Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘বিজেপির কথায় রাজ্যভাগ হতে দেবে না বাংলা পক্ষ’, মহামিছিল থেকে বার্তা গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যকে ভাগ করার দাবি তুলেছে বিজেপি। আর বিজেপির বাংলা ভাগের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রবিবার কলেজ স্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় অবধি আয়োজিত হল বাংলা পক্ষর মহামিছিল। উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের অন্যতম মুখ এবং সংগঠনের সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সক্রিয় সদস্য কৌশিক মাইতি, চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস।

রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে মানুষ এসেছিলেন এই মিছিলে যোগ দিতে। বাংলাকে ভাগ হতে দেব না এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। সবাই দাবি জানান বিজেপির এই উদ্দেশ্য কিছুতেই পূর্ণ হতে দেবেন না তারা।

গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানান বাংলার উত্তর দিকের জেলাগুলোকে বাংলা থেকে ভাগ করে আলাদা রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার চক্রান্ত করছে বিজেপি-আরএসএস। এরই প্রতিবাদে কলেজষ্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় পর্যন্ত এই মহা মিছিল সংগঠিত করে বাংলা পক্ষ।

গর্গ চট্টোপাধ্যায় এদিন মিছিল থেকে বলেন বাংলা ভাগের চক্রান্ত ব্যর্থ করবে বাংলা পক্ষ। তিনি আরও জানান বাংলা পক্ষর মিছিল থেকে প্রমাণ হল বাঙালি জেগে গেছে। তার কটাক্ষ বিজেপি চক্রান্ত করছে তার মুখ বন্ধ করে তাকে বাংলা থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি স্পষ্ট জানান বিজেপি বাংলা থেকে তাকে সরিয়ে দিতে পারে কিন্তু তার হৃদয় থেকে বাংলাকে সরাতে পারবে না।”

তিনি আরো বলেন, “একটি জাতিকে দুর্বল করে দেওয়ার সবথেকে সহজ উপায় হল তার মাতৃভূমিকে টুকরো টুকরো করে দেওয়া। ভূমিপুত্রদের ঐক্য ধ্বংস করে দেওয়া। জাতি হিসাবে বাঙালি টুকরো টুকরো হলে লাভ বাঙালি বিদ্বেষীদের। বাংলার উত্তরের জেলাগুলো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলে গোটা এলাকার জমি, অর্থব্যবস্থা, পুলিশ সবই কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি করে ভূমিপুত্রদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের নিজের মাতৃভূমি থেকে বেদখল করে, তাদের জমি দোকান সম্পত্তি রাখার অধিকার কেড়ে নিয়ে ইউ পি -বিহার-ঝাড়খণ্ড-রাজস্থান থেকে বহিরাগত ঢুকিয়ে এলাকার ভূমিপুত্রদের ওপর অত্যাচার চালাবে। উত্তরের জেলাগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ তুলে দেবে তাদের পছন্দের গুজরাট রাজস্থানের পুঁজিপতিদের হাতে। সেখানে সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন করে দেওয়া হবে বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের।”

মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে কৌশিক মাইতি বলেন, “গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের উপর আঘাত হানলে বাংলার প্রতিটি জেলা বাংলার প্রতিটি ঘরে প্রতিবাদের আগুন জ্বলবে।” বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার জল বাংলাদেশে পাঠিয়ে বাংলার উত্তরের জেলাগুলোকে শ্মশানে পরিণত করে চায়। বাংলার সরকার রাজি না হওয়ায় এখনো পর্যন্ত কেন্দ্র তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বাংলার উত্তরের জেলাগুলোকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করতে পারলে দিল্লী তিস্তার জল সহজেই বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে। এখনও পর্যন্ত এই চক্রান্ত আটকে রেখেছে বাংলার সরকার কিন্তু বাংলা ভাগ হলে উত্তরের জেলাগুলোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আর বাংলার সরকারের হাতে থাকবে না। বিপন্ন হয়ে যাবে উত্তরের জেলাগুলোর বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের অস্তিত্ব।”

এদিনের এই মহামিছিলে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি , চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস, মনন মণ্ডল, শোয়েব আমিন, অমিত সেন, কালাচাঁদ চট্টোপাধ্যায়, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, হাওড়া জেলার সম্পাদক জয়দীপ দে, হুগলী জেলার সম্পাদক দর্পণ ঘোষ, উত্তর চব্বিশ পরগণা শহরাঞ্চলের সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ, পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তর চব্বিশ পরগণা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশিষ মজুমদার, বাঁকুড়ার জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য নাথ, পূর্ব বর্ধমানের সম্পাদক জুয়েল মল্লিক, পূর্ব মেদিনীপুরের সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত, বাংলা শ্রমিক পক্ষর অভিজিৎ কুন্ডু প্রমূখ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories