Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হঠাৎ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা বিপ্লব দেবের, নেপথ্যে কোন কারণ?

।। প্রথম কলকাতা।।

ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর বাকি থাকতেই আজ একেবারে নাটকীয় ভাবে পদত্যাগ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। রাজ্যপাল এস এন আর্য্যর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। গত ২০১৮ সালে ২৫ বছরের বাম শাসনের উচ্ছেদ করে ত্রিপুরা দখল করে বিজেপি। তারপর থেকেই বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এক বছর বাকি থাকতেই হঠাৎ ইস্তফা দিলেন বিপ্লব দেব। এখন প্রশ্নটা হঠাৎ কেন পদত্যাগ করলেন বিপ্লব দেব?

জানা যাচ্ছে, গতকাল তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি গিয়েছিলেন। এরপর আজ তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

অনেকে মনে করছেন, আগামী বছর ত্রিপুরাতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। বিপ্লব দেবকে মুখ করে লড়াই করতে চায় না বিজেপি। তাই সময় থাকতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। আবার অনেকে মনে করছেন বিপ্লব দেবকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করে নির্বাচনে লড়াই করতে গেলে প্রতিষ্ঠানবিরোধীতার মুখোমুখি হতে হবে বিজেপিকে। তাই তাঁকে এমন নির্দেশ দিতে পারে দল।

আরও পড়ুন : ত্রিপুরার রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়, মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা বিপ্লব দেবের

যেমন উত্তরাখণ্ডে ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতকে সরিয়ে পুষ্কর সিং ধামিকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। যার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচন। ত্রিপুরাতেও যা ঘটার সম্ভাবনা আছে। আবার অনেকে মনে করছেন বিপ্লব দেবকে অপসারিত করে কোন সর্বজনগ্রাহ্য মুখকে সামনে রেখে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চায় বিজেপি।

একাধিকবার বেফাঁস মন্তব্য করে দলের সমস্যা বাড়িয়েছেন বিপ্লব দেব। তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একবার তিনি মন্তব্য করেছিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন কিনা? তা ঠিক করতে গণভোট করা হোক। তাঁর এই বক্তব্যতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে নিষেধ করেছিলেন।

আবার, ত্রিপুরার ভোটের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনজাতির ভোট। জনজাতির ভোট টানতে উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মাকে সামনে রেখে লড়াই করতে পারে বিজেপি। আবার, একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, নিজের ইচ্ছেতে ইস্তফা দেন নি বিপ্লব দেব। দলের নির্দেশেই এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বিপ্লব দেবের হঠাৎ ইস্তফাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রিপুরার হাজার হাজার মানুষকে ব্যর্থ করা মুখ্যমন্ত্রীকে বিদায়। যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এতটাই বেশি ক্ষতি যে, বিজেপির শীর্ষকর্তারা মুখ্যমন্ত্রীর অক্ষমতায় বিরক্ত। বিজেপি খুবই বিচলিত বলে মনে হচ্ছে। ত্রিপুরায় পরিবর্তন অনিবার্য।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories