Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনায় প্রয়াত সাইমন্ডস, একনজরে কিংবদন্তি অজি অলরাউন্ডারের কেরিয়ার

1 min read

|| প্রথম কলকাতা ||

শেন ওয়ার্নের পর অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, শনিবার রাত্রে ঘটা একটি পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন কিংবদন্তি অজি অলরাউন্ডার। টাউন্সভিল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে হার্ভি রেঞ্জ রোডে দুর্ঘটনা ঘটে। সাইমন্ডসের গাড়িটি রাস্তা থেকে নীচে নেমে যাওয়ার পর উলটে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রয়াত হয়েছেন সাইমন্ডস। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে প্যারামেডিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শেষরক্ষা হয়নি। দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অজি দলের সদস্য অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের প্রয়াণকালে বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর।

কয়েকমাস আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন কিংবদন্তি অজি স্পিনার শেন ওয়ার্ন। ওয়ার্নির মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে ক্রিকেটজগত। পথদুর্ঘটনায় ৪৬ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের মৃত্যুসংবাদ ক্রিকেটমহলকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে। কেমন ছিল ‘রয়’ বলে পরিচিত হয়ে ওঠা অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের ক্রিকেট কেরিয়ার? রইল তার খুঁটিনাটি তথ্য –

দীর্ঘদেহী অজি অলরাউন্ডারের জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে।

১৯৯৮ সালের ১০ই নভেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। অজি অলরাউন্ডার পরিচিত ছিলেন তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিং, কার্যকরী মিডিয়াম পেস ও ধূর্ত স্পিন বোলিংয়ের জন্যে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা ১৯৮’টি ওয়ানডে ম্যাচে সাইমন্ডস ৩৯.৭৫ গড়ে ৫০৮৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। একদিবসীয় ক্রিকেটে অজি অলরাউন্ডারের নামের পাশে রয়েছে ৬টি শতরান ও ৩০টি অর্ধশতরান।

ওয়ানডের পাশাপাশি বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সুবাদে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাইমন্ডস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র চোদ্দটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবার সুযোগ পাওয়া অলরাউন্ডার ২টি অর্ধশতরান সহ ৩৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

সাদা বল ক্রিকেটের তারকা হিসাবে গন্য করা হলেও ক্রিকেটের ধ্রুপদী ফরম্যাটেও সাইমন্ডসের পারফর্মেন্স হেলাফেলার নয়। ২৬টি টেস্ট ম্যাচে ব্যাগি গ্রিনের প্রতিনিধিত্ব করা এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ২টি শতরান সহ ১৪৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

সাইমন্ডসের ঝুলিতে রয়েছে ১৩৩টি ওয়ানডে উইকেট, ২৪টি টেস্ট ও ৮টি টি-টোয়েন্টি উইকেট।

২০০৩, ২০০৭ বিশ্বকাপজয়ী অজি দলের সদস্য অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস আইপিএলে খেলেছেন ডেকান চার্জাস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে। গ্লস্টারশায়ার, সারে, ল্যাঙ্কাশায়ারের মতো দলের হয়ে দাপিয়েছন কাউন্টি ক্রিকেট।

২০০৯ সংস্করণের শিরোপাজয়ী ডেকান চার্জাস দলের সদস্য সাইমন্ডস ২০০৮ সংস্করণ থেকেই আইপিএলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। খেলেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলের হয়েও। ৩৯টি আইপিএল ম্যাচে ৯৭৪ রান ও ২০টি উইকেট নিয়েছিলেন সাইমন্ডস।

২০০৯ সালের ৭ই মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন সাইমন্ডস। প্রসঙ্গত, সাইমন্ডস তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেকও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘটিয়েছিলেন।

ব্যাটিং, বোলিংয়ের পাশাপাশি অবিশ্বাস্য ফিল্ডিংয়ের জন্যেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন সাইমন্ডস। জড়িয়েছেন একাধিক বিতর্কে। হরভজনের সঙ্গে ‘মাঙ্কিগেট’ যার মধ্যে অন্যতম। ক্রিকেট কেরিয়ারে ইতি টানার পর একটি বিখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে ধারাভাষ্যকার হিসাবে যুক্ত ছিলেন সাইমন্ডস। পছন্দ করতেন মাছ ধরতে।

Categories