Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

খাবার অতি নিম্নমানের, স্বাদ নেই কোন! বেহাল দশা বর্ধমানের মা ক্যান্টিনের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসহায় রাজ্যবাসীর কথা ভেবে গোটা রাজ্য জুড়ে মা ক্যান্টিন চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে কাজ হারিয়েছেন রাজ্যের বহু মানুষ । লকডাউন এর ফলে তাদের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে । সেই মতো পরিস্থিতিতে সেইসব দুঃস্থ মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। বলা হয়েছিল পাঁচ টাকায় সেখানে পাওয়া যাবে পেট ভরে ভাত সাথে থাকবে ডাল সবজি এবং ডিম।

অন্যান্য জেলাগুলির মত বর্ধমান পৌরসভার উদ্যোগে মা ক্যান্টিন চালু করা হয়েছিল তিনকুনিয়া বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে । এই বাস স্ট্যান্ড আগে ব্যবহৃত হলেও এখন তা পরিত্যক্ত আর সেই পরিত্যক্ত বাসস্ট্যান্ডের মধ্যেই চলছে মা ক্যান্টিনের পরিষেবা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ উঠে এসেছে এই মা ক্যান্টিন নিয়ে । দিলীপ দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মা ক্যান্টিনের খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের। ৫ টাকায় খাবার দেওয়া হচ্ছে ঠিক কথা কিন্তু তাতে কোনরকম স্বাদ খুঁজে পান না তাঁরা।

তবে পেটের দায়ে তাই খেতে হয় । এছাড়াও মা ক্যান্টিনের প্রবেশদ্বারের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে মাটি । সেই মাটি ফেলেছে কেন মাটি ফেলা হয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি । যেখানে রান্নাবান্না করা হয় সেই জায়গার চারপাশ অত্যন্ত নোংরা। ড্রেনের জল জমে রয়েছে রাস্তার ধারে নোংরা জমে রয়েছে আর সেই গুলি থেকে মশা মাছির উৎপাত প্রতিদিনের বিষয়। এছাড়াও পরিত্যক্ত এই তিনকুনিয়া বাসস্ট্যান্ডের মধ্যে মাঝে মাঝে মদের আসর বসতেও দেখা যায় । অন্যান্য ক্যান্টিন গুলিতে বসে খাবার ব্যবস্থা থাকলেও বর্ধমানের এই মা ক্যান্টিনে নেই বসে খাওয়ার কোন ব্যবস্থা ।

রাজ্য সরকারের মস্তিষ্কপ্রসূত এই মা ক্যান্টিন প্রকল্প বর্তমানে বর্ধমান পৌরসভার গাফিলতিতে একেবারেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কেন পৌরসভার তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না সেই প্রশ্নের কোনো রকম সদুত্তর মেলেনি। বর্ধমান পৌরসভার পৌরপতি পরেশচন্দ্র সরকার জানান, মা ক্যান্টিন নিয়ে গত সপ্তাহেই পৌরসভায় একটি আলোচনা হয়েছিল আর সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মা ক্যান্টিনের এই হাল পরিবর্তন করা হবে। এর থেকে বেশি কিছু উত্তর পাওয়া যায়নি পৌরপতির কাছ থেকে।

তিনকুনিয়া বাসস্ট্যান্ডের মা ক্যান্টিনের রাধুনী ঝর্না ভট্টাচার্য জানান, অসহায় মানুষদের জন্য এই ক্যান্টিন এর ব্যবস্থা করা হয়েছে পৌরসভার উদ্যোগে। প্রতিদিন প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো মানুষ এখানে খাওয়া-দাওয়া করেন। কুপন সিস্টেমে চলছে এই মা ক্যান্টিন । যদিও আগে বসে খাওয়ানোর ব্যবস্থা ছিল এখানে কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য এখন আর এই ক্যান্টিনে বসে খাওয়ানো হয় না। এই ক্যান্টিন এলাকার বহু অসহায় মানুষের রোজ দিনের খাবার যোগায় মাত্র ৫ টাকা তে। সে ক্ষেত্রে তাদের আবেদন যেন খাবারের মান কিছুটা হলেও ভালো করা হয়। যদিও পৌরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে বর্ধমানের মা ক্যান্টিনের।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories