Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

গর্ভনিরোধকে ব্যর্থতা, বাচ্চার সব দায়িত্ব চাপল রাজ্যের ঘাড়ে ! কী জানাচ্ছে হাইকোর্ট ?

1 min read

। প্রথম কলকাতা ।।

সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট এমন একটি রায় দিয়েছে , যা শুনে আপনি হতবাক হয়ে যাবেন। একটি শিশু যতদিন না পর্যন্ত স্নাতক শেষ করবে কিংবা ২১ বছর পর্যন্ত বয়স হবে, ততদিন তার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্যকে। আসলে টিউবেকটমি(স্থায়ী গর্ভনিরোধক পদ্ধতি) করার সত্ত্বেও একজন মহিলা গর্ভধারণ করেন। একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পাঁচ বছর পরে, মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্যকে ওই মহিলাকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং প্রতি বছর ১.২০ লক্ষ টাকা অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

যতদিন না সেই শিশুটি তার স্নাতক শেষ করবে বা তার ২১ বছর হবে, ততদিন পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকবে। টিউবেকটমি করার পরেও কীভাবে মহিলা গর্ভধারণ করলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে দায়িত্বে থাকা ডাক্তারদের উপর। অভিযোগের মূল কেন্দ্র ছিল ডাক্তারদের অবহেলা। বিচারপতি কৃষ্ণান রামাসামি কন্যাকুমারী জেলার আরালভইমোঝির বাসিন্দা ধানমের দায়ের করা একটি পিটিশনে এই রূপ আদেশ দেন।

কন্যাকুমারী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই কন্যা সন্তানের জননীর টিউবেকটমি করানো হয়েছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হয় এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি গর্ভধারণ করেন ও তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সেই পরিবারের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না , উপরন্তু তারা নানান আর্থিক লেনদেনের সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন । সেই অবস্থায় তৃতীয় সন্তানের ভালোভাবে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছিল।

তৃতীয় সন্তানের কারণে মেয়ে শিশুদের জন্য সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় যে সহায়তা দেওয়া হয় তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় পরিবারের মধ্যে। তাই, ধানম শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের আবেদন নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং পরিবর্তে তাকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাত্র ৩০ হাজার টাকায় কখনই একটি শিশু মানুষ করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবে তিনি দ্বারস্থ হন মাদ্রাজ হাইকোর্টের ।

বিচারপতি রামাসামি রায় দিয়ে জানিয়েছেন , আবেদনকারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিচার করে যদি ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তবেই তার ন্যায় বিচার হবে। শুধু তাই না এই ৫ বছরের শিশুটিকে কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করিয়ে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষা খাতে খরচ অর্থাৎ বই, খাতা, পেন এমনকি ইউনিফর্ম পর্যন্ত কেনার দায়িত্ব নিতে হবে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories