Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

প্রতিমুহূর্তে কীভাবে চ্যালেঞ্জ জয় করল পদ্মা সেতু ? হতবাক সারা বিশ্ব

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

মাঝে আর মাত্র চার দিন বাকি, তারপরেই হবে স্বপ্নপূরণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে হবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। তার জন্য চলছে জোড় কদমে প্রস্তুতি। তবে একবারও কি ভেবে দেখেছেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু তৈরি করা কি খুব সহজ ছিল ? শুধু তাই নয়, এই সেতু ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিশ্বরেকর্ড জয় করে নিয়েছে। এই সেতুতে এমন কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা বিশ্বের অন্যান্য সেতুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। এই সেতু তৈরির যখন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তারপর থেকে নানান ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে চলে আসে । যদিও অবশেষে সব চ্যালেঞ্জকেই জয় করা গিয়েছে। বাংলাদেশে এই দ্বিতল সেতু বানিয়ে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিশ্বের অন্য কোন সেতুতে নেই। ব্যবহার করা হয়েছে ৩ ডায়ামিটারের ১২২ মিটার লম্বা পাইপ। এমন ডায়ামিটারের লম্বা পাইপ বিশ্বের আর কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। শুধু তাই নয় , পদ্মা সেতুতে যে হ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে ওই আকৃতির হ্যামার পৃথিবীর আর কোনো সেতুতে ব্যবহার করা হয়নি। এর ওজন প্রায় ৩৫০০ টন। ভূমিকম্প পিয়ার রয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কিলো নিউটনের। পদ্মা সেতুকে আলোকিত করবে প্রায় ৪১৫ টি ল্যাম্পপোস্টের আলো। এছাড়াও দুই পাড়ের সড়কে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০০ টি ল্যাম্পপোস্ট।

মাটির উপর এত বড় সেতুর কাঠামো দাঁড় করানো সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রকৌশলীদের কাছে। পাশাপাশি এই সেতু তৈরির সময় চারিদিকে নানান ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল । সেক্ষেত্রেও সরকারকে সেই বিষয়টি বিশেষভাবে দেখতে হয়। যেহেতু নদীর তলদেশে পাথর ছিল না তাই পাইলিং করার সময়ও সমস্যার মুখে পড়তে হয়, পরিবর্তন করতে হয় সেতুর নকশা। পাশাপাশি নদীশাসনের কাজ একেবারেই সহজ ছিল না। পাইলিং এর সময় সমস্যা হওয়ার কারণে নদীর তলদেশের নরম মাটি শক্ত করার জন্য স্কিন গ্রাউটিং করতে হয়েছে। এই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত মিহি সিমেন্ট। ভাবলে আশ্চর্য হবেন, যেখানে পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে সেখানে নদীর জল বর্ষায় বেশ ভালোরকম বৃদ্ধি পায়। তখন নদীর গভীরতা হয় প্রায় ৬০ মিটার। ভূমিকম্প থেকে সেতু বাঁচাতে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং।

পদ্মা সেতু ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরো বেশি মজবুত করবে। পাশাপশি এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের উন্নতি এবং দারিদ্র্য দূর করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মধ্য-পশ্চিম মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার ছিলেন যাতায়াতের ক্ষেত্রে । তারা পদ্মা সেতুর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। শ্রম বাঁচবে, জ্বালানি বাঁচবে, পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার ঘটবে। এই সেতু সরাসরি যুক্ত করবে প্রায় ১৯ টি জেলাকে। যার কারণে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে প্রায় ১.২৩শতাংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে প্রায় ২.৩ শতাংশ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories