Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হিজাব বিতর্কে কর্নাটকে তুলকালাম! আপনি কোন দিকে? প্রশ্ন ছুঁড়লেন দেবাংশু

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

কর্নাটকে একেবারে তুলকালাম বাঁধিয়ে দিয়েছে হিজাব বিতর্ক। কিছুদিন আগে কর্নাটকের উদুপি জেলার একটি কলেজে হিজাব পরিহিত কয়েকজন ছাত্রীকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়েছিল, যাকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এরপর সেরাজ্যের একাধিক স্কুল,কলেজে হিজাব পরে ঢুকতে গেলে বাধা দেয়া হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে দিলেও তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে, সকলের সঙ্গে বসতে না দিয়ে, আলাদা ঘরে বসানো হয়েছে। কোথাও আবার, মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরার প্রতিবাদে হিন্দু ছাত্রীদের গেরুয়া উত্তরীয় পরে স্কুল, কলেজে ঢুকতে দেখা গেছে। কখনো স্কুল,কলেজ প্রাঙ্গণে শোনা গেছে জয় শ্রীরাম বনাম আল্লা হু আকবর স্লোগান।

এবার হিজাব বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন যুব তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। ফেসবুক লাইভে এসে হিজাব বিতর্ক প্রসঙ্গে নিজের অভিমত ব্যক্ত করলেন তিনি যুব তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য জানালেন, কর্নাটকে ধর্মীয় দাঙ্গা ঢুকে গেছে স্কুলের মধ্যে, স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের মধ্যে। নির্দেশিকা, মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরে স্কুলে যেতে পারবে না। জোর করে হিজাব পরে স্কুলে গেলে হিন্দু ছাত্র, ছাত্রীর তাদেরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছে, পাল্টা হিসেবে মুসলিম ছাত্র,ছাত্রীরা আল্লা হু আকবর শ্লোগান দিচ্ছে, এটাই চলছে। বারবার বলা হচ্ছে যে, স্কুল হচ্ছে একতার জায়গা, সেখানে সবাইকে সমান করা হয়, সবার এক ইউনিফর্ম তাই রাখা হয়। যাতে প্রত্যেকটা মানুষ এখানে গিয়ে সমান হতে পারে। এ কারণে বড়লোকের ঘরের মেয়ে বা টা গরীব ঘরের মেয়ে একই ইউনিফর্ম পরে আসে।

এই যুক্তি মানলে, সকলে যখন এক, তাহলে আলাদা করে কেন কেউ ধর্মীয় চিহ্ন হিজাব পরে আসবে? কিন্তু কিছু জিজ্ঞাসা আছে। দেবাংশু ভট্টাচার্য জানালেন, বলা হচ্ছে হিজাব পড়ে কেউ স্কুলে আসবে না, সবাইকে স্কুলের ইউনিফর্ম পরতে হবে। তিনি জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়ির ছেলে, তাঁর পৈতা রয়েছে। সমস্ত নিয়ম পালন করেছিলেন তিনি পৈতার সময়ে। যখন তিনি স্কুলে গিয়েছিলেন, তাঁর পৈতা, হাতে তাগা থাকতো, তাঁর শিখ বন্ধুরা পাগড়ি পরে স্কুলে, কলেজে যেতেন। পাশের গার্লস স্কুলে ইলেভেন, টুয়েলভের কিছু মেয়ে, যাদের বিয়ে হয়ে যেত, তাঁদের হাতে শাঁখা, কপালে সিঁদুর থাকতো। তাই যদি কোন স্পেসিফিক আইডেন্টিটি বাদ দিয়ে স্কুলে আসতে হয়, সমান হওয়ার জন্য, তাহলে শিখদের যেমন পাগড়ি পড়ে যাওয়া ঠিক নয়, বিবাহিত বোনেদের স্কুলে বা কলেজে শাঁখা-সিঁদুর পরে যাওয়াও ঠিক নয়।

কিংবা টিকি রেখে, ন্যাড়া হয়েও যাওয়া উচিত নয়। যদি বন্ধই হয়, তবে সবটাই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আর যদি চালু থাকে, তাহলে সবটাই চালু থাকা উচিত। শুধুমাত্র হিজাব নিয়ে কেন বিতর্ক? আসলে কর্নাটকে বিজেপি খুব ভালোভাবেই জানে যে, সেখানে তাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নেই। আগামী নির্বাচনে পরাজিত হবে, তাই ধর্মীয় ভাবে এমন ভাবে একটা ইস্যু করা হচ্ছে, মানুষ যাতে নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাবে।স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠবে, স্কুলে কেন হিজাব পরে আসবে? সেকুলার মানুষও ভাববেন, মুসলিম বাড়ির মেয়ে হিজাব পরে স্কুলে যাবে, এটা চলতে পারে না। এরপর বিজেপি নেতারা বুদ্ধি দেবেন, মুসলিম মেয়েরা হিজাব স্কুলে হিজাব পড়ে যাচ্ছে, হিন্দু মেয়েরা গেরুয়া উত্তরীয় পরে স্কুলে যাক, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিক, অনেকেই তখন ভাববেন, সব পরে আগে ধর্ম।

দেবাংশু ভট্টাচার্য জানালেন, সকলেই দেখতে পেয়েছেন,ধর্মীয় মেরুকরণ বা নোংরা ধর্মীয় তাস এতদিন খেলা হচ্ছিল একটু বয়স্কদের মধ্যে, অন্তত যাদের ভোটাধিকার রয়েছে, এখন স্কুলে পর্যন্ত এই বিষ ঢেলে দেওয়া হলো। স্কুলের ভেতরে জয় শ্রীরাম স্লোগান, আল্লা হু আকবার স্লোগান উড়ছে, যা থেকেই প্রমাণ হয় কোন রাষ্ট্রনেতার হাতে দেশটাকে ছাড়া হয়েছে? এর থেকে বড় প্রমাণ আর কি চাই? এটাই নিউ ইন্ডিয়া, যেখানে স্কুলের মধ্যে জয় শ্রীরাম, আল্লা হু আকবার স্লোগান ওঠে। যদি বন্ধই করার হয়, তবে সমস্ত রকম প্রতীক বন্ধ করা উচিত। স্কুলে একজনেরটা চালু থাকবে, একজনেরটা থাকবে না, এটা হতে পারে না। এটা সরাসরি ও সোজাসুজি রাজনৈতিক দলের দ্বারা ধর্মীয় মেরুকরণ। যে দেশে স্কুলের মধ্যে জয় শ্রী রাম, আল্লা হু আকবার স্লোগান ওঠে, সে দেশ কখনো এপিজে আবদুল কালাম পেতে পারে না। সে দেশের কপালে আশারাম, রামরহিমই জুটবে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories