Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ভারতের হাতে রাশিয়ার এস-৪০০ মিসাইল, ক্ষুব্ধ আমেরিকা রাজি নয় কঠোর পদক্ষেপে

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ভারতের হাতে এর মধ্যেই চলে এসেছে বিধ্বংসী রুশ মিসাইল এস-৪০০। এর ফলে দেশের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। রুশ-ভারত মৈত্রীও সম্প্রতি কালে অনেকটা দৃঢ় হয়েছে। আর এটাই ঠিক মেনে নিতে পারছে না বিশ্বের সর্বশক্তিমান দেশ বলে পরিচিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনিতে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক তলানিতে। তাই ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধুত্ব মেনে নিয়ে পারছে না আমেরিকা। বাইডেন প্রশাসন ভারতকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গ্রহণ করা কৌশলগত দিক থেকে ভারতের উচিত হবে না।

এদিকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যেও সম্পর্ক আগের থেকে গভীর হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে সৈন্য হস্তান্তর নিয়েও চুক্তি হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরের সময়। কিন্তু ভারতের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রশাসন। এস-৪০০ মিসাশাইল ব্যবহারে ভারতকে নিরুৎসাহিত করার জন্য চাপ দিতে পারে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে সিএএটিএসএ (কাউন্টারিং আমেরিকা’স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট) প্রয়োগ করতে পারে আমেরিকা। কাটসা (সিএএটিএসএ) আইন ২০১৭ সালে প্রণয়ন করে মার্কিন প্রশাসন। এই আইন অনুযায়ী, যে সব দেশ রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনে তাদের উপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

এর আগে রাশিয়ার এস-৪০০ মিসাইল কেনার জন্য তুরস্কের উপর কাটসা প্রয়োগ করেছিল আমেরিকা। তবে ভারতের ক্ষেত্রে কাটসা প্রয়োগ নিয়ে বাইডেন সমর্থন পাচ্ছেন না নিজের দলের কাছ থেকেই। এমনকি বিরোধী রিপাবলিকান দলও বলছে ভারতের উপর প্রতিবন্ধকতা জারি করা কখনওই উচিত নয়। তবে জানা গিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা নীতির সমন্বয়ের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের মনোনীত প্রতিনিধি সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এস-৪০০ মিসাইল কেনা নিয়ে কাটসা-এর বিধানের অধীনে এবার ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট জানায়নি বাইডেন প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরে, ভারত এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের পাঁচটি ইউনিট কেনার জন্য রাশিয়ার সাথে পাঁচ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সে সময় তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করে বলেছিল, চুক্তিটি এগিয়ে গেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলিকে আমন্ত্রণ করবে নয়া দিল্লি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞা নীতির সমন্বয়কারীর জন্য রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের মনোনীত জেমস ও’ব্রায়েনকে বুধবার শুনানিতে জিজ্ঞাসা করা হয়, তুরস্কের সঙ্গে মার্কিন অভিজ্ঞতা ভারতের ক্ষেত্রে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে সে সম্পর্কে কোনও সতর্কতা বা শিক্ষা দেয় কিনা।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন সিনেটর সিনেটর টড ইয়ং ও’ব্রায়েনকে একজন প্রস্ন করেন, ‍‘আমি বিশ্বাস করি যে তারা (ভারত) খুব ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং অবশ্যই বিভিন্ন নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভারতের এক্ষেত্রে চিন্তা করা উচিত ছিল আমাদের বন্ধুত্বের কথা। তবে আমরা কি কোনও হুমকি দিতে পারি?’ ও’ব্রায়েন উত্তরে বলেন, ‍‘দু’টি (তুরস্ক ও ভারত) পরিস্থিতির তুলনা করা কঠিন। একটি ন্যাটো মিত্রের সঙ্গে, যা উত্তরাধিকার প্রতিরক্ষা সংগ্রহ ব্যবস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে। অপরটি ভারতের সঙ্গে, যা ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের অংশীদার। তবে রাশিয়ার সঙ্গে এর উত্তরাধিকার সম্পর্ক রয়েছে।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে রাশিয়ান সরঞ্জাম অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আমেরিকা ভারতকে নিরুৎসাহিত করছে। তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত বিবেচনা রয়েছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে (অবোধ্য) সম্পর্ক নিয়ে। তাই, আমি মনে করি আমাদের ভারসাম্য কী ভাবে বজায় থাকে তা দেখতে হবে।’

তিনি আরও জানান, ‍‘অবশ্যই, ভারতের সামনে কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে, তাই এটাই আরও কিছু বলার সময় নয়। তবে এটি এমন কিছু যা নিয়ে আমি আপনার এবং অন্যান্য আগ্রহী সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’ এদিকে, এস-৪০০ মিশাইল কেনা নিয়ে নয়াদিল্লির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, এই উদ্বেগ নিয়ে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক (এমইএ) গত বছরের নভেম্বরে বলেছিল, ভারত একটি স্বাধীন বিদেশী নীতি অনুসরণ করে এবং এর প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ তার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। এস-৪০০ রাশিয়ার সবচেয়ে উন্নত দূরপাল্লার সারফেস টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম হিসাবে পরিচিত। মার্কিন সিনেটর ইয়াং বলেন, ‍‘ভারত বর্তমানে রাশিয়ান এস-৪০০ সিস্টেমের ডেলিভারি নিচ্ছে এবং রাশিয়া থেকে নতুন ফ্রিগেট জাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দু’টিই ভারতীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

সেই সঙ্গে এই মার্কিন সিনেটর বলেন, ‍‘চীনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিযোগিতায় ভারত একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত যা তাদের আমাদের এবং কোয়াড থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাই আমি বিদেশি বিবেচনায় ভারতের বিরুদ্ধে কাটসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পক্ষে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’ ইয়াং ও’ব্রায়েন বলেন, ‍‘ভারতীয়দের কাছে বিগত কয়েক দশক ধরে প্রচুর উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা রাশিয়ার সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃপ্রক্রিয়াশীল। এবং ভারতীয়রা তাদের স্থল সীমান্তকে চীনা অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষা করতে চায়। সেই সঙ্গে তারা ভারত মহাসাগরে রক্ষা করতে চায় ক্রমবর্ধমান পিপলস লিবারেশন আর্মির দুঃসাহসিক এবং আইনহীন পদক্ষেপ থেকে।’ গত বছরের অক্টোবরে, দুই শক্তিশালী মার্কিন সিনেটর- ডেমোক্রেটিক পার্টির মার্ক ওয়ার্নার এবং রিপাবলিকান পার্টির জন কর্নিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে কাটসা বিধান আরোপ না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল এটি হল আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories