Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অম্বুবাচীতে সুফল পেতে কোন নিয়ম মানবেন? রইল কামাখ্যা সম্পর্কে অজানা কথা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

জুন মাসের ২২ তারিখ থেকে শুরু হল অম্বুবাচী। এই সময় লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে কামাখ্যা মন্দিরে। প্রায় দু-বছর করোনাকালে মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য বন্ধ ছিল। ভিড় সামলাতে মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রসাদের জন্য কুরিয়ারের ব্যবস্থা করেছে। এই মন্দির নিয়ে রয়েছে নানান রহস্য গল্প কথা, পাশাপাশি প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের বিশ্বাস। মনে করা হয়, এই মন্দিরে গিয়ে কিছু ইচ্ছা প্রকাশ করলে ভক্তগণের সেই ইচ্ছা পূরণ হয়।

অম্বুবাচীর তিন দিন মায়ের গর্ভগৃহ বন্ধ থাকে । তারপর পান্ডারা রক্ত ভেজা কাপড় ভক্তদের মধ্যে দান করেন। ওই রক্ত বস্ত্র মহিলারা বাম হাত এবং গলায় পরিধান করেন। অপরদিকে পুরুষরা ডান হাত কিংবা গলায় পরিধান করে। এই রক্ত বস্ত্র পরিধান করে কোন মৃতের ঘরে কিংবা শ্মশানে যাওয়ার নিষিদ্ধ। হিন্দু শাস্ত্রে পৃথিবীকে মা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পৌরাণিক যুগে পৃথিবীকে ধরিত্রী মা বলা হত। বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই ধরিত্রী মা আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন। তাই অম্বুবাচীর পরেই শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী।

এই তিন দিন বিধবা মহিলারা, সাধুরা, যোগীরা পৃথিবীর উপর রান্না করা কোন খাবার খান না। মূলত এই তিন দিন তারা ফলমূল খেয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, বহু পরিবারের বয়স্ক বিধবা মহিলারা ব্রত পালন করেন । এই তিন দিন তারা সাবান কিংবা শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না। তিনদিন পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে জামাকাপড় এবং বিছানা ধুয়ে ফেলা হয় । এছাড়াও এই তিনদিন গৃহস্থ বাড়ির ঠাকুর বা মন্দিরের দেবী প্রতিমা ও ছবি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

কামাখ্যা মন্দিরের গর্ভগৃহ অন্ধকারে ঢাকা এবং ছোট, এখানে পৌঁছাতে গেলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। এর মধ্যেই রয়েছে ঢালু পাথরের একটি খণ্ড, যার আকৃতি অনেকটা যোনির মত। এখানে প্রায় ১০ ইঞ্চি গভীর একটি গর্ত রয়েছে। যেখান থেকে সারা বছর প্রাকৃতিক ভাবে বেরিয়ে আসছে ভূগর্ভস্থ জল। এই গর্তটাকেই দেবী কামাখ্যা রূপে পুজো করা হয়। মূলত মনে করা হয় গর্ভগৃহের প্রস্রবনের জল আয়রন অক্সাইডের প্রভাবে লাল হয়ে যায়। যার কারণে ওই জল ঋতুস্রাবের মত লাগে।

তবে এখানে থেকে গিয়েছে অনেক রহস্য, কারণ শুধুমাত্র বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে কেন এই রঙের পরিবর্তন হয় তার উত্তর এখনো পর্যন্ত পাকাপোক্তভাবে পাওয়া যায়নি। এমনকি এই মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীর জলও লাল হয়ে যায়। গর্ভগৃহটি আসলে একটি ভূগর্ভস্থ গুহা , এখানে কোনও মূর্তি নেই । শুধুমাত্র যোনি আকৃতির পাথরের গর্ত রয়েছে।জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী সূর্য যে বারে মিথুন রাশিতে গমন করে তার পরবর্তী সেই বারের সেই কালেই হয় অম্বুবাচী। এই অম্বুবাচী উৎসব প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালের জুন মাসের। এই উৎসব চলাকালীন প্রথম ৩ দিন মায়ের গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories