Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অসুস্থ বিপ্লবীর রুগ্ন মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল খোলা মাঠে ! এই ঘটনায় আঁতকে উঠবেন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ভারতের এই বিপ্লবীর মৃত্যু আজীবন মনে থাকবে ভারতবাসীর। এখনো পর্যন্ত ওই ঘটনা অনেকেরই গায়ে কাঁটার মতো বেঁধে। ফাঁসির তারিখ ঘোষণা হয়েছিল এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগে অর্থাৎ এপ্রিল মাসের ৮ তারিখে তাঁকে প্রকাশ্য জায়গায় সবার সামনেই ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যেদিন তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয় সেদিন তিনি ছিলেন অত্যন্ত অসুস্থ। তাঁর রুগ্ন শরীর ফাঁসি কাঠ থেকে ঝুলতে দেখে রীতিমত আঁতকে উঠেছিল ভারতীয়রা। তিনি ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক। তাঁর হাত ধরেই সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা। তিনি আর কেউ নন , মঙ্গল পান্ডে। ভারতীয় এই বিপ্লবীকে শুধুমাত্র ফাঁসি দিয়েই ক্ষান্ত হননি ব্রিটিশ সরকার। খোলা মাঠে তাঁর রুগ্ন দেহকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয় বহুক্ষণ । মাঠের চারপাশে তখন উপচে পড়ছিল সাধারণ মানুষ এবং সৈন্যের ভিড়। এই ঘটনায় অনেকেরই বুক কেঁপে উঠেছিল।

দুর্ভিক্ষে হারিয়েছিলেন ছোট বোনকে

তাঁর সূচনা করা বিদ্রোহ মহাবিদ্রোহের রূপ ধারণ করেছিল। সাধারণ জনগণ থেকে শিক্ষিত সম্প্রদায় পর্যন্ত এই বিদ্রোহে সামিল হয়েছিলেন। মঙ্গল পান্ডে বেপরোয়া সাহসিকতায় হত্যা করেছিলেন ব্রিটিশ সার্জনদের। এই হত্যা কাহিনী গল্পের মত লাগলেও তা ছিল বাস্তব। কৃষক দিবাকার পান্ডের পুত্র মঙ্গল পান্ডে। তিনি ছিলেন গোঁড়া হিন্দু পরিবারের সন্তান। মঙ্গল পান্ডের একমাত্র ছোট বোন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে ১৮৩০ সালে মারা যায়। বোনের মৃত্যু ও চরম দারিদ্র্যতা কিশোর মঙ্গল পান্ডের জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটায়। বাধ্য হন ব্রিটিশ সেনা ছাউনিতে যোগ দিতে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেঙ্গল আর্মির সামান্য এক সেনাপতি হয়ে মঙ্গল পান্ডে গর্জে উঠে ছিলেন ব্রিটিশ অপশাসনের বিরুদ্ধে।

সময় ১৮৫৭ সাল। সেনা ছাউনিতে গুজব রটে গেল এনফিল্ড রাইফেলকে নিয়ে। রাইফেলটি তৈরি হত গরু ও শুয়োরের চামড়া দিয়ে। ফলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় জাতি গৌরব বজায় রাখতে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। একদিন সন্ধ্যেয় মঙ্গল পান্ডে যখন পূজা-অর্চনায় ব্যস্ত , তখন একদল ব্রাহ্মণ হাজির হন সেখানে। মঙ্গল পান্ডের কাছে পরামর্শ চান সমস্যা সমাধানের জন্য। প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টির জন্যই ব্রিটিশদের পরিকল্পনা ছিল এনফিল্ড রাইফেল, তা মঙ্গল পান্ডে সহজেই বুঝে যান।

তরোয়ালের আঘাতে দু-টুকরো বাফের শরীর !

মঙ্গল পান্ডে ভারতীয় সৈনিকদের বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ব্যারাকের সেনা ছাউনিতে তখন উপস্থিত হন মেজর সার্জেন্ট । তিনি সৈনিকগণকে আদেশ দেন মঙ্গল পান্ডেকে গ্রেফতার করার জন্য । কিন্তু কেউ এগিয়ে না আসায় তিনি নিজেই এগিয়ে যান । কয়েক পা এগোনোর পরেই মঙ্গল পান্ডের বন্দুক থেকে তীব্র গতিতে গুলি এসে লাগে তাঁর গায়ে। মৃত্যু হয় মেজরের। অদূরেই ছিলেন লেফট্যানেন্ট বাফ। গোলমাল শুনে ছুটে আসতেই , মঙ্গল পান্ডে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। কিন্তু গুলি বাফের গায়ে না লেগে , লাগে তাঁর ঘোড়ার পায়ে। অন্যদিকে বাফের বন্দুকের গুলি মঙ্গল পান্ডের মাথার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়। শুরু হয় দুজনের তরোয়াল যুদ্ধ। মঙ্গল পান্ডের তরোয়ালের এক আঘাতেই মাথা থেকে আলাদা হয়ে যায় বাফের শরীর।

নিজেকেই গুলি করেন !

এই পরিস্থিতিতে কর্নেল হুইলার সেনা ছাউনিতে এসে উপস্থিত হলে, কোনো ভারতীয় সৈন্য তাঁকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। ভীত কর্নেল ফিরে যান ইউরোপীয় সেনাছাউনিতে। আদেশ দেন মঙ্গল পান্ডেকে গ্রেফতার করার। ইউরোপীয় সৈনিকের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিজের বুকে গুলি চালান মঙ্গল পান্ডে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি তখন প্রাণে বেঁচে যান ।

১৮৫৭ সালের ৬ ই এপ্রিল সামরিক আদালতে বিচার করা হয় তাঁর , আদেশ দেওয়া হয় ফাঁসির। ৮ ই এপ্রিল ছিল অভিশপ্ত একদিন। ব্রিগেড প্যারেডের মাঠে সর্বসমক্ষে মঙ্গল পান্ডেকে ফাঁসি দেওয়া হয় । তাঁর নগ্ন শরীরটাকে ইচ্ছাকৃত ব্রিটিশ সরকার অনেকক্ষণ ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দেয়। যাতে ভারতবাসী এর থেকে শিক্ষা লাভ করে । কোনো সৈনিক যেন পরবর্তীকালে আন্দোলন করার সাহস না দেখায়। কিন্তু ফলাফল হয়েছিল বিপরীত। মঙ্গল পান্ডের ফাঁসির পর সমস্ত ভারতবাসী একসাথে গর্জে ওঠে। একের পর এক অস্ত্রাগার লুণ্ঠন হতে থাকে। মঙ্গল পান্ডের সূচনা করা বিদ্রোহ টলিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ শাসনের ভিতকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories