মানুষ ।

সেতু তৈরিতে ২০টি দেশের মেধা

পদ্মা সেতু তৈরিতে যুক্ত রয়েছেন বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশের প্রকৌশলী তথা তাদের মেধা । সেই তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, জাপান, ডেনমার্ক, ইতালি, মালয়েশিয়া, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, নেপাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

পদ্মা সেতু তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়

•মূল সেতুর ব্যয় :৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন টাওয়ার ও গ্যাস লাইনের ব্যয়সহ ১১,৯৩৮.৬৩ কোটি টাকা (বরাদ্দ ১২,১৩৩.৩৯ কোটি টাকার বিপরীতে)
•নদীশাসন কাজ:৮,৭০৬.৯১ কোটি টাকা (৯,৪০০ কোটি টাকার বিপরীতে)
•২টি টোল প্লাজা, ২টি থানা বিল্ডিং ও ৩টি সার্ভিস এরিয়াসহ ১৮৯৫.৫৫ কোটি টাকা (১৯০৭.৬৮ কোটি টাকার বিপরীতে )
•পুনর্বাসন ব্যয়:১,১১৬.৭৬ কোটি টাকা (১,৫১৫ কোটি টাকার বিপরীতে)
•ভূমি অধিগ্রহণ:২৬৯৮.৭৩ কোটি টাকা
•পরিবেশ :২৬.৭২ কোটি (১২৯.০৩ কোটি টাকা)
•অন্যান্য বেতন ভাতা, পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা ইত্যাদি: ১৩৪৮.৭৮ কোটি (২৪০৯.৫৬ কোটি টাকার বিপরীতে)
•প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয়:২৭,৭৩২.০৮ কোটি টাকা (৩০১৯৩.৩৯ কোটি টাকার বিপরীতে)

পদ্মা সেতু সম্পর্কে প্রচুর অজানা খুঁটিনাটি তথ্য

•দৈর্ঘ্য : ৬.১৫ কিলোমিটার,
ভায়াডাক্ট (স্থলভাগে সেতুর অংশ) সহ দৈর্ঘ্য ৯.৮৩ কিলোমিটার ।
•প্রস্ত : ২১.৬৫ মিটার
•মোট পিলারের সংখ্যা : ৪২টি
•স্প্যানের সংখ্যা : ৪১টি
•প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য: ১৫০ মিটার
•স্প্যানগুলির মোট ওজন: ১,১৬,৩৮৮টন
•প্রতিটি পিলারে নিচে পাইলের সংখ্যা: ৬টি (কিছু কিছু পিলারে ৭টি পাইলও দেওয়া হয়েছে)
•পাইলের ব্যাস: ৩ মিটার
•পাইলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য: ১২৮ মিটার
•মোট পাইলের সংখ্যা: ২৬৪টি ( ভায়াডাক্টের পিলারের পাইলসহ ২৯৪টি)
•জমি অধিগ্রহণ: ৯১৮ হেক্টর
•ব্যবহৃত স্টিলের পরিমাণ : ১,৪৬,০০০ মেট্রিক টন

অন্যতম আকর্ষণীয় জাদুঘর

পদ্মা সেতুর সাথে অন্যতম আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু হল পদ্মা সেতুর জাদুঘর। এই জাদুঘর থাকবে পদ্মা সেতু নির্মাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন যে শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা, তাদের ছবি। পাশাপাশি এই জাদুঘরে থাকবে প্রায় ১৪০০টি প্রজাতির প্রাণী। জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রায় ২৩৬৫টি প্রজাতির প্রাণীর। এই জাদুঘরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি রয়েছে পদ্মা নদী অববাহিকার প্রাণী। বাদবাকি গুলি রয়েছে দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে সংগৃহীত। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে মাছের প্রজাতি । এই জাদুঘরে আপনি দেখতে পাবেন প্রায় ৩২৮টি রকমের মাছ। পাখির সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৭৭টি । এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন লুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণী খুঁজে পাবেন যেমন ঘড়িয়াল, মিষ্টি জলের ডলফিন , গন্ধগোকুল প্রভৃতি।

পদ্মা সেতু কেন এত বিশেষ ?

৯.৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিশ্বের অন্য কোন সেতুতে নেই। ব্যবহার করা হয়েছে ৩ ডায়ামিটারের ১২২ মিটার লম্বা পাইপ। এমন ডায়ামিটারের লম্বা পাইপ বিশ্বের আর কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। শুধু তাই নয় , পদ্মা সেতুতে যে হ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে ওই আকৃতির হ্যামার পৃথিবীর আর কোনো সেতুতে ব্যবহার করা হয়নি। এর ওজন প্রায় ৩৫০০ টন। ভূমিকম্প পিয়ার রয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কিলো নিউটনের।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories