Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘তৃণমূল ঘাটা চচ্চড়ি, লাবরার তরকারির মত’, শাসকদলকে একহাত নিলেন রাজর্ষি লাহিড়ী

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বড় রকম প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার হাল-হকিকত নিয়ে। আবার সম্প্রতি দুটি বিল পাস হয়েছে বিধানসভায়। যার মধ্যে একটি হলো আচার্য বিল। আর অন্যটি হলো ভিজিটর বিল। এগুলি আইনে পরিণত হলে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিজিটর হবেন শিক্ষামন্ত্রী। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন বাম শাসনকালে যেমন অনীলায়ন দেখা যেত, এখন তেমনই শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজের কুক্ষিগত করতে চাইছে মমতা সরকার। শিক্ষাকে বারবার সফট টার্গেট করা হচ্ছে। এবার এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ীর (Rajarshi Lahiri) সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি মৃত্যুঞ্জয় দাস (Mrityunjay Das)

‘অনীলায়ন’-ই আজকে ‘মমতায়নে’

বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ী জানান, “চৌত্রিশ বছরের বাম রাজত্বের সময় ‘অনীলায়ন’ বলে একটা কথা চালু ছিল। কিন্তু সত্যি কথা বলতে দেশ বিভাজনের পর রাজনৈতিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে চলে যায়। কিন্তু কংগ্রেসের বৌদ্ধিক জায়গাটা পরিচালনা করে এসেছে বামপন্থীরা। স্বাধীনতার পরবর্তী কালে কংগ্রেস যা করার চেষ্টা করেছিল সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ও বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে। পরবর্তীকালে ৭৭ সালে আসার পর সে চেষ্টা করেছিল বামেরা। বাম রাজত্বের শেষের দিকে যেটাকে বলে ‘অনীলায়ন’, আজকে সেটাই ‘মমতায়নে’ পরিণত হয়েছে। এর থেকে বেশী আর কিছু নয়।”

অডিট হলেই বিপদ

তিনি আরও জানান,”স্কুল সার্ভিস, কলেজ সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতি, প্রত্যেকটা নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি। আচার্য বদল কেন করা হচ্ছে? কারণ কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে এত দুর্নীতি হয়েছে, যদি তার কোনো অডিট হয়, তাহলে রাজ্য সরকার, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা মন্ত্রক খুব বড় বিপদে পড়ে যাবে। অনেক জিনিস রাজ্যপালকে না জানিয়ে করা হয়েছে। এই ভয় থেকে কিন্তু এই বিল করা হয়। আবার ছাত্রদের ব্রেন ওয়াশ করার প্রবণতাও আছে। যাতে অন্য কিছু তাদের মাথায় না আসে।”

তৃণমূল ঘাটা চচ্চড়ি, লাবরার তরকারির মত

রাজর্ষি লাহিড়ীর কথায়, “আমি আগেও বলেছিলাম তৃণমূল কংগ্রেসকে আমরা কোন রাজনৈতিক দল বলে মনে করি না। এই দলের কোনো ভাবাদর্শ, কোন মতাদর্শ নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে বিভিন্ন চিন্তাভাবনার মানুষ এখানে ঢুকেছে। এখানে নকশাল আছে, এখানে আরবান নকশাল আছে, এখানে জঙ্গী আছে, এখানে জামাত আছে এখানে চুরি, চিটিংবাজী করে খাওয়া, খেতে পারা মানুষ গুলো আছে, সেই সঙ্গে বামপন্থী, কংগ্রেসী মনোভাবাপন্ন আছে। একটা ঘাটা চচ্চড়ি, লাবরার তরকারির মত। একখানা সেরকম একটা ক্লাব ছাড়া কিছুই নয়।”

নীতি শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই

“শিক্ষাকে সফট টার্গেট করা হচ্ছে। কলেজগুলোতে পড়াশোনা নিয়ে কোন আলোচনা হয় না। অনলাইন পরীক্ষার জন্য আন্দোলন করছে, নজরুল মঞ্চে যে অবস্থা হলো। ২৪০০ লোকের হলে ৯০০০ মানুষ ঢুকে গেছে। তারা কারা? কারা এ কাজ করলো? যাদেরকে পার ঢুকিয়ে দাও। কোন নীতি শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছাত্র পরিষদের নিজেদের মধ্যেও লড়াই হচ্ছে। ছাত্র পরিষদের একজন মহিলাকে কিভাবে মারধর করা হচ্ছে? তার ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। ছাত্র সমাজকে ধরতে না পারলে টিকে থাকা যাবে না।”

পশ্চিমবঙ্গে খন্ড বিখন্ড হবে

“রাজ্যে আইনের শাসন থাকছেনা শাসকের আইন, বাস্তবিক সে দিকে যাচ্ছে, একটা ভয়ঙ্কর জায়গায় পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে খন্ড বিখন্ড হয়ে যাবে। জায়গায় জায়গায় অশান্তি, যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু রাজনীতি। পড়াশোনার মান কী করে থাকবে?”

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories