Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘রাষ্ট্রিপতির ভাষণ লেখক দেশের সর্বোচ্চ নাগরিকের প্রতি অবিচার করেছেন’: কেন বললেন আনন্দ শর্মা?

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে চলেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। আজ সংসদে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণ সম্পর্কে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার লেখক তাঁর প্রতি অবিচার করেছেন।’ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে, প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘আমি কোনও ব্যঙ্গ বা কৌতুক করছি না। তবে, যিনি এটি (রাষ্ট্রপতির ভাষণ) লিখেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতি অবিচার করেছেন। এটি জনগণের রায়কে চ্যালেঞ্জ করছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ভাষণে দেশের সামনে যে কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে, তা অস্বীকার করা হয়েছে।’

সেই সঙ্গে অমর জওয়ান জ্যোতি’র তাৎপর্য তুলে ধরে কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মা বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় নিহত সৈন্যদের জন্য উত্সর্গীকৃত ছিল। যা এখন একত্রিত করা হয়েছে।’ আনন্দ শর্মা আজ গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (জিডিপি), কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে অর্থনৈতিক সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘যে দেশে এখন বেকারত্ব সর্বকালের সর্বোচ্চ। ৪২ কোটি ভারতীয় আজ কর্মহীন। আমরা বুঝতে পারি যে, এটি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। ২০২০ সালের মার্চের পর এর কোনও পরিবর্তন হয়নি। ঋণ আর জিডিপি অনুপাত এখন ৯০। জাতীয় সম্পদ বিক্রি করে এই দূরত্ব সংশোধন করা যাবে না।’

সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, চীন সীমান্তে এক লক্ষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু, এটি কি সংসদে আলোচনা করা উচিত নয়? ১৯৬২ সালে, নেহরু সংসদে যুদ্ধকালীন অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। এর আগে আমাদের বলা হয়েছিল যে, ইন-ক্যামেরা ব্রিফিং হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি।’ শর্মা বলেন, বিরোধীদের সম্পর্কে আরও একটি ভুল বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ‘সবাই চায় দেশ উন্নতি করুক, কিন্তু এখন একটা ধারণা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে যে, বিরোধীরা তা চায় না। এটা ঠিক নয়।’

পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জওহরলাল নেহরু ১৪ বছর জেলে ছিলেন। ইন্দিরা এবং রাজীব গান্ধী শহীদ হয়েছিলেন। আপনি (রাষ্ট্রপতি) কীভাবে তাঁদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন? আপনারা অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে যে কাজগুলি করেছিলেন তাও আমরা স্বীকার করি। আমরা কখনও বলিনি, বাজপেয়ীজি কাজ করেননি। কিন্তু এই সরকার বলেছে যে, কংগ্রেস সরকার এমন কিছু করেনি যাতে দেশের উন্নতি হয়েছে। আমরা নাকি সম্পূর্ণ ভুল পদক্ষেপ নিয়েছি।’

আনন্দ শর্মা রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি পূর্ববর্তী সরকারগুলির করা কাজগুলিকে উড়িয়ে দিতে পারেন না। একটি দেশ একক আদর্শে চলতে পারে না। ভারত ২০১৪ সালে উঠে এসছে, এমনটা নয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। এটি আসলে স্বাধীনতার ৭৪ বছরের সমাপ্তি। আপনি বলেছেন, ইন্ডিয়া গেট একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। কিন্তু বর্তমান সরকার যেখানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে স্থাপন করতে চায়, সেটিও কিন্তু একটি ব্রিটিশ ধ্বংসাবশেষ।’

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories