Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘পায়ের চটির মতো যখন তখন বিধায়ক পদ ছেড়ে দিতে পারি’-স্পষ্ট কথা মদনের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে বারবার মুখ খুলছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন তিনি মুখ খুলেছেন, তেমনি মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের বিরুদ্ধেও। পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি বলেছেন, তিনি হয়তো দলের লোকদেরই চেনেন না। আবার, নাম না করেও সৌগত রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কতবার তিনি দল পাল্টেছেন তার ঠিক নেই। কিন্তু এর পরেও তিনি তৃণমূলে বড় পদ পেয়েছেন। এবার ফেসবুক লাইভে এসে দলের একাংশের বিরুদ্ধে প্রবল কটাক্ষ করলেন মদন মিত্র। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, চাইলে নিজের বিধায়ক পদ পায়ের মতো তিনি ছেড়ে দিতে পারেন।

ফেসবুক লাইভে দলের একাংশকে প্রবল কটাক্ষ করে মদন মিত্র জানান, কেন মিছেমিছে গায়ে মাখছেন? অনেকে বলছেন মদন মিত্র এটা করেছেন, ওটা করেছেন, তাঁর প্রশ্ন- তিনি কী করেছেন? তিনি কি চুরি করেছেন? চুরি করলে সিবিআই যদি বাপের বেটা হতো, তবে জেলে তাঁকে ছুঁতে পারতো না। যদি নারোদায় চুরি করতেন, তাহলে ৩৭ হাজার ভোটে কী নির্বাচনে জিততে পারতেন? কিছুই তিনি করেননি। কিন্তু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাপ তোলা হচ্ছে।

তার চেয়ে তাঁকে বলে দেওয়া হোক যে,পার্টি অফিসে না আসতে, তিনি আর যাবেন না। কিংবা তিনি বাড়ির পার্টি অফিসের বাইরে যাবেন না। ভবানীপুরের উপনির্বাচনের সময়ে তাঁকে বুথ দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি তা করেছিলেন। সবথেকে বেশি তাঁর বুথ থেকেই ভবানীপুরে ভোট এসেছিল। তাঁকে পছন্দ না হলে বলে দিতে, ঘুরিয়ে- ফিরিয়ে কেন বলা হচ্ছে তাঁকে না আসতে।

মদন মিত্র জানান, তাঁকে যদি বিধায়ক পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়, তিনি ছেড়ে দিতে রাজি আছেন। পায়ের চটির মতো যখন-তখন তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দিতে পারেন। মদন মিত্রকে ভুল বুঝছেন কেউ কেউ। কামারহাটির পরিস্থিতি খুব খারাপ। গন্ডগোল হচ্ছে সেখানে। কামরহাটির দায়িত্বে ছিলেন যিনি, তিনি ইচ্ছে করে কামারহাটিকে খারাপ দেখাতে চান? দেখাতে চান মদন মিত্রর দোষ আছে। তাঁর জন্যই এসব হচ্ছে। কিন্তু এসব কিছুই নেই। তৃণমূল নেতা গোপাল সাহাকে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

মদন মিত্র জানান, শুধু বার খেয়ে আর পিনবাজি করে, যা ইচ্ছে তাই বলে, দলের দু-একটা নেতাকে ফিট রেখে, পান, ঝালমুড়ি পৌঁছে দিয়ে কি ক্ষমতা রাখা যায়? কপাল অনেক বড়। তবে, তিনি এটাও জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাল হয়তো বলে দিতে পারেন মদন মিত্র যা বলেছে সেটাই শেষ কথা।

মদন মিত্র জানান, যেদিন তিনি গিয়েছিলেন সিবিআইয়ে, সবাই কেমন যেন ঘেন্না করেছিলেন তাঁকে। তাঁর পাশের ঘরে একজন সাংসদ যখনই শুনেছেন যে, মদন মিত্র আছেন, তখনই তিনি বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁকে তো একা ডাকে নি ইডি বা সিবিআই। ইডি ও সিবিআই বিজেপির দুই ভাই। বাংলার সবাইকে ডেকেছে। কিন্তু তিনি কারও সম্পর্কে বলছেন না।

তিনি বলছেন, বাংলার শ্রেষ্ঠ মেয়রের নাম ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বলতে কোন ভয় নেই। মুখ্যমন্ত্রী যদি বলে দেন যে, তাঁর বাড়ির গেটে থাকা পুলিশের হাতে সব জিনিস দিতে, তবে তিনি তাই করবেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দলে কাজ করেন, অবৈতনিক। তবে, অবৈতনিক ঠিক নয়, কারণ মাইনে পান। তবে কত মাইনে পান? তা তিনি জানেন না। তবে, যদি তিনি থাকলে কারোর মুখ গোমরা হয়েছে, তাঁকে দেখলে মুখ প্যাঁচার মতো করছেন, তাহলে তাড়িয়ে দিন তাঁকে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories