Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

প্রসাদে রক্ত ভেজা কাপড় , মুক্তি পাবেন হাজারো রোগ থেকে ! কামাখ্যা মন্দিরে লুকিয়ে কোন রহস্য ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

গা-ছমছমে জঙ্গল, রাতের অন্ধকারে চলছে তান্ত্রিক অঘোরীদের যজ্ঞ। তারা সবসময় তন্ত্র সাধনা করে চলেছেন। তারা কামাখ্যা মায়ের ধ্যানে মগ্ন। আর এই জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভালো-মন্দ আত্মারা। কেন তন্ত্রসাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় এই মন্দিরকে ? কথিত আছে এই মন্দিরে যেসব ডাকিনী যোগিনীরা থাকে তারা নাকি যাদুবিদ্যায় তুখোড় । দেবীর কৃপায় তান্ত্রিকদের কাছে অসাধ্য কাজ কোন ব্যাপারই না। নিমেষে বশীকরণ করে ফেলতে পারেন মানুষকে। যদিও এই কাজ সবার জন্য নয়। শোনা যায়, বহু পুরুষ তন্ত্র মন্ত্র শেখার জন্য জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন।

কিন্তু শেখার পর জঙ্গল থেকে বেরোনোর রাস্তা খুঁজে পাননি। আর যারা বের হয়ে আসেন তারা ভবিষ্যতে হন বড় বড় তান্ত্রিক । শোনা যায়, কামরূপ কামাখ্যা এমন একটি পাহাড়ি জায়গা যেখানে যৌবনবতী নারীদের রাজত্ব চলে আর। সেই নারীরা পুরুষদের জাদুর মাধ্যমে নিজেদের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে। আজও এই মন্দিরের চারিপাশের জঙ্গলের মানুষ একা যেতে ভয় পান, অনেকেরই মন্দিরের পাশ দিয়ে যেতে গেলে গা ছমছম করে।

এই ধরনের নানান কথা প্রচলিত রয়েছে কামাখ্যা মন্দিরকে ঘিরে। অসমের ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারে গুয়াহাটি শহর , আর এই শহরের পশ্চিম দিকে নীলাচল পর্বতে রয়েছে কামরূপ কামাখ্যা। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে অজানা গা ছমছমে সব রহস্য। এই মন্দিরের বহু রহস্যের কিনারা এখনো পর্যন্ত করা যায়নি । আবার যারা রহস্য জানতে এই জঙ্গলে প্রবেশ করেছে তারা আর ফিরে আসেননি। বহু বছরের রহস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই মন্দির।

২২ থেকে ২৬ শে জুন এই মন্দিরে বসে অম্বুবাচী মেলা। আষাঢ় মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ, এই তিনদিন দেবী থাকবেন রজস্বলা ,রক্ত রাঙা জলে ভিজে উঠবে সাদা কাপড় । আর সেই কাপড় প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হবে ভক্তদের। এই সাদা কাপড়েও রয়েছে নাকি জাদু । এর মাধ্যমে ভক্তরা আর্থিক, মানসিক এবং শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। শুধু কি তাই, মন্দিরের পাশে নদী দিয়ে বয়ে যাবে লাল জল। এই মন্দিরে যোনি পাথরকে দেবীরূপে আরাধনা করা হয়, সারা বছর এই পাথর থেকে প্রাকৃতিক কারণে বেরিয়ে আসে জল ।

ভক্তরা বহু দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন সেই জল পান করবেন বলে। এই জলেই আছে সব রোগের মুক্তির উপায়। কামাখ্যা মন্দিরের পিছন দিকে রয়েছে এক দেয়াল। এই দেয়াল একেবারেই সাধারণ নয় । বলা হয়, এটি নাকি দেবীর কান। এখানে ভক্তরা নিজেদের মনের ইচ্ছা শোনালে তা পূরণ হয়ে যায়। এত রহস্য আর অলৌকিকতার মাঝেও কামাখ্যা মায়ের মূর্তি সবাইকে এক বার্তা দেয় , এই মন্দিরে যোনিপাথর জগত সংসারের মায়েদের প্রতীক, যে মায়েরা সন্তান প্রসব যন্ত্রণা ভোগ করেন। আরে মাতৃযোনির কারণেই সমগ্র জীবের সৃষ্টি।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম থেকে নবম শতাব্দীতে মলেচ্ছা রাজা কামাখ্যা মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কামরূপের পাল রাজারা তন্ত্র সাধনায় বিশ্বাস করতেন তাই সেই সময় থেকেই এই কামাখ্যা মন্দির তন্ত্র সাধনার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। মধ্যযুগীয় সময়ে বারংবার এই মন্দিরের উপর নানান আঘাত নেমে আসে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ভারতের অন্যতম ৫১টি শক্তিপীঠ এর মধ্যে অন্যতম হলো কামাক্ষা মন্দির, এখানেই পড়েছিল সতীর জননাঙ্গ। এই মন্দির থেকেই নাকি শুরু হয়েছিল হর-পার্বতীর প্রথম প্রেম। এখানে দেবী সতীর জননাঙ্গকে পুজো করে অভিশাপমুক্ত হয়েছিলেন কামদেব। তাই এই স্থানের নাম কামরূপ কামাখ্যা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories