Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

যৌতুকের জন্য হয়রানিতে শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকে দোষী নন ! আইনের অপব্যবহার হচ্ছে, জানাল আদালত

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

যৌতুকের জন্য প্রায় সময় দেখা যায় শ্বশুরবাড়িতে মেয়েদের উপর নানান ধরনের অত্যাচার কিংবা হয়রানির শিকার হতে । আদালতে প্রচুর পরিমাণে মামলা করা হয় । কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আদালতে তরফ থেকে এবার জানিয়ে দিল, যৌতুকের জন্য হয়রানির অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেক সদস্য অভিযুক্ত হতে পারেন না। যদি কোন অভিযোগকারী অভিযোগ করেন সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে । শুধুমাত্র একজনের হয়রানির উপর ভিত্তি করে প্রত্যেকের নামে দোষ চাপানো যাবে না।

পাশাপাশি এও জানানো হয়, প্রতিটি ছোটখাটো বিবাদকে কখনই হয়রানি বলা যায় না । আদালত এমনটা জানিয়ে এক মহিলার শ্বশুরকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। ওই মহিলা তার শ্বশুরের উপর অভিযোগ এনেছিলেন যৌতুক হয়রানি এবং বিশ্বাসভঙ্গের। দিল্লির তিস হাজারির অতিরিক্ত দায়রা জজ সঞ্জীব কুমার রায় দেয়ার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মহিলারা যাতে শ্বশুরবাড়িতে যে কোনো রকম হয়রানি থেকে সুরক্ষিত থাকেন তাই যৌতুক হয়রানি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

কিন্তু লক্ষ্য করে দেখা গিয়েছে গত কয়েক বছরে এই আইনের অপব্যবহার উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, দেশের উর্দ্ধতন আদালত একসময় সিদ্ধান্তে উল্লেখ করেছিল যে বিয়ের পর সামান্য বিবাদকে যৌতুক হয়রানির মিথ্যা মামলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেক সদস্য নন, সেখানে জড়িয়ে দেওয়া হয় অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদেরও। অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেও বহু মহিলা এই কাজ করে থাকেন । পরবর্তীকালে প্রমাণের অভাবে নির্দোষ ব্যক্তিরা মুক্তি পেলেও তাদেরকে অনেক মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়।

২০১৮ সালে চাঁদনি চক এলাকায় বসবাসকারী এক মহিলা তার স্বামী , শ্বশুর এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন যৌতুক হয়রানি ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে। ট্রায়াল কোর্ট থেকে এই অভিযোগ পৌঁছায় নিম্ন আদালতে । অবশেষে শাশুড়ির তরফ থেকে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সমস্যা পৌঁছায় দায়রা আদালতে। আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে অভিযোগকারী মহিলা তার শাশুড়ির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তার অনেক প্রাথমিক প্রমাণ আছে।

অপরদিকে শ্বশুর তার ছেলের কাজকে সব সময় ঠিক মনে করতেন সেক্ষেত্রে এই অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ হিসেবে ধরা যেতে পারে না। ২০২২ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি সুপ্রিমকোর্টে প্রায় ৬ টি এই ধরনের রায়ের উপর ভিত্তি করে , সুপ্রিম কোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। এছাড়াও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল, যৌতুক হয়রানি আইনের যথেষ্ট অপব্যবহার করা হচ্ছে। দিনের পর দিন প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে , স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদেরকে যৌতুকের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories