Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘এমন সন্ত্রাস দেশের কোথাও দেখি নি’, ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ভোটের প্রচারে গতকাল সন্ধ্যায় ত্রিপুরায় রওনা গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৩ সে জুন ত্রিপুরায় উপনির্বাচন। তার আগে আজ উপনির্বাচনের প্রচার করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনির্বাচনের প্রচারে গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখলেন তিনি। যেখানে একের পর এক কটাক্ষ ও অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হল বিজেপিকে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। যে স্বতঃস্ফূর্ততা, যে ভালোবাসা আমি মানুষের মধ্যে ১৪ তারিখ প্রচারে এসে উপলব্ধি করেছি, বলা যেতে পারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের, প্রকৃত পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। তৃণমূল ত্রিপুরায় ২০২১ এর আগস্ট মাসে পা রেখেছিল নতুন করে। মানুষের কাছে আমাদের দাবি ত্রিপুরাকে কিভাবে আগামী দিনে সঠিক রাস্তায় আনা যায়? ত্রিপুরার ঐতিহ্য, গর্ব, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা যায়। সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে দল সংগঠন বিস্তার করেছে। যত দিন যাচ্ছে তত বেশি সংখ্যায় মানুষ আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন।”

এরপর বিজেপিকে তোপ দেগে তাঁর বক্তব্য, ” প্রথম দিন থেকে আমাদের উপর আক্রমণ, কর্মীদের ওপর আক্রমণ, যাতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে না পারি, মিছিল-মিটিং করে মানুষের কাছে না পৌছাতে পারি, একটা আতঙ্কের পরিবেশ, চারিদিকে গুণ্ডাবাহিনীর দাপাদাপি। আগরতলার বুকে পুর নির্বাচনে যে সন্ত্রাস আমরা দেখেছি, তা ভারতবর্ষের কোন প্রান্তে দেখি নি। ২৫ বছর সিপিএম ক্ষমতায় ছিল, সিপিএমের সন্ত্রাসকে হার মানিয়ে দিয়েছে এই ৫ বছরের সন্ত্রাস। প্রথম দিন থেকে গাড়ি ভাঙচুর, সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আক্রমণ, গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া। এমনকি পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ,পুলিস আধিকারিকদের লুকিয়ে থাকতে হয়েছে।”

” এমন পরিবেশ যেখানে আদালতে আইনজীবীরা যেতে ভয় পাচ্ছেন। হাসপাতালের ডাক্তারেরা চিকিৎসা করতে ভয় পাচ্ছেন। পুলিশ পর্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত। কিভাবে মিথ্যা মামলা, একের পর এক মামলা দিয়ে আমাদের কর্মীদের জোরজবরদস্তি করে জেলে ঢুকিয়ে রাখা। পুর নির্বাচনকে আমরা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছি। আমরা বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখি। ত্রিপুরার জনসাধারণ সকলকে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আমি অনুরোধ করব, আমরা যদি রুখে না দাঁড়াই, প্রতিরোধের রাস্তা না বেছে নেই, এই সন্ত্রাস অনন্ত কাল ধরে চলবে।”

তিনি আরও জানান, “তৃণমূল কংগ্রেস নিশ্চিতভাবে আপনাদের পাশে প্রথম দিন থেকে রয়েছে। আপনাদের দাবি নিয়ে, মহিলাদের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণ যদি সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায়, তাহলে জিততে পারবো না। এই লড়াই এক দলের সাথে আরেক দলের লড়াই নয়। ত্রিপুরার ঐতিহ্য, শান্তি, সুরক্ষা, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা যায়। অনেক আশা- আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, চোখে স্বপ্ন নিয়ে ২০১৮ সালে মানুষ পরিবর্তন চেয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়ে ছিলেন। কিন্তু মানুষ কী পেয়েছে? ভুয়ো প্রতিশ্রুতি। কোন দাবি পূরণ করতে পারেনি। বহু শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেহাল জরাজীর্ণ। রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা, এক ঘন্টা বৃষ্টি হলে জল জমছে স্মার্ট সিটিতে।”

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories