Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Sharif Chacha: হিন্দু মুসলিম মৃতদেহ নির্বিশেষে নিয়ে নেন, শেষশয্যার কাজ একাই করেন শরীফ চাচা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ঘুম থেকে উঠে প্রাতভ্রমণে যাই আমরা। শরীফ চাচা যান, থানা হাসপাতাল আর শেষে মর্গে। বেওয়ারিশ দেহের খোঁজে। দেহ পরিষ্কার না নোংরা, পুরুষ না মহিলার, মুন্ডহীন নাকি বিকৃত তা তিনি দেখেন না। ধর্ম জাতি ভেদাভেদের উপরে গিয়ে নিয়ে আসেন তাঁদের। সুন্দর করে পরিষ্কার করে পেতে দেন শেষশয্যা।

এতদ যাবৎ তিন হাজারের বেশি হিন্দুকে সৎকার ও আড়াই হাজারের বেশি মুসলমানকে গোর দিয়েছেন শরীফ চাচা। সবাই তাঁকে শরীফ চাচা নামেই চেনে। ২০২০ তে তার কাজের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু চাচা জানিয়েছেন, কোনো পুরস্কারের আশায় এমন কাজ করেননি তিনি।

ফৈজাবাদে বাড়ি শরীফ চাচার। এক কালে সাইকেল সারাইয়ের কাজ করতেন। ছেলে মোহম্মদ রইস খান সুলতানপুরে কেমিস্টের কাজ করতে গিয়ে আর ফেরেনি। ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে শেষে পান রেল লাইনের ধারে। একটা বস্তায় শরীরের অর্ধেক অংশ খুবলে নেওয়া অবস্থায় পরে ছিলো তাঁর ছেলে। তিনি অমন দৃশ্য দেখেই ঠিক করেছিলেন আর কারুর শেষ পরিণতি এমন হবে না।

শরীফ চাচা মনে করেন মৃত্যুর পরেও সম্মান জরুরি। ২৭ বছর ধরে ভাগাড় ঘুরে দেহ তুলে এনে তাদের সংস্কারের একটাই কারণ ছিলো যাতে কোনোভাবে শেষ সময়ে দেহগুলির অসম্মান না হয়। বয়স এখন ৮২ শরীফ চাচার বার্ধ্যক্য জাঁকিয়ে বসেছে। তাই এখন কয়েকজন রিক্সওয়ালা ও নাতির সাহায্যে এখনো সে কাজ করে যাচ্ছে।

বেওয়ারিশ কোনো লাশ ৭২ ঘন্টার বেশি পরে থাকলে পুলিশ খবর দেয় শরীফ চাচাকে। ১৫ জনের সংসারে একমাত্র জীবিকাবাহী নাতি। তথ্য প্রযুক্তি কর্মী সে। এক একটি সৎকারের খরচ ৩০০০-৫০০০ টাকা। সে টাকার খরচ কোনো বা কোনো ভাবে জোগাড় হয়েই যায়। শরিফের নাতি সাবির জানিয়েছেন, অনেকেই তাঁদের কাজ দেখে অর্থ সাহায্য করেন, তা দিয়েই সৎকারের কাজ করেন তাঁরা। সাবির জানিয়েছে এই কাজ তাঁরা আগামী দিনেও চালিয়ে যাবেন।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories