Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কর্নাটকের হিজাব বিতর্ক ছড়াচ্ছে রাজ্যে, বিক্ষোভ মিছিল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

কর্নাটকের হিজাব বিতর্ক রীতিমতো ছড়িয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছিল ১৪৪ ধারা। কিন্তু তাতেও কোনো মতেই থামছেনা হিজাব বিতর্ক। হিজাব পড়ে স্কুল কলেজে প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। সেই বিক্ষোভ এ পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে পাল্টা পুলিশের লাঠিচার্জ সব কিছুই ঘটেছে। তার জের এবার দেখা গেল কলকাতা মহানগরীতে। মঙ্গলবার দুপুর ১ টা নাগাদ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে হিজাবকে সমর্থন করে বিক্ষোভ মিছিলে নামলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।

ঘটনার সূত্রপাত কর্নাটকের উদিপি জেলার এক সরকারি কলেজে। সেখানে ৬ জন মুসলিম ছাত্রী হিজাব পড়ে ক্লাসে আসেন। কিন্তু সরকারি প্রি- ইউনিভার্সিটি কলেজের শ্রেণিকক্ষে হিজাব পড়ে আসা ছাত্রীদের কলেজ চত্বর থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। তারপরই হিজাব সংক্রান্ত বিতর্ক-বিবাদ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জায়গায়। কোথাও পুলিশের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘর্ষ চোখে পরে আবার কোথাও অভিভাবকদের পাথর ছোঁড়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আজ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দেখা যায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে। তাদের দাবি, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক অধিকার রয়েছে। সেখানে সে কী পড়বে না পড়বে বা কী করবে তা পুরোপুরি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। তাতে বাধা দেওয়া মানে তাঁর মৌলিক অধিকারকে খর্ব করা। এছাড়াও তাঁরা বলেন, দেশের একজন প্রশাসক যদি গেরুয়া বসন পড়ে দেশ শাসন করতে পারে, তাহলে দেশের স্বাধীন নাগরিক হওয়ায় স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা হিজাব পড়ে যেতেই পারে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং আরএসএস। যার বিরোধিতা করে আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

হিজাব বিতর্কে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকেও গতকাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। এমনকি কর্নাটকের এই নিন্দনীয় ঘটনার বিরোধিতা করে সুর চড়াতে দেখা গেল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। তিনি বলেন, বিকিনি হোক বা ঘোমটা হোক কিংবা জিন্স অথবা হিজাব হোক, একজন নারী কী পড়তে চান সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ওই নারীর। এইভাবে নারীদের হয়রানি বন্ধ হোক।

অন্যদিকে নোবেলজয়ী সমাজ কর্মী মালালা ইউসুফজাই মুখ খুলেছেন হিজাব বিতর্ক নিয়ে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহিলাদেরকে তাদের পড়াশোনা এবং হিজাবের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে। যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ভারতীয় নেতাদের অবশ্যই মুসলিম নারীদের প্রান্তিকীকরণ করার এই প্রচেষ্টাকে বন্ধ করতে হবে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories