Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে মহিলার জায়গায় নামিয়ে এনেছেন – কটাক্ষ ফিরহাদের

।। প্রথম কলকাতা ।।

আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি রাজ্যের যে চারটি কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নির্বাচন, তার মধ্যে অন্যতম হল শিলিগুড়ি। এখন যেখানে চলছে জোরদার প্রচার পর্ব। এই আবহে নির্বাচনের প্রচারের উদ্দেশ্যে শিলিগুড়িতে এলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গতকাল বাগডোগরা বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। শিলিগুড়ির একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের হয়ে জোরদার প্রচার করলেন তিনি। এরপর তিনি সাংবাদিক বৈঠক করলেন। গণমাধ্যমে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানালেন, শিলিগুড়িতে তিনি প্রচারের জন্য এসেছেন। চারটি জায়গায় তিনি বৈঠক করেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ড নিয়ে।

তিনি জানালেন, তাঁর উপলব্ধি, শিলিগুড়ির মানুষ তৃণমূলের হাতেই সেখানকার পুরবোর্ড তুলে দিতে চাইছেন। তার কারণ শিলিগুড়ির মানুষ কংগ্রেসকে, দীর্ঘদিন ধরে সিপিএমকে, আবার শিলিগুড়ির সাংসদ ও বিধায়ক দুজনেই বিজেপি – তাঁদেরকে দেখে নিয়েছেন। শিলিগুড়ির মানুষ এটাও দেখছেন যে, সারা বাংলা জুড়ে কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে? কিভাবে মানুষ প্রগতির সাথে আছে? মানুষের প্রয়োজন কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার দিচ্ছে? তাই অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন। বিজেপি নেতারা শিলিগুড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে, তাঁর উপলব্ধি শিলিগুড়ির মানুষ ঠিক করেই ফেলেছেন। যেমন একসময় দিনহাটার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন।

তারপর উপনির্বাচনে দেখা গেল রেকর্ড মার্জিনে,পশ্চিমবঙ্গে যা কোনদিন হয়নি, জিতেছে তৃণমূল। সেভাবে দেরিতে হলেও শিলিগুড়ির মানুষ এবার পুরবোর্ড তৃণমূল কংগ্রেসের তুলে দেবেন। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের সেবা করতে চায়। তৃণমূলকে সেই সুযোগ দেওয়া হোক। শিলিগুড়িকে কলকাতার মত নতুন ভাবে তাঁরা সাজাতে চান। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী ‘কোম্পানির কর্মচারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন ফিরহাদ হাকিমকে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, পরচর্চা ভদ্রলোকের কাজ নয়, কিছু কিছু বাড়ির মহিলারা করেন, শুভেন্দু অধিকারী এখন নিজেকে সেই জায়গায় নামিয়ে এনেছেন। পরচর্চা কোনদিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা করেন না। তাঁর দলের মধ্যে কী হলো? সেটা তাঁর ব্যাপার। যতদিন তিনি তৃণমূলে ছিলেন, ততদিন নিশ্চিতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি পাল্টি খেয়ে গেছেন।

এখন আর তিনি বলতে পারেন না। ফিরহাদ হাকিম জানালেন, শুভেন্দু অধিকারী হয়তো নিজেকে কর্মচারী বলে ভাবতেন। কিন্তু তাঁরা নিজেদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মচারী ভাবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ, সততা, নিষ্ঠা নিয়ে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে থাকেন, তাঁর দল করেন। তাঁরা নিজেদেরকে কর্মচারী বলে মনে করেন না। নিজেদের তৃণমূলের কর্মী, তৃণমূলের সৈনিক মনে করেন। তাই কর্মচারী বলে নিজেকে অপমান না করতে। তাঁরা সৈনিক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শের জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত আছেন তাঁরা। এভাবেই শুভেন্দু অধিকারীকে পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসকে বারবার কম্পানি বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী আর কোম্পানির মালিক বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার তারই মোক্ষম জবাব দিলেন তিনি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories