Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাজধানীতে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, সমীক্ষায় কোন ইঙ্গিত ?

1 min read

।প্রথম কলকাতা।।

ভারতেও কি শুরু হয়ে গিয়েছে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণ। সম্প্রতি দিল্লির সংক্রমিতদের নিয়ে একটি একটি গবেষণায় এমনটাই উঠে এসেছে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে দিল্লির কোভিড নমুনাগুলির একটি সমীক্ষা ইঙ্গিত করেছে যে রাজধানীতে ওমিক্রনের কমিউনিটি বিস্তার ঘটেছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে, ওমিক্রন সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পিছনে কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, কোনও বিদেশ ভ্রমণ ইতিহাস ছাড়াই লোকেরা ওমিক্রনে সংক্রমিত হচ্ছেন। সার্স-কোভ-২-এর এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট ভারতে শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বেড়েছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। ক্লিনিকাল ভাইরোলজি বিভাগ, ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস, নিউ দিল্লি আজ জানিয়েছে যে, তাদের গবেষণার পর দিল্লিতে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সমীক্ষায় উল্লেখ রয়েছে ‍‘‍দিল্লির পাঁচটি জেলার ২৫ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের আরটি-পিসিআর-এর পজিটিভ নমুনাগুলি সম্পূর্ণ-জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ডেমোগ্রাফিক এবং ক্লিনিকাল বিবরণও রেকর্ড করা হয়েছিল। আমরা গঠন বিশ্লেষণ করে দেখেছি স্থানীয় এবং পারিবারিক ক্লাস্টার বিশেষে কমিউনিটি সংক্রমণ ঘটেছে।’ সেই সঙ্গে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড-সংক্রমিত প্রায় ৬০.৯ শতাংশ মানুষের মধ্যে কমিউনিটি সংক্রমণ হয়েছে।

এই গবেষণায় ২৬৪টি ক্ষেত্রের মধ্যে, ৬৮.৯ শতাংশ (এন=১৮২) ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এবং তার উপ-বংশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি ৩১.০৬ শতাংশ নমুনায় উপস্থিতি মিলেছে (এন=৮২) ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কি?
সার্স কোভ-২ হল এমন একটি ভাইরাস যা একজন থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমেই আটকে না দেওয়া গেলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে থাকে দ্রুত হারে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাঁরা আসবেন তাঁদের মধ্যেও ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকেদের চিহ্নিত করে সংক্রমণের উত্স শনাক্ত করা যেতে পারে। এটি প্রশাসনের দ্বারা ট্রেসিংয়ের আদর্শ উপায়। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন একটি নতুন ধারণা নয়। এটি সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তারকে বোঝায়, যেখানে উত্সটি ট্র্যাক করা যায় না কারণ ভাইরাসটির অনেকের মধ্যেই ছিড়য়ে পড়ে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যে, কে ককে সংক্রমিত করেছে তা ট্র্যাক করা দুষ্কর হয়ে ওঠে। কারণ কম-বেশি প্রত্যেকেরই সংক্রমণ রয়েছে।

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের শীর্ষের সময়ও, বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছিলেন যে সম্প্রদায় সংক্রমণ ছাড়া এত পরিমাণ সংক্রমণ সম্ভব নয়। তবে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কারণ ভ্রমণের ইতিহাস ছাড়াই মানুষ নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হচ্ছেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন প্রথম পাওয়া গিয়েছিল৷ এরপর ডিসেম্বরে ভারতে প্রথম কেস রিপোর্ট করা হয়৷ প্রথম কয়েক জন ওমিক্রন সংক্রমিত বিদেশ থেকে এলেও পরবর্তীকালে দেখা গিয়েছে দেশে থাকা মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে করোনার এই নতুন প্রজাতি।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories