Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অচিরেই তৃণমূলের ‘পাওয়ার সেন্টার’ কি শুধুই অভিষেক? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সাধারণত রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হলেন তৃণমূলের চেয়ারপার্সন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা হয়ে থাকে, মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তৃণমূলে একটা ঘাস-পাতাও নড়তে পারেনা। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই তৃণমূলে ক্ষমতা বাড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলেও অভিহিত করা হয়। অনেকেই মনে করছেন, সম্প্রতি তৃণমূলে দুটি ক্ষমতার ভরকেন্দ্র তৈরি হয়েছে- একজন হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অপরজন হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সম্প্রতি, গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় বেশকিছু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখতেও দেখা গেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেছে, তৃণমূলে একটাই পাওয়ার সেন্টার, যিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর নিজের সম্পর্কে তিনি বললেন, তিনি হলেন ক্ষুদ্র, অতি সামান্য একজন ব্যক্তি, দলের একজন সাধারণ কর্মী।

কিন্তু, এটাও বিচার্য যে, এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই একাধিকবার দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখতে দেখা যাচ্ছে, যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা দলে যথেষ্টই আছে। প্রসঙ্গত, এক ব্যক্তি এক পদ নীতি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক উঠেছে। অনেকেই বলেছেন, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই নীতি মান্য করা হয়নি, কিন্তু রাজ্যের অন্যত্র এই নীতি কঠোরভাবে মানা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বললেন, তৃণমূল দলে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি ৯৫% কার্যকর করা হয়েছে, যা আগামী দিনে ১০০% কার্যকর করা হবে। যতদিন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক থাকবেন, তাঁর মধ্যেই এই কাজ ১০০% করা হবে বলে, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তাঁর এই বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, শুধুমাত্র তিনি দলের কর্মী নন, দলে যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর কথা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। দলে যদি তাঁর ক্ষমতাই না থাকে, তবে এরকম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কি তিনি আদৌ নিতে পারবেন? আবার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বলতে শোনা গিয়েছিল যে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গেছেন যাঁরা, তাঁদের যদি দলে ফেরানো হয়, তবে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিয়ে তাদের দলে আনবেন। কেউ যদি মনে করেন, তৃণমূলে ফিরে এসে দলের মাথার ওপরে বসে যাবেন, তা হতে দেয়া হবে না। যেমন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে ফিরে এসেছেন, কিন্তু তাঁকে ত্রিপুরায় গিয়ে দলে যোগদান করানো হয়েছে। তিন বছর এখন তিনি সেখানে প্রায়শ্চিত্ত করবেন।

তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তৃণমূল দলে তাঁর যথেষ্টই ক্ষমতা রয়েছে। যদি ক্ষমতা না থাকতো, একথা তিনি কোনভাবেই বলতে পারতেন না। আবার, অনেকে বলে থাকেন রাজনীতিতে তেমন একটা পোড়খাওয়া নন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিবারিক সূত্রে রাজনীতির অঙ্গনে তিনি এসেছেন। কিন্তু এটাও সঠিক যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পরিপক্ক রাজনীতিবিদ হিসেবে ধীরে ধীরে তৈরী করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা বা কৃতিত্বর তিনি প্রমাণ দিয়েছেন লোকসভা, বিধানসভা নির্বাচনে যথেষ্ট ভাবেই।

সম্প্রতি, একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেল যে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সকলেরই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া উচিত। রাজনীতির ক্ষেত্রে বয়সের সময়সীমা থাকা দরকার। তা ৬০ হোক, ৬৫ হোক, কিংবা ৭০ হোক বা ৭৫। এর উপরে রাজনীতি করা উচিত নয়। মানুষ ৬০ বছরে অবসর নিচ্ছেন। সরকারি বা বেসরকারি ক্ষেত্রে মানুষ এর বেশি কাজ করেন না। রাজনীতির ক্ষেত্রে সেভাবেই হওয়া দরকার। রাজনীতিতে চলতি নিয়মের বদলের প্রয়োজন আছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য শুনে কখনই বলা যায় না যে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি অনভিজ্ঞ। বরং বলা ভালো ধীরে ধীরে নিজেকে তিনি তৈরি করছেন, অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করছেন, তাই আগামীদিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ক্ষমতা বৃদ্ধি হবে না? এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং দায়িত্ব নিয়ে দলের একটি শক্তিশালী ভরকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ রাজনীতিতে কোনো ফুলস্টপ নেই, সর্বত্রই আছে কমা বা সেমিকোলন।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories