Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মমতার সব চেষ্টা ব্যর্থ, কোর্ট নাটক ধরে ফেলেছে – হাঁটে হাড়ি ভাঙলেন রাহুল

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

গত বৃহস্পতিবার বগতুই গ্রামে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন, যাদের ঘরবাড়ি পুড়ে গিয়েছে, তাদের সকলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। স্বজনহারা দশটি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনারুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিরোধীদের প্রশ্ন, ঘটনা ঘটে যাবার কিছুদিন পরে কেন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলেন? প্রথমেই কেন তিনি ঘটনাস্থলে যান নি? বিষয়টি কী সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদেশ্যমূলক? এবার এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহার সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি রোজিনা রহমান।

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার সপাটে প্রশ্ন, বগতুই কান্ড ঘটে যাবার চারদিন পর মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গেলেন কেন? মনে যদি তাঁর বেদনা হতো, তাহলে ফিরহাদ হাকিমকে না পাঠিয়ে তিনি নিজেই সেদিন সেখানে যেতেন। কিন্তু তিনি গেলেন না কেন? তিনি মনে করেছিলেন, ব্যাপারটি হাতের বাইরে যাবে না, নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়া যাবে। হাওড়ায় মৃত্যু হল আনিস খানের। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাননি কেন? কারণ তিনি জানতেন, ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলবেন, করেওছেন।

রাহুল সিনহা জানালেন, রামপুরহাট কাণ্ডেও তিনি যেতেন না, যদি না কোর্টের রায় থাকতো গতকাল। আদালতকে প্রভাবিত করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার চতুর্থ দিন সেখানে গেলেন। এখানে-সেখানে তদন্ত, একে-তাকে সাসপেন্ড, গ্রেপ্তার, একে টাকা, তাকে চাকরি দুনিয়ার প্রতিশ্রুতির নাটক করলেন কেন? যাতে আদালত বোঝে, সরকার ঠিকঠাক কাজ করছে। অতএব সরকারকে কাজ করতে দেওয়া দরকার। সিটের তদন্ত চলুক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারেননি যে, কোর্ট তাঁর নাটক ধরে ফেলেছে।

সিট যাদেরকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা কী তদন্ত করবে? সমস্ত তৎপরতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখা গেছে হাইকোর্টকে প্রভাবিত করে সিবিআই তদন্তের আদেশ যাতে না দেয়। তার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত আইন মোতাবেক যা দরকার সেই আদেশই দিয়েছে। সারা বাংলার মানুষ সিবিআই তদন্ত চান।

আদালত রাজ্যের আপত্তি সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ফরেনসিক দলকে সেখানে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল, যা থেকে বোঝা যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেও দিতে পারে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে যাওয়ার পেছনে সব চেয়ে বড় কারন হলো কাজ করবার নাটক দেখিয়ে সিবিআই তদন্তকে যাতে আটকানো যায়। যাতে আদালতের রায়কে প্রভাবিত করা যায়। কিন্তু আইন সোজা রাস্তায় চলে, আঁকাবাঁকা পথে চলে না। যেটা হওয়ার ছিলো সেটাই হলো।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories