Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Kolkata: থানায় ই-মেইল করে আত্মহত্যা! আত্মঘাতী যুগলের এই কাণ্ডে চাঞ্চল্য বাঁশদ্রোণীতে

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

দীর্ঘদিন ধরে লিভ-ইনে ছিলেন এই যুগল। তবে সম্প্রতি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন তাঁরা । যার কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেন ওই তরুণ-তরুণী। শুধু আত্মহত্যা নয় , আত্মঘাতী হবার আগে থানায় ই-মেইল করে এই ঘটনা সম্পর্কে জানান তাঁরা । ঘটনাটি ঘটে কলকাতার বাঁশদ্রোণীতে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং তল্লাশি চালাতেই ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেন তাঁরা । আপাতত এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এই যুগল। জানা যায় ,মৃত ওই তরুন তরুনীর নাম ঋষিকেশ পাল এবং রিয়া সরকার।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার তাঁরা বাঁশদ্রোণী থানায় একটি ই-মেইল করেছিলেন। আর সেই ই-মেইলে আত্মহত্যার কথা তাঁরা জানান। ই-মেইল পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি সেই ঠিকানায় এসে পৌঁছায় পুলিশ। কিন্তু তার আগেই কাজ শেষ! ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন তাঁরা । শুধু পুলিশকে নয় এমনকি নিজেদের পরিচিত কিছু মানুষকেও তাঁরা আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ছিলেন। তাদের ঘর থেকে যে সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করা হয় সেখানে তাঁরা জানান যে বর্তমানে আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে ছিলেন ওই যুগল। এছাড়াও ঋষিকেশ ব্ল্যাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

যার ফলে তিনি রিয়াকে বিয়ে করতে চাননি। এরকম বেশ কয়েকটি কারণে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন দুজনেই। আর অবশেষে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। রিয়ার পরিচিতদের কাছ থেকে জানা যায়, ঋষিকেশ আগে লালবাজারের সিআইডি দফতরে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনার পর তাঁর চাকরি চলে যায় । এরপর তিনি মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। আর সেই সময়ে ঋষিকেশ ব্ল্যাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রচুর টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল তাদের । দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা লিভ- ইন সম্পর্কে ছিলেন । কিন্তু এই ব্ল্যাড ক্যান্সারের কারণে তাঁরা বিয়ে করেননি।

পুলিশ যখন তাদের ই-মেইল পাওয়ার পর সেখানে এসে পৌঁছায় তখন দেখেন খাটের উপরে দুজনেই চাদর ঢাকা দিয়ে শুয়ে ছিলেন। দেখে যেন মনে হবে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন তাঁরা কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাদের । ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ওষুধের বোতল। এছাড়াও যে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে সেখানে তাঁরা আরও একটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন , তাদের মৃতদেহ যেন তাদের বন্ধুদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য এই বিষয়ে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি তাঁরা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories