Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

চন্দননগরের সীমানায় ফরাসি আমলের খাল, পুরভোটের আগে তা নিয়েই সমস্যায় দু’পক্ষ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

বহু বছর পূর্বে চন্দননগরকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে আলাদা করতে শহরের চারিদিকে পরিখা কেটেছিল ফরাসিরা। তখন সেই পরীক্ষা বা খালের গুরুত্ব ছিল বিরাট। প্রায় ৭ কিলোমিটার লম্বা এই খাল বর্তমানে পরিণত হয়েছে চন্দননগরের প্রধানের নিকাশি নালার। তবে গুরুত্ব কমেছে। বন্ধ হয়েছে তাঁর পরিচর্যা। খালের পাশের জমি দখল এবং সঠিকভাবে সংস্কার না করায় খাল কমে এসেছে চওড়ায়। আর এই নিয়েই মূলত চন্দননগরের বাম-তৃণমূলের দোষারোপ শুরু। তৃণমূল বলেন বাম যুগেও সংস্কার হয়নি এই খালের। বামপন্থীরা এখন বলেন তৃণমূল আসার পরও নতুন করে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়নি খালের। প্রত্যেক দলই ‘করবে করবে’ রব নিয়েই বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু হাতে কলমে কাজ শুরু হবে কবে তা কে জানেন?

চন্দননগরের এক বিরোধী বামপন্থী দলনেতা খাল সংস্কারের বিষয়ে জানান, “খাল সংস্কারের জন্য অতীতেও বহুবার কথা হয়েছে। আমাদের যখন সংযুক্ত নাগরিক কমিটি বোর্ড ছিল তখন ৩০০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট দিল্লি থেকে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর কাজ শুরু হওয়ার মুখেই ছিল কিন্তু সেই সময়ে আমাদের বোর্ড হাতছাড়া হয়ে যায়। এই খালটিকে সঠিকভাবে সংস্কার করলে পর্যটনের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা যেত। খালটি চওড়ায় ছিল ২৫ ফুট। কিন্তু খালের দক্ষিণ মুখটি যখন সংস্কার করা হল তখন সেটিকে ১১ ফুট মাত্র সংস্কার করে বাকি দুপাশের জায়গায় দখল বসিয়ে দেওয়া হল। উত্তরমুখী খালের এখনও পর্যন্ত কোনো সংস্কার করা হয়নি। আমরা বোর্ড মিটিংয়ে শাসক দলের কাছে বারবার প্রশ্ন তুলেছি। এই খাল সংস্কার করার জন্য বারবার আমরা দাবি জানিয়েছি। কারণ এই খালটিই চন্দননগরের মূল নিকাশি নালা। খালটির বেহাল অবস্থা হয়ে থাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই শহরের ১৫,১৯ নম্বর সহ বেশ কিছু ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে”।

বামপন্থী দলের তরফ থেকে বলা হয় খালের পাশে জায়গা গুলি দখল করে নিয়েছিল শাসকদল। সেখানে রীতিমতন বাড়িঘর তৈরি করে থাকছেন এখন লোকেরা। এ বিষয়ে চন্দননগরের প্রাক্তন মেয়র রাম চক্রবর্তী জানান, “খালের পাড়ে জমি দখল করে যারা বাড়ি করেছেন তাঁরা সকলেই ২০১০ সালের আগে বাড়ি করেছেন। সেই সময় বামপন্থীরা ক্ষমতায় ছিলেন কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে আমরা খালের পাড়ে বেআইনিভাবে জমি দখল করে কাউকে বাড়ি করার অনুমতি দিই নি। এমনকি কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মরত এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি খালের পাড়ে জমি দখল করে দুতলা বাড়ি করে রয়েছেন। বাম শাসনাকালে আমরা এই বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলাম। তাতে বিশেষ কিছু লাভ হয়নি”। খাল সংস্কার করার বিষয়ে তিনি বলেন,”এই খালটি সংস্কার করতে বহু টাকার প্রয়োজন। ডিপিআর তৈরি হয়ে গিয়েছে, আশা করা যায় নতুন বোর্ড গঠিত হলে এই কাজ তাড়াতাড়ি শুরু হবে”।

চন্দননগরের এইরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তা নিয়ে উভয় দলকেই দোষারোপ করতে দেখা গেল। তবে কেউই কারো শাসনকালে এই বিষয় নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাননি। এবার নতুন বোর্ড চন্দননগর পুরসভার অন্তর্গত গঠিত হওয়ার পর এই খাল সংস্কারের কাজ এবং এর সৌন্দর্যায়নের কাজ কতটা এগোয় তাই দেখার বিষয়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories