Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো,তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরো’ -রাজ্য পুলিশকে একহাত শুভেন্দুর

1 min read

। প্রথম কলকাতা ।।

‘পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরো’। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে একেরপর এক তোপ ধ্বনি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানিয়ে আজ বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেট ঘেরাও অভিযান করে বিজেপি। তবে সল্টলেকে বিজেপির মিছিল আটকে দেয় পুলিশ, করা হয় ব্যারিকেড। রাস্তায় বসে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ জানালেন বিজেপির নেতা কর্মীরা।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, যে দল দেশ চালাচ্ছে, যাদের তিনশ’রও বেশি সাংসদ পার্লামেন্টে, ২০ এর কাছাকাছি রাজ্যে যারা সরকার চালাচ্ছে, সেই গণতন্ত্র মেনে চলা রাজনৈতিক দলকে আটকানোর জন্য এখানে বিরাট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অথচ, তৃণমূলের কানকাটা-নাককাটাদের পুলিশ ধরতে পারে না। যা থেকে প্রমাণ হয়, পশ্চিমবাংলার পুলিশকে কোন জায়গায় নিয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? পুলিশকর্মী কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানালেন, তাঁরা স্পষ্ট জেনে রাখুন, জানুয়ারি মাসে ডিএ তাঁরা পাননি, জুলাই মাসের ইনক্রিমেন্টও পাবেন না, রেশন আগেই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভাইপোকে যারা পাহারা দিচ্ছেন, সেই সিকিউরিটি গার্ডের লোকেরা মাসে কুড়ি হাজার টাকা করে বেতন পান। রাজ্যের পুলিশরা পান না।

এরপর পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, বিজেপি মারামারি করবে না, বিজেপি ভোট করবে, ভোটে আঘাত করলে তাঁরা প্রত্যাঘাত করবেন। পুলিশ ইন অ্যাকশন পিটিশনকে তাঁরা আদালতে নিয়ে যাবেন। হাইকোর্টের বিজেপির পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে, দলদাস পুলিশ দিয়ে নয়, কেন্দ্রীয় পুলিশ দিয়ে পুর নির্বাচন করানো হোক। আগামী বুধবার হাইকোর্টে এর শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে বলে, তাঁরা আশা করছেন। যে পরিবেশ তৈরি করেছে এখানকার গুন্ডারা, বিজেপির যারা প্রচারে বের হয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে পচা ডিম ছোড়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে বোম ফাটানো হচ্ছে। বিজেপির একটা পতাকা, ফেস্টুন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে, কিন্তু সিপিএমকে ছাড় দেয়া হয়েছে, কারণ সবাই জানেন, এই পার্টিটা উঠে গেছে। এই পার্টি অপ্রাসঙ্গিক। তাই বিজেপিকে আটকানোর জন্য এ রকম পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের অফিসারদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, জলকামান আরম্ভ করতে, বিজেপি সব সহ্য করতে পারে। অনেক লড়াই করেছেন তিনি। কুড়িজন আইপিএস দিয়েও তাঁকে দমন করা যায় নি। তাঁদের লজ্জা থাকা উচিত। তাঁর প্রশ্ন তাঁদের বেতন কে দেয়? তৃণমূল দেয়? বেতন দেন কি পিসি-ভাইপো? বেতন তাঁরা মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পান।

পশ্চিমবঙ্গকে শেষ করে দিয়েছে পিসি- ভাইপোর কোম্পানি। সবাই মিলে রুখে দাঁড়াতে, পরিস্থিতি খুব খারাপ জায়গায় চলে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের এই লড়াইতে তাঁরা জিতবেন। বিধান নগরের এই পুলিশই একসময় সিপিএমের নেতাদের পা চাটতো, সেই নেতা গুলো সব গায়েব হয়ে গেছে। সুশান্ত ঘোষ, লক্ষ্মণ শেঠ, মজিদ মাস্টারকে আজ পাওয়া যায় না। ঠিক একইভাবে পুলিশে যাদের কথাতে চলে,সেই সুজিত বসু, সব্যসাচী দত্ত এদেরকেও একদিন পাওয়া যাবে না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর সেন্ট্রাল ক্যাডার যারা রাজ্যে আছেন ডেপুটেশনে, তাঁদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। সব রাজ্য তাতে সম্মতি জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুধু দুটো চিঠি লিখেছেন। সেন্ট্রাল ক্যাডার নিয়ে এত ভয় কেন? এরা গেলে সব বেরিয়ে গেল। গন্ডগোল যতো উপরমহলে। টাকা তোলা, বাড়িতে পাঠানো, তৃণমূলের দালালী করা। এটা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। স্লোগান দিয়ে তিনি জানালেন, ‘পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরো’।

এভাবে বিক্ষোভ মিছিলে রাজ্য পুলিশকে একেবারে একহাত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে বারবার নানা অভিযোগ উঠেছে বিরোধী শিবির থেকে। রাজ্য পুলিশ নিরপেক্ষ নয়, তা তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হয়েছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এবার বোমা ফাটালেন শুভেন্দু অধিকারী। শোরগোল তুলে দিলেন রাজ্য রাজনীতিতে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories