Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

এঁদের না লড়াই,না জেলে যাওয়া, শুধু চোদ্দ আনা ক্ষমতা- কাদের নিশানা করছেন জয়প্রকাশ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে দল থেকে। তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, দলের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। তবে, অনেকেরই প্রশ্ন, শুধুমাত্র শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই কী বরখাস্ত করা হল জয়প্রকাশ মজুমদারকে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে? তাঁর ছেলে পিকে টিমের সঙ্গে কাজ করছেন বলেই কি এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো? এই আবহে দাঁড়িয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি রোজিনা রহমান। উত্তরে জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, তাঁর ছেলে পিকে টিমের সঙ্গে কাজ করেন না। যাদের নিজস্ব পাবলিক পলিসি আছে, তেমন একটি কোম্পানির সাথে মুম্বাইয়ে কাজ করছেন তিনি।

অনেক আগে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পিকের যোগাযোগ হয়নি, সেসময় তিনি পিকে টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেসময় ওয়াইএসআর কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছে আইপ্যাক। পরবর্তীকালে যখন শিবসেনার জন্য আইপ্যাক কাজ করেছে, যে সময় শিবসেনা ছিল বিজেপির অংশীদার, সেসময়ও তাঁর ছেলে আইপ্যাকে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে আইপ্যাক ছেড়ে দেন। এটা স্পষ্ট করে জানানো দরকার যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যখন থেকে আইপ্যাক যুক্ত হয়, যখন থেকে তাঁদের কাজ শুরু করে, তখন তাঁর ছেলে আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, তিনি মনে করছেন বিজেপির ভেতরের কিছু লোক যারা দলকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে চাইছেন, তাঁরা হলেন তৎকাল বিজেপি। যারা এখন বিজেপির মাথায় বসে আছেন। প্রধান দুজন লোক ভদ্র, সভ্য, শিক্ষিত কিন্তু বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিজেপিতে যোগদান বা রাজনীতিতে যোগদান আড়াই বছর। তাঁর থেকেও যিনি শক্তিমান,পুরো রাজ্য বিজেপিকে যিনি হাতের মুঠোয় নিয়ে চালাবার চেষ্টা করেন, সাধারণ সম্পাদক সংগঠন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা মাত্র দু’বছরের। ২০১৯ এর বেশ কিছুদিন পরে তিনি এসেছেন। তাঁরা লড়াই করে উঠে আসা নয়, সাংগঠনিক ক্ষমতা দেখিয়ে উঠে আসা নয়, নৈবিদ্যের উপরে বাতাসার মতো তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অধিকার। যেখানে দায়িত্ব আছে দায়বদ্ধতা নেই।

তাঁর সঙ্গে যারা আছেন তাঁরা সকলেই তৎকাল বিজেপি। একজন আছেন তিনি এক বছরও হয়নি বিজেপিতে যোগদান করেছেন। যেদিন তাঁকে নমিনেশন দেওয়া হয়, তার পরদিন তিনি এক সংবাদগোষ্ঠী থেকে পদত্যাগ করে চলে যান বীরভূমের একটি আসনে লড়তে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এদের নেই। এদের সবথেকে বড় জিনিস হল মিস ইনফরমেশন, ডিস্ ইনফরমেশন। নিজের কৃতকার্য, অনৈতিক কাজকে জাস্টিফাই করার জন্য এইসব সংবাদমাধ্যমকে খাওয়ানো হচ্ছে। তিনি স্বার্থের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তাঁর পরিবার তিন পুরুষ ধরে ছিলেন কংগ্রেসে। তারপর অনেক পড়াশোনা করে তিনি যখন বিজেপিতে যোগদান করেন কংগ্রেস ছেড়ে, তখন বিজেপি এরাজ্যে ৪ শতাংশ ছিল।

তখন অনেকেই তাঁকে বলতেন, তিনি কী করছেন? বিজেপি এ রাজ্যে ৪ নম্বর টিম। বিজেপির রাষ্ট্রবাদী, গান্ধীবাদী নীতির জন্য, বিজেপির গান্ধীবাদে বিশ্বাস দেখে তিনি এই দলে যোগদান করেছিলেন। যতদিন দলে ছিলেন, দল না তাঁকে তাড়িয়েছে, ততদিন একনিষ্ঠ ভাবে তিনি কাজ করে এসেছেন। বিজেপির জন্য মার খেয়েছেন, পরিশ্রম করেছেন, মেহনত করেছেন, বিজেপি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যাঁরা তৎকাল বিজেপি তাঁদের না লড়াই, না মার খাওয়ার ইতিহাস, না জেলে যাবার ইতিহাস আছে। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা ক্ষমতা দখল করে আছেন। বিজেপিকে এই রাজ্যে ক্ষমতায় আনার চেষ্টায় নেই তাঁরা। তাঁরা চান কেন্দ্রে থাকবেন মোদী, আর এখানে দুধে-ভাতে থাকবেন। কর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, এঁরা জেলা সফরে যাওয়ার সাহস পান না, কর্মীদের মুখোমুখি হবার সাহস পান না।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories