Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাস্তা সারাইয়ের দাবি জানাতেই গালিগালাজ! বিধায়কের বিরুদ্ধে উঠল অভিযোগ

।। প্রথম কলকাতা।।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যাতায়াতে অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয় সাধারন মানুষকে। যার জন্য স্থানীয় বিধায়ককে ফোন করে সেই রাস্তা সারানোর দাবি জানানো হয়েছিল । তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাস্তা পাকা করার দাবি জানাতেই স্থানীয় বিধায়ক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আর তারপর বিধায়কের এই আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা । তাঁরা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান । দাবি তোলেন , এই ধরনের আচরণের জন্য বিধায়ককে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের কাছে। ঘটনাটি মালদা জেলার রতুয়া ১ ব্লকের।

রতুয়া ব্লকের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাণীকান্তটোলা গ্রামের বাসিন্দারা দুর্গাপুর স্ট্যান্ডে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। কারণ তাদের অভিযোগ, বাণীকান্তটোলা গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা এখনও পর্যন্ত কাঁচা রয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে সেই রাস্তা পাকা করে দেবার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে স্থানীয় বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় এর কাছে। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি । যার ফলে আবারও স্থানীয় এক ব্যক্তি বিধায়ক সময় মুখোপাধ্যায়কে ফোন করে এই কাঁচা রাস্তা পাকা করার দাবি জানান।

আর তখন বিধায়ক তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে । প্রমাণ স্বরুপ স্থানীয়দের কাছে সেই কথোপকথনের রেকর্ডিং রয়েছে বলেও জানা যায় । আর বুধবার তাঁরা ভালুকা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে দাবি তোলেন বিধায়কের এহেন আচরণের জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। তাদের পথ অবরোধের ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় রতুয়া ভালুকা রাজ্য সড়কে। এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় রতুয়া থানার পুলিশ। অবশেষে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তোলেন স্থানীয়রা।

তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের এহেন ব্যবহারে সাফাই দিতে শোনা যায় রতুয়া ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফজলুল হককে । তিনি বলেন, কী কারণে এই ধরনের ব্যবহার করেছেন তা যদিও তাঁর জানা নেই কিন্তু যদি করে থাকেন তাহলে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এই ধরনের ব্যবহার করা একেবারেই উচিত হয়নি তাঁর। কারণ কর্মীরাই দলের সম্পদ । তাই তাদেরকে গালিগালাজ করা কখনই ঠিক নয় বলে জানালেন তিনি।

অন্যদিকে , এই ঘটনায় বিরোধীদল কটাক্ষ করার সুযোগ ছাড়েনি । বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পার্থসারথী ঘোষ বলেন, এই সরকার গণতন্ত্রকে মানে না। বিধায়কও বুঝে গিয়েছেন যে মানুষের ভোটের আশা করে না এই সরকার। তাঁরা মানুষের কাছ থেকে ভোট ছিনিয়ে নেয়। তাই তাঁর মানসিকতাও এই ধরনের হয়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁর। রতুয়া ব্লকের সিপিআইএম লোকাল কমিটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি জোটের প্রার্থী হয়ে যখন নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন তাঁর ভাষা, ব্যবহার আলাদা ছিল। কিন্তু শাসক দলে যোগদান করার পর বিধায়কের মুখের ভাষার পরিবর্তন হয়েছে। ঠিক তাদের নেত্রীর মতো কারও অভাব অভিযোগ শুনতে পছন্দ করেন না তিনি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories