Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সুচারু দল সেটাই যা শৃঙ্খলা রেখে,সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে পারে – কী প্রসঙ্গে বলছেন জয়প্রকাশ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

তৃণমূলের পুরভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ, ক্ষোভ-বিক্ষোভ। সোশ্যাল মিডিয়াতে যেমন অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তেমনি অনেকে সরাসরি গণমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন। দলের বিক্ষোভ সামলাতে কার্যত নাজেহাল হতে হচ্ছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। এবার এ প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি রোজিনা রহমান।

এটা সব দলেই হয়েছে

এ প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ মজুমদার জানালেন, প্রাথমিকভাবে এ ব্যাপারে তিনি বলতে চান যে, এটা একান্তভাবেই রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সাধারণভাবে দেখা যায়, ভারতীয় রাজনীতির একটা পরম্পরা আছে। সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সময় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়েছে, এটা একটা অঙ্গাঙ্গী ব্যাপার, যা প্রায় সব দলেই দেখা যায়।

আকাঙ্খা থেকেই ক্ষোভ

তার কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, যারা দল করেন, তাঁদের মধ্যে একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। এই আকাঙ্ক্ষা থাকার অর্থই হলো গণতন্ত্রের উপরে বিশ্বাস। জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, তাঁরা যখন যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন, সেসময় একজন মাস্টারমশাই তাঁদেরকে বলতেন, সবথেকে দুঃখের ব্যাপার তাঁরা সকলেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বড় বড় প্রফেসর এসব হতে চান, কিন্তু রাজনীতিতে কেউ যেতে চান না। কিন্তু যারা যারা রাজ্য বা দেশ চালান, তাঁদের সব থেকে সুদক্ষ, বুদ্ধিসম্পন্ন, মেধা সম্পন্ন হওয়া দরকার।

রাজনীতি এখন সকলের চর্চায়

কিন্তু, রাজ্য বা দেশের দুর্ভাগ্য হল, সব থেকে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েরা সাধারণভাবে রাজনীতিতে আসে। যার কিছু হলো না,সেই রাজনীতিতে যায়। এখন রাজনীতি বিষয়টা সোশ্যাল মিডিয়া, মিডিয়া, ইন্টারনেট দ্বারা সব জায়গায় সকলের চর্চার মধ্যে এসেছে। মানুষ ভাবতে শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে চব্বিশ ঘন্টা মানুষ রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেন। বহু চ্যানেল, পোর্টাল, বিভিন্ন সংস্থা রাজনীতিকে দেশের মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিতে আরও বেশি করে যুক্ত হচ্ছে মানুষ।

সুচারু দল সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলে

অনেক বেশি সংখ্যায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আর যা থেকে তাদের আকাঙ্খা বাড়ছে। অনেকেই ভাবছেন যে, তিনি কোন জনপ্রতিনিধি হবেন। এই অবস্থা সমস্ত দলেই আছে। তাই প্রার্থী তালিকা যখন প্রকাশ হয়, তখনই এই ঘটনা ঘটে। ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়। এবার দল সেখানেই সফল, যখন তারা সুচারুরূপে এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাহিদাকে মেটাতে পারে। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা রেখে, সেটাকে মিটিয়ে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে পারে। এটা একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তাঁর মতামত। তৃণমূলের যা হচ্ছে, সেটা একান্ত ভাবে তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়, তৃণমূল যদি মেটাতে পারে তাহলে তৃণমূল পরিপক্কতার পরিচয় দেবে, আর যদি মেটাতে না পারে, তাহলে তা চিন্তার বিষয় হবে তৃণমূলের জন্য।

এটি শুধু তৃণমূলে সীমাবদ্ধ নেই

আবার, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু অভিযোগ থাকার পর বলা হয়েছিল যে, যে তালিকায় স্বাক্ষর আছে, সেটাই আসল। এ প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, এরকম ভুল হওয়া উচিত নয়, যারা রাজ্য চালাচ্ছে তাদের কাছে। এই ভুল একেবারেই অনুচিত, বিষয়টি তৃণমূল কংগ্রেস দেখবে। তবে এই বিষয়টিকে শুধু তৃণমূলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এমন নয় যে, এটা আর কোন দলে দেখা যায়নি, সব দলেই এরকম হচ্ছে। রাজনীতির সঙ্গে এটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জুড়ে গেছে। তালিকা নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ, নতুন প্রযুক্তি,ইন্টারনেট,ওয়েবসাইটে ভুয়ো খবর দেওয়া এখন জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে। যা সব দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories