Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

স্কুল বাঁচাতে চপ শিল্পে আস্থা প্রধান শিক্ষকের ! লাভ হচ্ছে মোটা টাকা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

কোন কাজই যে ছোট নয় তা প্রমাণ করে দিয়েছেন একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। করোনা মহামারীর কারণে প্রায় দু’বছর স্কুল বন্ধ ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই নিম্নআয়ের অভিভাবকরা স্কুলের বেতন মেটাতে পারেননি। অপরদিকে স্কুলের শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের আর্থিক অবস্থা দিনের পর দিন খারাপ হতে থাকে। স্কুলকে টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষক আস্থা রাখেন চপ শিল্পে। প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি চপের দোকান চালাচ্ছেন। এই দোকানে তেলেভাজার পাশাপাশি মিষ্টিও পাওয়া যায়।

চপ আর মিষ্টি বিক্রির লাভের টাকায় বেতন পাচ্ছেন প্রায় ১৫ জন শিক্ষিকা এবং ৬ জন শিক্ষা কর্মী। ঝাড়গ্রাম শহরের একটি বেসরকারি নার্সারি স্কুল চালান প্রধান শিক্ষক তিমির মল্লিক। স্কুলে যে শিশুরা পড়তে আসে তারা মূলত আদিবাসী-মুলবাসী । দু’বছর লকডাউন থাকাকালীন স্কুল চালাতে অনলাইন পড়াশোনাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু বেশিরভাগ অভিভাবকের কাছে স্মার্টফোন না থাকায় স্কুলের বহু শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে পারেনি । উপরন্তু স্কুলে শিক্ষিকাদের ফোনের রিচার্জ পর্যন্ত করে দিতে হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

প্রায় দুই বছরে পড়ুয়া সংখ্যা কমে গিয়ে প্রায় তলানীতে ঠেকেছে। অনেক অভিভাবকই স্কুলের বেতন মেটাতে পারেননি। স্কুল বন্ধ হতে বসেছিল তাই আর কোন উপায় না দেখে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ৫৩ বছর বয়সি তিমির মল্লিক চপ আর মিষ্টির দোকান খোলেন , আর সেই টাকা দিয়েই মেটাতে থাকেন শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের বেতন। এই বেসরকারি স্কুলটি দুটি শাখা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। একটি ছিল বাংলা মাধ্যম এবং অপরটি ইংরেজি মাধ্যম। দুটি শাখা মিলে করোনার আগে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাতশ। কিন্তু করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর ঝড়ের বেগে বাড়তে থাকে স্কুলছুটের সংখ্যা। ওই শহরের পুরুষোত্তমপুরে প্রধান শিক্ষকের তিন কাঠা জমি ছিল ।

তিনি সেখানেই স্কুল বাঁচাতে তৈরি করেন চপ মিষ্টির দোকান, নিজের হাতেই ভাজতে থাকেন সিঙ্গারা তেলে ভাজা। এছাড়াও আছে রসগোল্লা, পান্তুয়া , কচুরি , ইডলি, মিষ্টি দই, ভেজিটেবিল চপ, চিকেন চপ, চিকেন চাওমিন, চা আরো কত কি। এই প্রধান শিক্ষকের মতে শুধু চপ শিল্পে নয়, যে কোনো কাজেই নিষ্ঠাভরে পরিশ্রম করলে অবশ্যই সফলতা পাওয়া যায়। স্কুলেরই এক শিক্ষাকর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন, তার চিকিৎসায় এই প্রধান শিক্ষক আর্থিক সাহায্য করেছেন। আপাতত তিনি স্বপ্ন দেখছেন এই দোকান লাগোয়া আরেকটি আদিবাসী-মুলবাসী শিশুদের জন্য অবৈতনিক স্কুল খোলার।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories