Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন দুয়ারে রেশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে, যেকোন সময় নামতে পারে কেন্দ্রের খাড়া

।। প্রথম কলকাতা।।

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে যে প্রতিশ্রুতি গুলি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুয়ারে রেশন প্রকল্প। এরপর তৃতীয়বারের সরকার গঠনের পর প্রথমে পাইলট প্রজেক্ট, এরপর পরিপূর্ণ ভাবে শুরু হয় দুয়ারে রেশন প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পকে ঘিরে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন একাধিক রেশন ডিলার। এবার এই প্রকল্পে আপত্তি জানাল কেন্দ্র সরকার। জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প কেন্দ্রীয় আইনের পরিপন্থী।

তাই যেকোনো সময় এই প্রকল্পের উপর নেমে আসতে পারে কেন্দ্রের খাড়া। যদিও রাজ্য সরকার এই প্রকল্প চালু রাখার বিষয়ে নাছোড়বান্দা। রাজ্য সরকারের অকাট্য যুক্তি, দুয়ারে রেশন প্রকল্প রূপায়ন সরকার বদ্ধপরিকর। সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রূপায়নের পথ বের করবে রাজ্য। এই প্রকল্প প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়েছিল। এরপর দিল্লি, অন্ধপ্রদেশ সরকার এই ধরনের প্রকল্প শুরু করে। কিন্তু এই ধরনের প্রকল্প জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে।

মন্ত্রিসভার নোটে জানানো হয়েছে, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের ১২ নম্বর, ২৪(২) নম্বর ধারায় খাদ্যশস্য রেশন দোকানে পৌঁছে দেবার কথা বলা হয়েছে। খাদ্যশস্য উপভোক্তার বাড়িতে পৌঁছে দেবার কথা সেখানে বলা হয়নি। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রকের জনৈক আধিকারিক জানালেন, রেশন দোকানের বাইরে অবিকৃত খাদ্যশস্য বের করে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, খাদ্যশস্য রেশন দোকান থেকেই বিক্রি করতে হবে।

আবার বাড়িতে পৌঁছে দেবার জন্য যদি উপভোক্তাকে দিল্লি, অন্ধপ্রদেশের মত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তাহলে তা দেশজুড়ে সমস্ত মানুষকে একদামে খাদ্যশস্য দেওয়ার কেন্দ্রীয় আইনের বিরোধিতা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার যেহেতু মনে করছে, দুয়ারে রেশন জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী। তাই এই প্রকল্প বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের কথায়, আইন অনুযায়ী এই ধরনের প্রকল্প কখনোই গ্রহণ করা যায় না। এ ছাড়া এই ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করলে এক দেশ এক রেশন কার্ড প্রকল্প রূপায়ণে বিভিন্ন রকম সমস্যা আসার সম্ভাবনা আছে।

কেন্দ্রের আরও যুক্তি, বাড়ি বাড়ি খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত অর্থব্যয় হচ্ছে রেশন ডিলারদের। অর্থ সংকটে ভুগতে থাকা রেশন ডিলারদের বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হল রেশন পরিকাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।এ প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, রেশন দোকান গুলির যে অবস্থা তাতে কোনো ভাবেই বাড়ি গিয়ে রেশন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। পরিকাঠামোগত অভাবের পাশাপাশি, রেশন দোকান গুলো আর্থিক সংকটে ভুগছে। তাই প্রথম থেকেই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে এসেছেন তাঁরা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories