Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দেউচা-পাঁচামিতে সরকারের ‘পুনর্বাসন প্যাকেজ’, প্রত্যাখ্যান আদিবাসী সম্প্রদায়ের

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

দেউচা-পাঁচামি-হরিণশিঙ্গা-দেওয়ানগঞ্জ অঞ্চলে রাজ্য সরকারের একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যে আদিবাসী সম্প্রদায় এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়ে গিয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হল এই অঞ্চলে তৈরি করা হবে কয়লা খনি। যার জন্য প্রয়োজন জমি। আর সেই জমি দেবেন কারা? অবশ্যই সেখানে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। কিন্তু সেই জমি অর্থাৎ তাদের নিজেদের জমি সরকারের হাতে প্রকল্পের জন্য তুলে দিতে রাজি নন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত প্রকল্পের তাদের ‘না’ রীতিমতো সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের অত্যাচারের মুখে ফেলেছে তাদের। প্রথমে যখন কোন ভাবেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জমি নেওয়া গেল না তখন সরকার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হল একটি আকর্ষণীয় প্যাকেজের। জমি দিলেই পাওয়া যাবে সরকারি চাকরি। কিন্তু এই প্রলোভনেও পা দেয়নি আদিবাসী সম্প্রদায়। কারণ জমি সঙ্গে তাদের সংস্কৃতি যে আত্মিক টান রয়েছে তা বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে কিছুটা মুশকিল। ফলে সরকারের তরফ থেকে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচার চালানো হয় যে তাঁরা স্বেচ্ছায় জমি দিচ্ছেন। তবে ঠিক তাঁর উল্টো কাজ করা হয় সেখানে। রাজনৈতিকভাবে এবং পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বল প্রয়োগ করা হয় গ্রামবাসীদের উপর। তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় নিজেদের জমি সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেখানে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় এবং বাঙালি গ্রামবাসীদের আন্দোলনের জন্য গড়ে তোলা হয় একটি যৌথ মঞ্চ। যা ‘বীরভূম জমি জীবন-জীবিকা ও প্রকৃতি বাঁচাও মহাসভা’ নাম নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই মঞ্চে রয়েছেন সেই সকল সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দা যাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হচ্ছে জমি অধিগ্রহণের জন্য। উদ্দেশ্য প্রস্তাবিত কয়লা খনি তৈরি। এই যৌথ মঞ্চের তরফ থেকেই মঙ্গলবার কলকাতা প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে সামনে রেখে আসলে যা ঘটে চলেছে তাদের সঙ্গে সেই সকল বিষয় গুলি কে প্রকাশ করেন। সাথে সাথে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকারের প্রলোভন ‘পুনর্বাসন প্যাকেজ’ তাঁরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিন এই যৌথ মঞ্চের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কিষান আন্দোলনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিক সাহা। তিনি জানান, দেউচা- পাঁচামি-হরিণশিঙ্গা-দেওয়ানগঞ্জ অঞ্চলে যে কয়লা খনির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তাঁর জন্য জোর করে কোন জমি নেওয়া হবেনা এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী তরফ থেকে। কিন্তু বাস্তবে এমন হচ্ছে না। বীরভূম জেলার পুলিশ প্রশাসন এবং শাসক তৃণমূল কংগ্রেস নানারকম ছলচাতুরি, তথ্যের কারচুপি ,হুমকি এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গ্রামবাসীদেরকে তাদের জমি হস্তান্তর করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। উপরন্তু এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্প্রচার করা হচ্ছে যে তাঁরা ‘স্বেচ্ছায়’ তাদের জমি সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এর প্রতিবাদ করতেই এবং আসল তথ্য সর্বসাধারণের সামনে আনতে আজকে এই যৌথ মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যখন কেউ তথ্যের কারচুপি করে বা আসল তথ্য সামনে আনতে চায় না তখন সেই বিষয়ে তাঁর কোনো খারাপ অভিসন্ধি রয়েছে, সেটা মেনে নেওয়াই স্বাভাবিক। তবে একপক্ষের কথা না শুনে তিনি গ্রামবাসীদের কাছে গিয়ে তাদের মতামত জেনেছিলেন বলে জানান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা কোন ভাবেই তাদের আদি বাসস্থান সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজি নয়। কয়লা খনি তৈরি করার জন্য তো কোনভাবেই না। কারণ শুধুমাত্র চাষ করার কাজে তাঁরা জমি ব্যবহার করেন না, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে বন, জঙ্গল এবং জমি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

সরকারের প্রস্তাবকে নাকচ করার ফলে তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি গ্রামের মহিলাদের উপর মারধর করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীদের তরফ থেকে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে এই আন্দোলন করা হয়েছিল। সেই মৌখিক আন্দোলনের পাল্টা জবাবে পুলিশ প্রশাসন মহিলাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। সেখানে কোন মহিলা পুলিশ উপস্থিত ছিল না বলেও জানান তিনি। যা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল ক্ষোভ। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প কোনভাবেই মানবেন না সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। আর স্থানীয় গ্রামবাসী এবং মহিলাদের উপর পুলিশ প্রশাসনের অত্যাচার হয়েছে তার জন্য তাঁরা ভবিষ্যতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবে আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয় ‘বীরভূম জমি, জীবন-জীবিকাও প্রকৃতি বাঁচাও মহাসভা’ এর তরফ থেকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories