Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘ভোটে রণেভঙ্গ দিয়ে, ঘরে বসে তৃণমূলকে ওয়াকওভার দিচ্ছে বিজেপি’, অভিযোগ জয়প্রকাশের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সম্প্রতি দল বিরোধী বক্তব্য রাখার অভিযোগে বিজেপি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়প্রকাশ মজুমদারকে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে বিজেপির ঘটেছে ভরাডুবি। সম্প্রতি নির্বাচন রয়েছে বিধান নগর সহ ৪ টি করপোরেশনে। বিধাননগরে কেমন ফল করতে পারে বিজেপি? বারবার অন্তর্দ্বন্দ্বের পটভূমিতে রাজ্য বিজেপির ভেতরের অবস্থা এখন ঠিক কেমন? এ প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি রোজিনা রহমান।

দলটার সর্বনাশ হয়ে গেছে

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়প্রকাশ মজুমদার একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, বিজেপি দলটার সর্বনাশ করে দিয়েছেন কিছু লোকেরা। যারা বিজেপির নীতি,আদর্শ জানেন না, জানেন শুধু বিজেপিতে করে খাওয়া যাবে। এঁরাই নষ্ট করে দিয়েছেন দলটাকে।

সকলে এক সময় তৃণমূলে ডালে- ঝোলে-অম্বলে

বিধান নগরের পুর নির্বাচনে একজন বিজেপি সাংসদকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধান নগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে যিনি তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন, এই ওয়ার্ডে যিনি বিজেপির হয়ে লড়ছেন, আর এই সাংসদ-এঁরা সকলে এক সময় ডালে- ঝোলে-অম্বলে ছিলেন। আজ দেখা যাচ্ছে সব্যসাচী দত্ত দারুন ভাবে প্রচার করছেন। কিন্তু ঘুরেও কেউ জানতে পারবেন না যে, এখানকার বিজেপি প্রার্থী কে? আগেই কি সেটিং হয়ে গেছে? প্রশ্ন করেছেন তিনি।

ভেতরে ভেতরে তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং

জয়প্রকাশ মজুমদার জানালেন, তিনি আগেই জানতে পেরে গেছেন, ভেতরের খবর পেয়ে গেছেন। যারা বড় বড় কথা বলছেন, বাইরে তাঁরা বিজেপি, ভেতরে ভেতরে তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করে এই ব্যবস্থা করেছেন। এটা তো চাক্ষুষ সামনে দেখা যাচ্ছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি দীর্ঘসময় ধরে আছেন বলেই বিষয়টি তিনি জানেন। পূর্বে তিনি কংগ্রেসের বিধান নগর টাউন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিধান নগরে কোনায় কোনায়, কারা কারা রাজনীতি করেন, কীভাবে করেন? তিনি জানেন।

সামনে শুধু বড় বড় কথা

একসময় সিপিএমের বোর্ড ছিল এখানে, তৃণমূল আসার আগে ১৯৯৫ সালে এখানে তিনি কংগ্রেসের হয়ে ভোট পরিচালনা করেছিলেন। সুতরাং তিনি এখানকার অবস্থা জানেন। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে যে লড়াই এখন হচ্ছে, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভেতরে গলদ রয়েছে। ভেতরে ভেতরে টাকা-পয়সা আরও কিছু। যাঁরা করছেন, তাঁদের দলের জন্য প্রাণ কাঁদে না। কিন্তু সামনে এসে বড় বড় কথা বলেন।

তৃণমূলকে ওয়াকওভার দিচ্ছে বিজেপি

বিধান নগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের এই নির্বাচন একটা অভূতপূর্ব নির্বাচন। একদিকে মেয়রপ্রার্থী, আগে মেয়র ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। আগে মেয়র ইন কাউন্সিল ছিলেন তৃণমূলের দেবাশীষ জানা, এখন বিজেপির প্রার্থী, আর মাথার ওপরে নিয়ন্ত্রক এমন একজন, যিনি আগে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, এখন বিজেপি সাংসদ, বিজেপির সহ-সভাপতি। তার পরিণতি হচ্ছে বিজেপি এখানে রণেভঙ্গ দিয়ে ঘরে ঢুকে বসে আছে, তৃণমূলকে ওয়াকওভার দিচ্ছে। এটাই গল্প।

কটা হোর্ডিং, পোস্টার নেই

জয়প্রকাশ মজুমদার জানালেন, দেবাশীষ জানা চার বারের কাউন্সিলর, মেয়র ইন কাউন্সিল, কিন্তু তাঁর একটা হোর্ডিং, একটা পোস্টার দেখা যায় না, একটা ক্যাম্পেনও করেননি। ভোট দেখার দায়িত্ব ব্যারাকপুরের সাংসদের, বিজেপির রাজ্য অফিস এই আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু বিধান নগর সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। তিনি কোথায়? একদিন এসেছেন তারপর পার্লামেন্টে চলে গেছেন।

বিজেপির কোনো চেষ্টাই নেই

জয়প্রকাশ মজুমদার জানালেন, এখানে বিজেপি এগিয়েছিল, গত নির্বাচনে সব্যসাচী দত্ত হেরে গেলেও এই ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল। আজকে এই অবস্থা। দায়িত্বে তৃণমূল থেকে আসা সাংসদ, তৃণমূল থেকে আসা একজন বিজেপির প্রার্থী, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে, আবার তৃণমূলে ফেরা সব্যসাচী দত্ত তৃণমূল প্রার্থী। বিজেপি ক্যান্ডিডেটের কোনো প্রচারই নেই, কোন বাড়ী যায়নি বিজেপি, কোনো চেষ্টা নেই। এসব দেখে মনে হচ্ছে পুরোটাই সেটিং।

এভাবেই বিধাননগরের পুর নির্বাচনে বিজেপির সম্ভাবনা, তথা রাজ্য বিজেপির আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একেবারে বোমা ফাটালেন জয়প্রকাশ মজুমদার। দলের এই পরিস্থিতির জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করতেও দেখা গেল তাঁকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories