Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিএসএফের গুলিতে ফেলনি হত্যার দশ বছর অতিক্রান্ত, আদৌ কি বিচার হবে?

1 min read

।।সৌম্য বাগচী।।

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল ঠিক দশটি বছর। কিন্তু আজও বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদে চলেছে। স্বস্তি মেলেনি ফেলানির পরিবারের। ২০১১ সালের আজকের দিনে (৭ জানুয়ারি) বিএসএফের গুলি ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল কিশোরীর দেহ। নিহত হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ফেলানি খাতুনের মৃতদেহ ঝুলে থাকে সীমান্তের কাঁটাতারে। আজও ফেলানির বাবা নূর খান ও মানবাধিকার কর্মী কিরীটি রায়ের করা আবেদন (ডব্লিউ পি সিআরএল ১৪১ অব ০৫) সুপ্রিম কোর্টে পড়ে রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়। হতাশ কিরীটি রায় আজ বলেছেন, ‘সকল পক্ষ তাঁদের লিখিত আবেদন আদালতে পেশ করেছে। তবুও আদালতের সমেয়র খুব দাম। তাই এই আবেদন শোনার মত সময় নেই।’

সেই সঙ্গে এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, ‘ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য ছিল, একজন কিশোরী কাঁটাতারে ঝুলে বিএসএপ-কে আক্রমণ করার অবস্থায় থাকতে পারে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ফেলানির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরামর্শও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নাকচ করেছে। ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সকল মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত। তবুও… নিঃশান্তিকরণের এই ব্যবস্থা আমাদের ফৌজদারি বিচার কার্যক্রম থেকে কবে নির্মূল হবে তা জানা নেই। এ আমার লজ্জা। ভারতীয় নাগরিক হিসাবে আমি লজ্জিত।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া টপকানোর সময় বিএসএফ-এর গুলিতে মৃত্যু হয় বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানি খাতুনের। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছে ফেলানির মৃতদেহ- এই মর্মান্তিক ছবিটি সে সময় সীমান্তে বিএসএফের নিষ্ঠুরতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
যে বিএসএফ সদস্যর বিরুদ্ধে ফেলানিকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল, দু’দফায় বাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার শেষে তিনি অবশ্য খালাস পেয়ে গেছেন। তবে ফেলানি খাতুনকে হত্যার ঘটনায় অপর একটি মামলা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এখনও বিচারাধীন।

২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে ভোর রাতে দালালদের সাহায্যে সীমান্ত পেরোচ্ছিল ফেলানি খাতুনের পরিবার। তাঁর বাবা আগেই কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে যান, কিন্তু ফেলানি যখন নিজে বেড়া টপকাচ্ছিল, তখনই বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে শেষ হয়ে যায় কিশোরীর জীবন। এর পর বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তার দেহ সেভাবেই কাঁটাতারের উপর ঝুলতে থাকে। ভারতের মানবাধিকার কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। আর তাঁদের সাহাযেই এখন দেশের শীর্ষ আদালতে চলছে এই মামলা। এর আগে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কিরীটি রায় বলেছিলেন, ‘ফেলানি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিল আর বিএসএফও কখনও দাবি করেনি সে তাদের দিকে সে গুলি বা পাথর ছুঁড়েছিল। প্রকৃত দোষীরাও কেউ আহত হননি। সেই কারণেই ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু ভারত সরকার সেই আদেশও উপেক্ষা করেছে।’

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories