Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘১২ তারিখে নীরবে তৃণমূলের কাছ থেকে স্লিপ নিতে হবে’, কী বোঝাতে চাইলেন শুভেন্দু ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি রাজ্যের যে চারটি পুর নিগমে ভোট রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বিধান নগর। গতকাল বিধাননগরে পুর ভোটের প্রচারে এসেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ আবার বিধান নগরে ভোটের প্রচারে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে জায়েন্ট কিলারের আভিধা পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। আজ ভোটের প্রচারে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একেরপর এক তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী।

আজ বিধান নগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী প্রমিতা সাহার সমর্থনে পথসভা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, বিধান নগর জুড়ে যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চলছে, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থীর ভাইকে গলায় ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, এভাবে গোটা বিধাননগর এলাকায় তৃণমূলের গুন্ডামি, কাটমানি খাওয়া কাউন্সিলরদের আবার জেতাবার জন্য যে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে বিধান নগর কমিশনারেটে বিক্ষোভ প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। তারপর একাধিক বাড়ি গিয়ে গৃহ সম্পর্ক অভিযান করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, তাঁরা উদাত্ত কণ্ঠে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা, এই রাজ্যের বেকারদের কথা, রাজ্যের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরবেন। তাঁরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাবার লোক নন। সিপিএমের সূর্য যখন মধ্যগগনে, গোটা পশ্চিম বাংলায় সিপিএম ছাড়া আর কিছুই নেই। সেসময় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ভোটে লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে ছিলেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সূর্য যখন মধ্যগগনে সেসময়, নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ টি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। তাই ভয় দেখিয়ে, চমকে আর কাউকে ভয় দেখানো গেলেও শুভেন্দু অধিকারীকে নয়।

শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, বিধান নগর কর্পোরেশনে নূন্যতম নাগরিক পরিষেবা দেওয়া হয় না। উল্টো দিকে ট্রেড লাইসেন্সের ফি থেকে শুরু করে, বিল্ডিং, মিউটেশন কর, এমনকি ইলেকট্রিক বিলের রেট অনেক বেশি। কেন্দ্রীয় সরকার যখন স্মার্ট সিটি, গ্রীন সিটি মিশনের আওতায় এনে এই শহরের আধুনিকীকরণ করতে চেয়েছিলেন, তখন এই রাজ্যের সরকার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে বিধান নগরকে গ্রীন সিটি, স্মার্ট সিটি মিশনের আওতায় আসতে দেননি।

শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, তিনি বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ছাত্র অবস্থা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তিনি। নন্দীগ্রামের গণ আন্দোলনে সামনে থেকে জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে জমি অধিগ্রহণ বিরোধী লড়াইয়ে লড়েছেন। সিপিএম যা করেনি, তার থেকে ১০০ গুণ বেশি অত্যাচার, ১০০ গুণ বেশি দলতন্ত্র করছে তৃণমূল। এই পরিবেশ তৈরি করেছে পশ্চিমবাংলায়। এই জিনিস পশ্চিমবঙ্গে বেশিদিন চলতে পারেনা।

২০০৬ সালে বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ওরা ৩০ আমরা ২৩৫, ওদের কথা শুনবো না এখন সেই ২৩৫ এর পিরামিড কোথায়? ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গেছে।’ গণতন্ত্রতে সব সময় মানুষই শেষ কথা বলে । বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা, পেশি শক্তি, অর্থ, পুলিশ কথা বলে না। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার গোটা পশ্চিমবঙ্গের ব্যবস্থাকে পাল্টে ফর দা পার্টি, বাই দা পার্টি, অফ দা পার্টি করেছে। তার বিরুদ্ধে ১২ তারিখে নীরবে তৃণমূলের কাছ থেকে স্লিপ নিতে হবে, কিন্তু ভোটটা দিতে হবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। এই আবেদন রাখতে চান তিনি মানুষের কাছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories