Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাজ্য পুলিশের বিজ্ঞাপনে রুদ্রনীল! ফের দল বদলের কর্মসূচি? ‘ধরতে পারবেন না’

।।  প্রথম কলকাতা ।।

বর্তমানে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে বিরোধী দলের নেতা! ঘটনা দেখে যেমন বিস্মিত, তেমনই মজা পেয়েছেন অভিনেতা। আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই ড্রাগস এবং মাদকচক্র নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ফেসবুক সাইটে চলছে প্রচার কর্মসূচী। আর সেই কর্মসূচিতে মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই বেছে নেওয়া হয়েছে রুদ্রনীল ঘোষের ছবি ‘ভিঞ্চিদা’র বিশেষ ডায়লগ ‘ধরতে পারবেন না’। ব্যাস তাতেই জল্পনা শুরু।এদিন রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে বিরোধীদল নেতার ছবি ব্যবহারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শোরগল। এদিন সেই বিষয়কে নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত তুলে ধরেছেন অভিনেতা।

রুদ্রনীল এ বিষয়ে বলেন, “প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছি, আবার মজাও পেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের মাদক বিরোধী সচেতনামূলক বিজ্ঞাপনে আমার ছবি ব্যাবহার করেছেন দেখে। যদিও বিজ্ঞাপনে এই সংলাপ ব্যবহার করার জন্য আমার থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি। কিন্তু, এটা তো হবার কথা না। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে, পুরষ্কার বা সম্মান পাওয়ার লিস্টে ফিলিম ফেস্টিভ্যালের আমন্ত্রণ লিস্টের মঞ্চে তো সাধারণত শাসকদলের হয়ে প্রচার করা শিল্পী বুদ্ধিজীবীরাই স্থান পান! তাহলে আমি কেন? রোজই তো এ রাজ্যে যা যা অন্যায় চুরি জোচ্চুরি ঘটছে তা নিয়ে কোন না মিডিয়ায় কথা বলি! তাহলে এটা কেন ঘটলো??

একই সাথে রুদ্রনীলের কথায়, “মনে হয় ভুল করে রাজ্য পুলিশের কোন ব্যাক অফিস কর্মী (যিনি গুলি বন্ধুকের বদলে কম্পিউটার গ্রাফিক্স সামলাবার দায়িত্বে আছেন) বা কোন মিডিয়া এজেন্সি জনপ্রিয় ডায়লগকে ব্যাবহার করতে গিয়ে এই অঘটনটি ঘটয়েছেন। চাকরি নিয়ে না টানাটানি হয় বেচারার! কারণ, রাজ্যের বিরোধী দলের মানুষজনকে পুলিশ দিয়ে হেনস্থা বা বিরক্ত করার নিদানই তো দেওয়া আছে তা সবাই জানে। কিম্বা বাধ্য হয়ে বিরোধী পেটানো পুলিশ রিভোল্ট করছে না তো আস্তে আস্তে?””আর যদি কেউ ভাবেন আমায় এসব করে শাসক দলে টানার রাস্তা তৈরী করব। তাঁদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই সংলাপ, ” পেসেন্ট আইসিসিইউতে চলে গেলে আর কমলালেবু কিনে দিয়ে লাভ নেই।”

রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে রুদ্রনীলের এমন মন্তব্যে কার্যত হাসির রোল পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই মজা করে লিখেছেন, ‘পুলিশও আসলে ধরতে পারেনি’, আবার কেউ রুদ্রনীলকেই কটাক্ষ করে লিখেছেন, “আসলে আপনারা তো ইচ্ছাধারী নাগিনের মতো রূপ বদলান। তাই বেচারা পুলিশ কাকুরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। গুলিয়ে ফেলেছে। ওদের ক্ষমা করে দিন স্যার।”প্রসঙ্গত, একসময় তৃণমূলে থাকলেও বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। ভবানীপুর থেকে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু হেরে যান।

আর তারপর থেকে একাধিক নেতা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চলে এলেও রুদ্রনীল ঘোষ এখনও বিজেপিতেই থেকে গিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপির সংস্কৃতি সেলের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, রুদ্রনীলের আহ্বায়ক হিসেবে অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কার্যত বিজেপির এই বদল নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তারমধ্যে রাজ্য সরকারের এমন বিজ্ঞাপন কী রুদ্রনীলের ফের দলবদলের জল্পনাকে উস্কে দিচ্ছে? থাকছে প্রশ্ন। যদিও রুদ্রনীলের সাফ মন্তব্য তিনি বিজেপিতেই থাকছেন।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories