Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

লড়কি হু, লড় সকতি হু…উত্তরপ্রদেশের জন্য রুটম্যাপ তৈরি প্রিয়ঙ্কার, রেডি কংগ্রেস

|| প্রথম কলকাতা ||

রাজনীতি, ভোট, আর ভোটের আগে স্লোগান। এই কয়েকটা ঘটনা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে কোনো রাজ্যে, দেশে ভোটের আগে নতুন নতুন স্লোগান তৈরি হয়। রাজনীতিতে এরকম বহু বার হয়েছে, স্লোগানের ওপর ভর করে নতুন করে পরিচয় পেয়েছে দল। বাংলাতেও এই ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে। ২১ এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুটি স্লোগান খুব ভাইরাল হয়েছিল। এবং একই সঙ্গে বিতর্ক হয়েছিল। একটি হলো “খেলা হবে” অন্যটি ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। এই দুটি স্লোগান নিয়ে এক প্রকার তোলপাড় এবং নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। ঠিক একই ভাবে উত্তরপ্রদেশে একটি স্লোগান বারবার উঠে আসছে, “লড়কি হু, লড় সকতি হু”। স্লোগানটি কংগ্রেসের। নির্বাচনী স্লোগান হিসেবে জাতীয় দলের তরফ থেকে এই কথাটি বেছে নেওয়া হয়েছে এবং ক্রমে দলের তরফে এই কথার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কংগ্রেস এবং উত্তরপ্রদেশ

ভারতের রাজনীতি ঘাটলে এই মুহূর্তে দেখা যাবে বিজেপিকে দেশের একাধিক রাজ্যে কড়া টক্কর দেবে কংগ্রেস। গত বারের তুলনায় শক্তি কিছুটা কম, রাজ্যের সংখ্যাও কম, তবে টক্কর দেবে। কিন্তু পৃথক ভাবে কংগ্রেসের অস্তিত্ব খুঁজতে গেলে কিছুটা হতাশ হতে হবে। হাতে গোনা এক দুই করে কয়েকটি রাজ্যে জ্বলছে কংগ্রেসের প্রতীক। কারণ প্রত্যেকের জানা। রাজনীতির অন্দরে বরাবর উঠে আসে, কংগ্রেসের নেতা কই, সংগঠন কই…ইত্যাদি প্রভৃতি। অথচ কংগ্রেসের ঘরে যে ধন আছে সে ধন নেই অনেকের কাছে। তবে রাহুলের মনে অনীহা আছে। ক্ষমতা দখল আর চালনার অনীহা। বারবার বলার পরেও তিনি আর সভাপতি পদে বসতে চান না। আবার চাইলেও যে সমস্যার সমাধান হবে এমনটা নয়। কংগ্রেসের ভেতর থেকে তৈরি হয়েছে জি ২৩, একদল বিক্ষুব্ধ নেতা নেত্রী বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন কংগ্রেস দেশের স্বার্থে তৈরি হওয়া একটা দল। এখানে বারবার পরিবার তন্ত্র কেনো চলবে। ধীরে ধীরে নেতারা বুঝতে শুরু করেছেন এই ভাবে দ্বন্দ্ব বাড়বে, সংগঠন নয়। সংগঠন বাড়াতে গেলে আগামী নির্বাচন গুলিতে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে। বিরোধী দলের কাছে এবং নিজের দলের সমর্থকদের কাছে। আপাতত উত্তর প্রদেশকে নজরে রেখে ঠিক সেভাবেই এগোচ্ছে কংগ্রেস। নির্বাচনের প্রস্তুতির শুরুতেই স্লোগান উটেছে মেয়েদের নিয়ে।

লড়কি হু, লড় সকতি হু…কেন?

এইআইসিসির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, তিনি একেবারে শুরুতেই বলেছেন, বলা ভালো যোগী গড়ে বরাবার মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন মেয়েরা সব পারে, মেয়েরা লড়াই করতে পারে। এর পিছনে যথেষ্ট কারণ আছে। যোগী গড়ে মেয়েদের সম্মান নেই, কংগ্রেস এই কথা বারবার বলে এসেছে। কারণ হিসেবে উত্তর প্রদেশের একাধিক ধর্ষেনর ঘটনা হাতিয়ার করে রেখেছে কংগ্রেস। বারবার যোগী গড়ে মেয়েদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তখনই কংগ্রেস, রাহুল প্রিয়ঙ্কা ছুটে গিয়েছেন সেখানে। এবারে শুরু থেকেই কংগ্রেস ঠিক করেছিল ৪০ শতাংশ প্রার্থী দেবে কংগ্রেস।প্রথম তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে হয়েছে তাই। একই সঙ্গে কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় ফের সকলের সামনে উঠে এসেছে উন্নাওয়ের ঘটনা। নির্যাতিতার মাকে এবার প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী লিখেছেন, এবার লড়াই করে তিনি সকলের অধিকার বুঝে নেবেন। প্রিয়ঙ্কা নিজে বলেছেন, “আমাদের প্রার্থী তালিকা এক নতুন বার্তা দিচ্ছে, আপনি যদি নির্যাতন বা হেনস্থার শিকার হন, তবে কংগ্রেস আপনাকে সমর্থন করবেই। নির্বাচনে কংগ্রেসের ৪০ শতাংশ টিকিটই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে।” রাজনৈতিক মহল বলছে একেবারে এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন প্রিয়ঙ্কা। একবার পিছিয়ে দেখা যাক উন্নাওয়ের ঘটনা।

উন্নাওয়ের ঘটনা

ঘটনা বছর খানেক আগের। ২০১৭ সালের একটা ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। উন্নাওয়ে নির্যাতিত হয়েছিল একটি মেয়ে। গোটা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছিল যোগী রাজ্যে। সুবিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল নির্যাতিতা। সেখানেও থামেনি ঘটনা। মামলা চলাকালীন ২০১৯ সালে উন্নাও থেকে রায় বারেলী যাওয়ার পথেই একটি ট্রাক এসে ধাক্কা মারে নির্যাতিতার গাড়িতে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মামলার আইনজীবী সহ তিনজনের। দিল্লি আনা হলেও সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। গোটা ঘটনায় মূল দোষী সাব্যস্ত হয় তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। নির্যাতিতার পিতার মৃত্যুর জন্যও কুলদীপ দোষী সাব্যস্ত হয়। আইনে ১০ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ জরিমানা হয়। এবার সেই নির্যাতিতার মা কে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।

এক ঢিলে দুই পাখি

শুরু থেকেই এই ঘটনায় সোচ্চার চ কংগ্রেস। দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে থেকেছে। এবার এক ঢিলে দুই পাখি মারছে জাতীয় দল। একদিকে প্রার্থী করা হয়েছে সেই মাকে, যিনি লড়াই করেও সব হারিয়েছেন, এবং তাঁর মধ্যে জেদ আছে এখনো বাকিদের জন্য লড়ার। অন্যদিকে এই ঘটনায় ফের যোগী গড়ের নারী সমস্যা, নারী নির্যাতনের কথা সামনে তুলে এনেছে কংগ্রেস। শুধু নির্যাতিতার মা নয়, প্রথম প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ৫০ জন মহিলা। প্রিয়ঙ্কা বলছেন “আমাদের লক্ষ্য হল দলকে শক্তিশালী করা এবং প্রার্থীরা যাতে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে লড়তে পারে, তার জন্য শক্তি জোগানো। আমরা কোনও ধরনের কুপ্রচারে নাম লেখাব না। আমাদের প্রচার কেবলমাত্র দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলির উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে কেন্দ্র করেই হবে। আমি উত্তর প্রদেশে যে কাজ শুরু করেছি, তা জারি রাখব। নির্বাচনের পরও আমি উত্তর প্রদেশেই থাকব। এই রাজ্যে আমাদের দল যাতে আরও শক্তিশালী হয়, সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাব।”

উত্তর প্রদেশে এককালে কংগ্রেস শক্তিশালী থাকলেও এখন নয়। এখন জোর বিজেপির। তবে গত কয়েকদিনে যে হারে গেরুয়া শিবিরের ভাঙন হয়েছে এবং একই সঙ্গে ঘর ভরছে সমাজবাদী পার্টির, তাতে মাঝেখান থেকে নিজেদের রণকৌশল দিয়ে আখের গুছিয়ে নিতে চাইছে কংগ্রেস।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories