Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কি কান্ড! বাংলার ফেলুদা হয়ে মাতৃভাষাই নড়বড়ে? কীভাবে নিজেকে তৈরি করছেন ইন্দ্রনীল?

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা  ।।

প্রদোষ চন্দ্র মিত্র ওরফে ‘ফেলুদা’। সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় একটি কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা। আর সেই ফেলুদাই ফের আসছে বড়পর্দায়। সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে আসতে চলেছে হত্যা-রহস্য ‘হত্যাপুরী’। এ খবর নতুন না হলেও, এখনকার সবচেয়ে বড় খবর এই যে সন্দীপ রায়ের এই ছবির মাধ্যমে বাঙালি পেতে চলেছে নতুন ফেলুদাকে। আর তাই নিয়েই গত কয়েকমাস ধরে জল্পনা তুঙ্গে।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, এর পর ফেলুদা চরিত্রে বাঙালি দেখেছে টোটা রায় চৌধুরীকে। তাই নতুন মুখ আসছে শুনে অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়তো ফেলুদার চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বান ভট্টাচাৰ্যকে। কিন্তু সেসব এখন অতীত। বঙ্গবাসীর সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে খবর হল, অনির্বান, টোটা কেও নয়, বরং সন্দীপ রায় পরিচালিত এবং এসভিএফের প্রযোজনায় তৈরি ‘হত্যাপুরী’ ছবিতে ফেলুদার চরিত্রে দেখা যাবে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে।

বুধবার শহরের এক রেস্তোরাঁয় ‘হত্যপুরী’ (Hattyapuri) ছবির প্রথম পোস্টার এল প্রকাশ্যে। পোস্টারটি লঞ্চ করলেন পরিচালক জায়া ললিতা রায়। স্বস্তির হাসি সন্দীপরায়ের মুখে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ছবিটি নিয়ে এসভিএফ এর সঙ্গে কথাবার্তা এগিয়ে গেলেও শেষমেষ ‘হত্যপুরী’ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন এই প্রযোজনা সংস্থা। অবশেষে শ্যাডো ফিল্মসের প্রযোজনা নির্ধারিত সময়ে বড় পর্দায় আসবেন ফেলুদা।

এদিন ছবির পোস্টার লঞ্চের অনুষ্ঠানে পরনে খাদির পাঞ্জাবি চোখে কালো ফ্রেমের চশমা দিয়ে একেবারে ফেলুদার লুকেই ধরা দিয়েছেন অভিনেতা। সেখানেই নানান কথার মাঝে উঠে আসে ইন্দ্রনীলকে ফেলুদা হতে গিয়ে ঠিক কি কি অভ্যেস রপ্ত করতে হয়েছে উল্টোদিকে কোন কোন অভ্যেস বাতিল করতে হচ্ছে। সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই একের পরে এক অভ্যেস বাতিল ও রপ্ত করার প্রসঙ্গে উঠে আসে তার বাংলা ভাষায় কথা বলা নিয়ে। অভিনেতা জানান, “ফেলুদা হওয়ার সুবাদে ভালো করে বাংলা বলার অভ্যেস করছি। প্রবাসে থাকার কারণে অনেকদিন বাংলা বলাটা অভ্যাসে নেই। তাই বর্তমানে যতটা পারছি বাংলা ভাষাকে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছি। তবে বাংলাকে আয়ত্তে আনার জন্য ইংরাজি ছবি দেখা বই পড়া একেবারেই কমিয়ে দিয়েছি। কারণ আমার ইচ্ছে একদিন একেবারে গড়গড় করে বাংলা বলব।” এছাড়াও, অভিনেতার কথায়, এবছরের শুরুতেই সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস ছাড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিল। কিন্তু ঠিক সেসময়ই আসে ফেলুদার অফার। আর ফেলুদা সিগারেট ছাড়া অসম্ভব। তাই সেটা আর ছাড়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, সন্দেশ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত এই হত্যাপুরী সিনেমার পর্দায় আনার বহুদিনের ইচ্ছে ছিল সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায়ের। উল্লেখ্য ছবির গল্পের প্রেক্ষাপট পুরীকে কেন্দ্র করে। সেখানে গিয়েই বাংলার প্রিয় গোয়েন্দা ফেলুদা এবং তাঁর দুই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী তোপসে এবং জটায়ু তিনজনে সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়ে হঠাৎ খুঁজে পান এক অজ্ঞাত লাশ। ফেলুদা সব সময় সত্যের অনুসন্ধানী বলেই পরিচিত। তোপসে এবং জটায়ুকে নিয়ে এই খুনের রহস্য উন্মোচনে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। ফেলুদা তদন্তের সূচনা করার পর, গল্পটি একটি রহস্যময় মোড় নেয়, যখন ত্রয়ী পৌঁছায় ডি.জি সেন নামে এক ব্যক্তির কাছে, যিনি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হন এবং পুরীতে আরও একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাঁরা এই মামলার যত গভীরে যেতে শুরু করেন, সামনে আসতে শুরু করে সত্যি। আর এই জটিল রহস্যের সমাধান হবে ফেলুদার হাত ধরেই। উল্লেখ্য, এই ছবিতে জটায়ুর চরিত্রে দেখা যাবে অভিজিৎ গুহকে। তোপসের ভূমিকায় থাকছেন আয়ুশ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories