Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘রাজ্যের উপরে নজরদারি করার দায়িত্ব রাজ্যপালের, খবরদারি নয়’, অকপট জয়প্রকাশ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্য-রাজ্যপালের সংঘর্ষের পারদ যখন ক্রমশই চড়ছে, সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালকে কটাক্ষ করেছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর এই পদক্ষেপ থেকে অনেকেই মনে করছেন বিজেপি ছেড়ে এবার তৃণমূল শিবিরে পাড়ি দিতে চলেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি রোজিনা রহমান। ট্যুইট করে রাজ্যপালকে কটাক্ষ প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ মজুমদার জানালেন, রাজ্যপালকে তিনি যা বলেছেন তার সঙ্গে পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই। রাজ্যপাল কোন দলের সদস্য নন। রাজ্যপালকে তিনি বার্তা দিয়েছেন একটা সার্বিক রাজনৈতিক ও সংবিধানের জায়গা থেকে। সংবিধান রাজ্যপালকে রাজ্যের সংরক্ষক করেছে, তাঁর দেখার কথা, রাজ্য সংবিধান মেনে চলছে কিনা? রাজ্য চালানোর দায়িত্ব রাজ্যপালের নয়, নির্বাচিত সরকারের।

নির্বাচনে বিজেপি লড়াই করেছে, অনেক লড়াই করে ৭৭ পর্যন্ত পৌঁছেছে, কিন্তু তার অনেক আগে চলে গেছে তৃণমূল, তারা ২১৩ পেয়েছে। এটা বিজেপির পছন্দ না হলেও মেনে নিতে হবে। এটাই মন্ত্র গণতন্ত্রের, আগামী পাঁচ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য চালানোর দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের জনগণ। যা চরম সত্য তাঁর জন্য, সমস্ত জনগণের জন্য, রাজ্যপালের জন্যও। কিন্তু রাজ্যপাল বনাম রাজ্য সরকারের একটা অহর্নিশ লড়াই চলছে। জয়প্রকাশ মজুমদার জানালেন, রাজ্যপাল রাজভবনে থাকেন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা, সংবিধান মেনে রাজ্য শাসন হচ্ছে কিনা?তাঁর নজরদারির কথা। এজন্য সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি তাঁকে পাঠিয়েছেন, সব রাজ্যেই পাঠিয়ে থাকেন। রাজ্যের উপরে নজরদারি করার দায়িত্ব রাজ্যপালের, খবরদারি করার দায়িত্ব নয়। রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকার সব সময় যদি ঝগড়ার অবস্থায় থাকে, তাহলে কি রাজ্যের উন্নয়ন হবে? তাতে কি রাজ্যের ভালো হবে? তাতে কি গণতন্ত্রর ভালো হবে? রাজ্যের মানুষের কি কোন উপকার হবে?

গণতন্ত্রে সবার উপরে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, এই ঝগড়ায় কী জনগণের কোনো লাভ হচ্ছে? দ্বিতীয়ত রাজ্যপাল বনাম রাজ্য সরকারের ঝগড়ার জায়গা কি সোশ্যাল মিডিয়া? সোশ্যাল মিডিয়া যখন ছিল না, তখন কি রাজ্যে রাজ্যপাল ছিলেন না? দিল্লিতে রাজ্যে সবসময় একদলের সরকার ছিল না। তখন কি রাজ্যপাল ছিল না? তখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। তখনকার যারা রাজ্যপাল ছিলেন, তাঁরা মরিচঝাঁপি, নেতাইয়ের হত্যাকাণ্ডর কীভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন? তাঁরা রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও রাষ্ট্রপতির কাছে। মিডিয়ার কাছে নয়। মানুষ সবসময় তরজা দেখবে, সেটা কি একটা উন্নয়নকামী, উন্নয়নশীল সমাজের জন্য মানানসই? আর তার মাথায় বসে রাজ্যপাল হাওয়া দিয়ে যাবেন, এতে রাজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। রাজ্যের জনগণের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপিরও ক্ষতি হচ্ছে। কারণ, রাজ্যপাল বিজেপির লোক বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মনের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে। তাতে বিজেপির ক্ষতি হচ্ছে। বিজেপির কী রাজ্যপালকে দরকার নেতা হিসেবে?

রাজ্য বিজেপি নিজেদের নেতা, নিজেদের কর্মী নিয়ে লড়াই করবে। এতে রাজ্য বিজেপিরই ক্ষতি হচ্ছে। তৃণমূল সহজেই মানুষকে বোঝাতে পারছে যে, রাজ্যপাল হলেন একজন বিজেপির নেতা, বিজেপির লোক, রাজভবন থেকে বিজেপির এজেন্ডা চলছে। এই সমস্ত ঘটনায় তৃণমূলের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ছে। এতে রাজ্যেরও সর্বনাশ হচ্ছে। রাজ্যের যে প্রতিচ্ছবি বাইরে যাচ্ছে, তা ভালো নয়, অনেকে মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গ শুধুমাত্র ঝগড়া, সব সময় ঝগড়াই চলে। এটা কেন হবে? বাংলার ছবি খারাপ করার অধিকার রাজ্যপালের নেই। রাজ্যপালকে সংবিধানের ব্যবস্থার মধ্যেই কাজ করতে হবে। কিন্তু এই রাজ্যের রাজ্যপাল সাধারণ মানুষের কাছে পাবলিক ডোমেইনে বক্তব্য রাখছেন।

যতদিন তাঁর সময় আছে, ততদিন তিনি এরকম চালিয়ে যেতেই পারেন, কিন্তু তিনি কি এর কোনো প্রতিকার দিতে পারবেন? এটা স্যোসাল মিডিয়ার অপব্যবহার। রাজ্য সরকারের সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারতেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন, এটা পাবলিক ডোমেইনে করার ব্যাপার নয়। রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের কী আলোচনা হচ্ছে? কী বিষয়ে কথা হচ্ছে? কী উপদেশ দিচ্ছেন? ভৎসনা করছেন? সেটা একান্ত ভাবে নিজেদের মধ্যে করা উচিত। যদি কোনো ফল না হয় তবে রাজ্যপালের অধিকার আছে রিপোর্ট পাঠানোর। তাঁর রিপোর্ট সঠিক হলে রাষ্ট্রপতি তার ব্যবস্থা নেবেন, সংবিধানে সেরকমই আছে। কিন্তু রাজ্যপাল ট্যুইট করবেন, সারাদিন ধরে মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ তা দেখবেন, এটা উন্নয়নকামী য়ন সমাজের পক্ষে মানায় না।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories