Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘লতাজির ভাইকে কর্মচ্যুত করতে একবারও ভাবেনি কংগ্রেস’: নরেন্দ্র মোদী

।।প্রথম কলকাতা।।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ধন্যবাদ প্রস্তাবের বিতর্কের জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীদের উপর সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বতন্ত্রতার কথা বলে কংগ্রেস। কিন্তু ইতিহাস কিন্তু একে সমর্থন করছে না। পছন্দসই কাজ না করলে কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও সরিয়ে দেওয়ার আগে একবারও চিন্তা করে না এই পরিবারতান্ত্রিক দলটি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সকলের প্রিয় শ্রদ্ধেয় লতা মঙ্গেশকর মারা গিয়েছেন। গোটা ভারত আজ শোকে কাতর। কংগ্রেস এই কিংবদন্তি শিল্পীর পরিবারের প্রতিও আঘাত হেনেছিল।’

ব্যক্তি স্বতন্ত্রতা প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমি আজ তুলে ধরব সেই ইতিহাস, যেখানে দেখা যাচ্ছে ব্যক্তি স্বতন্ত্রতাকে বারবার কী ভাবে খর্ব করেছে কংগ্রেস।’ এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, লতা মঙ্গেশকরের পরিবারের কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লতা মঙ্গেশকরজির পরিবারের পূর্ব বাসস্থান ছিল গোয়ায়। ওনার পরিবারের সঙ্গে কংগ্রেস কেরকম ব্যবহার করেছে আমি সেটাই তুলে ধরতে চাই। এই বিষয়টি দেশকে জানতে হবে। লতা মঙ্গেশকরের ছোট ভাই পণ্ডিত হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর গোয়ার একজন কৃতী সন্তান। কিন্তু কংগ্রেস তাঁকে অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে বের করে দিয়েছিল।’

হৃদয়নাথকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে চাকরি করতেন। কিন্তু কেন তাঁকে বের করে দেওয়া হল? তাঁর দোষ ছিল, তিনি বীর সাভারকরের একটি দেশভক্তি কবিতা অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সম্প্রচার করেছিলেন।’ এরপর মোদী বলেন, ‘হৃদয়নাথ জি একটি সাক্ষাৎকারে নিজেই এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন। লতা দিদির ভাই বলেছিলেন, তিনি সাভারকরের কাছে গিয়ে বলেন, তাঁর একটি লেখায় তিনি সুর দিতে চান। সেই শুনে বীর সাভারকর বলেন, তুমি কি জেল যেতে চাও? তবুও হৃদয়নাথজি সাভারকরের একটি কবিতায় সুর দিয়ে সম্প্রচার করেন। আর এর আট দিনের মধ্যে তাঁকে অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসের নোংরা রাজনীতির শিকার শুধু হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর নন, এর ইতিহাস আরও বিস্তৃত। মজরু সুলতানপুরীর সঙ্গেও ঘটেছিল এমন ঘটনা। মোদী বলেন, ‘তিনি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে, এক বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, নেহরুর স্বভাব নিয়ে আলোচনা করার জন্য অধ্যাপক ধরমপালকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। কিশোর কুমার জরুরী অবস্থাকে সমর্থন করেননি এবং ইন্দিরা গান্ধীর সামনে মাথাও নত করেননি। আর তাই কিশোরের সব অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস সরকার। এ সবের মানে হল, একটি বিশেষ পরিবারের বিরুদ্ধাচারণ মানেই নেমে আসবে শাস্তির খাঁড়া।’ এখানেই না থেমে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘এই বিশেষ পরিবারের প্রতি চোখ ওঠালে বা সমালোচনা করলে কী হয়, তার প্রমাণ সীতারাম কেশরী। কংগ্রেসের এই প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে কী হয়েছিল, সেটা সবাই জানেন।’

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories