Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অগ্নিদগ্ধ শরীর, মাথায় আঘাতের চিহ্ন..’ সংসারটা করতে চেয়েছিলাম’ বললেন গৃহবধূ

।। প্রথম কলকাতা।।

বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এই গৃহবধূ, দিনের পর দিন তাঁর উপরে চলতে থাকে অত্যাচার। কিন্তু তারপরেও মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছেন তিনি। তাতেও রেহাই পাওয়া গেল না। বিয়ের পাঁচ বছর পর গৃহবধূর গায়ে আগুন ধরিয়ে তাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হল। তারপর নিজে জলে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলে তাঁকে জলে ডুবিয়েই খুন করার চেষ্টা করল স্বামী। এমন মর্মান্তিক পরিণতি, এরপরেও ওই গৃহবধূ বললেন, ” ভালোই তো বাসতাম। সংসারটা করতে চেয়েছিলাম বাচ্চা গুলোর দিকে তাকিয়ে”

এই গৃহবধূর নাম হালিমা সেখ। প্রায় ৫ বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোপালপুর পঞ্চায়েতের ধর্মতলা এলাকার বাসিন্দা শাহজামালের সঙ্গে বিবাহ হয় তাঁর। বিয়ের পর থেকেই শাহজামাল হালিমাকে মারধর করতো। তাঁর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত। এছাড়াও বহুমূল্য সমস্ত জিনিসপত্র বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য অত্যাচার করতো। প্রতিবাদ করলে বেধড়ক মারধর মিলত শাশুড়ির তরফ থেকেও। তারপর এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন হালিমা। ভেবেছিলেন এবার হয়তো অত্যাচার কিছুটা হলেও কমবে।

কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না । দিনের পর দিন অত্যাচার আরও বাড়তে শুরু করল। তাই সহ্য করতে না পেরে মাঝেমধ্যে নিজের বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকতেন হালিমা। কিন্তু শাহজামাল তাকে বুঝিয়ে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে আসতো । এরপর হালিমা আরও এক সন্তানের জন্ম দেন। পাশাপাশি অত্যাচারেরও সীমা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে প্রতিবাদ করা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাপের বাড়িতে আসতেন না । শাহজামালও তাঁর বাপের বাড়ির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে নি।

বুধবার হালিমার বাপের বাড়ির লোকেরা জানতে পারেন যে হালিমা গুরুতর অসুস্থ। তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখেন তাদের মেয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। তাঁর শরীর জলে ভেজা ,মাথায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। প্রতিবেশীর সূত্রে জানা যায় ,প্রথমে হালিমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার চেষ্টা করা হয় । আর তারপরে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই আগুন নেভানোর জন্য হালিমা বাড়ির কাছে একটি পুকুরে গিয়ে ঝাঁপ দেন। কিন্তু সেখানেও রেহাই পাননি। তাকে জলের মধ্যে ডুবিয়ে খুন করার চেষ্টা করে শাহজামাল । এই দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে আসেন।

আর তখনই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় শাহজামাল। জানা যায়, আপাতত নিখোঁজ শাহজামালের মা অর্থাৎ হালিমার শাশুড়ি । গোটা বিষয়টি জানিয়ে ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় হালিমার পরিবারের তরফ থেকে । বর্তমানে হালিমা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জানা যায় । কিন্তু তাঁর পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মৃত্যু যেন দোরগোড়ায়, তারপরও সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন তিনি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories