Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আজ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্মদিন, এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক বাংলার তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীকে

1 min read

|| প্রথম কলকাতা ||

বাংলার “ঘরের মেয়ের” জন্মদিন আজ… এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রেক্ষাপট দেখা গেলে একটা ছবি খুব স্পষ্ট উঠে আসবে, রাজনীতির ময়দানে সমলোচনা যতোই হোক না কেনো, একথা একটা বিরাট অংশ মানতে বাধ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের রাজনীতিতে অন্যতম একজন সফল চরিত্র। দেশের রাজনীতিতে নিজেকে নিয়ে অনায়াসে চর্চা তৈরি করতে পারেন, বিদেশে কাজের জন্য পুরস্কার আনতে পারেন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনায়াসে গড়গড় করে এমন অনেক কিছু বলে যেতে পারেন, যেটা নিয়ে বিতর্ক বা হাসাহাসি হবে তিনি জানেন, এবং জানার পরেও বলে জান। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ক্যারিশমা। ক্ষমতায় বসতে তিনি ক্ষমতা কায়েম করেছেন তিলে তিলে।

বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর রাজনীতিতে পা দেওয়া একেবারে ছোট বয়সে, পড়তে পড়তে একই সঙ্গে রাজনীতির পাঠ নিয়ে ফেলেছিলেন। ১৯৫৫ সালে কলকাতার হাজরায় জন্মেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগেশচন্দ্র কলেজ থেকে আইন, এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ। ছাত্র জীবনেই শুরু হয়েছিল রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ। একে একে এগোতে থাকা। ১৯৭৬ সালে যখন বয়স ২১, পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেস ( আই) এর সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। কয়েক বছর পরেই নিখিল ভারত যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। তার পরেই রাজনীতিতে শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে চর্চা। সালটা ১৯৮৪, বামেদের হেভিওয়েট সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে লোকসভায় প্রবেশ করেন তিনি, তবে সফলতার শুরু হলেও পরের বারে ব্যর্থতার মুখও দেখেন একই কেন্দ্র থেকে। ১৯৮৯ এ যাদবপুর থেকে হেরে যান তিনি। ১৯৯১ এ ফিরলেন আবার। তৎকালীন নসরিমা রাও সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া, যুবকল্যাণ, নারী এবং শিশু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী হন। ১৯৯৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান হয়, পুলিশের গুলিতে নিহত হন ১৩ জন কর্মী। এতদিন মমতা ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী। এবার সেখান থেকেও সুতো কাটলেন তিনি।

তৈরি করলেন তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৯৭ সালে ঘোষণা করলেন নিজে দলের কথা। ১৯৯৯ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA সরকারের শারিক হয়ে রেলমন্ত্রী হন। তবে বেশিদিন টেকেনি সেই জোট, ফের যোগ দেন কংগ্রেসে। ফের আবার NDA। একটা সময় পর থিতু হলেন। ততদিনে রাজনীতির এদিকে ওদিক ঘুরে মমতা বুঝে গিয়েছেন এবার তাঁকে নিজের দলের হয়ে একক ভাবে কাজ করত হবে। তবেই কংগ্রেসের ছাতা থেকে বেরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা নিজেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নিলেন বাংলার তৎকালীন সরকার সিপিআইএমকে। শুরু হলো লড়াই।

মমতার উত্থান শুরু হলো বামেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে, মাঠ হিসেবে বেছে নিলেন জমিকে। ব্যাস সেই শুরু, সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম দুই জায়গায় মমতা জমি পেলেন পোক্ত, মানুষের মনে জায়গা করার। সাধারণ মানুষের কাছে দিনে দিন প্রমাণিত হলো তৎকালীন সরকার শিল্প চায়, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান মানুষের জমি, আদিম পেশা কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি। মানুষ লাল পতাকা ছেড়ে মা মাটি মানুষের পতাকা কাঁধে ফেলে হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটা শেষ হলো একেবারে নবান্নর সামনে এসে। ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচন, ৩৪ বছরের বাম জামনার পতন ঘটিয়ে বাংলায় তৃণমূল রাজ প্রতিষ্ঠা পেলো। ২৯৪ আসনের বিধানসভার লড়াইয়ে তৃণমূলের দিকে গেলো ২২৭ আসন। মমতা আর মহাকরণ গেলেন না, লাল বাড়ির বদলে রাজ্যের সব কাগজ পত্র নিয়ে চলে গেলেন গঙ্গা পেরিয়ে নবান্নতে।

তার পর থেকে ২০১৬, ২০২১ পরপর আরও দুটো ভোট হয়েছে বাংলায়, এবং দুটোতেই বিরোধী দলগুলোর সব ভবিষ্যতবাণী মিথ্যে করে বারবার ফিরে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন দফা শাসন চলছে তার। থার্ড রাউন্ডের পিছনে দাঁড়িয়ে অনায়াসে বলা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা দল বানিয়ে এখনো টিকে আছেন স্রেফ নিজের ক্যারিশমা নিয়ে। তার কারণ কিন্তু ভীষণ স্পষ্ট। মমতা জামানার প্রথম ৫ বছরেই দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের যে মূল্যায়ন হয়েছিল তা খুব একটা সদর্থক ছিলনা। প্রথম বার ক্ষমতায় আসার পর মমতার দল প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেনি , রাজ্যের বেকারত্ব, নিয়ম কানুন, বহু জায়গায় দুর্নীতি, নেতাদের ব্যবহার, একাধিক নেতার দুর্নীতির সঙ্গে যোগ, ক্ষমতার আস্ফালন সব মিলিয়ে নতুন ক্ষমতায় আসা একটা দলের প্রতি মানুষের মোহ উঠে ভয় আর হতাশা তৈরির জন্য যথেস্ট ছিল। কিন্তু ওই যে, তৃণমূলে একই সঙ্গে আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে তাঁর দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল করে গিয়েছেন। রাজনীতিতে মমতার সবথেকে বড়ো ইউএসপি তাঁর গার্লস টু নেক্সট ডোর ইমেজ।

বাংলার মাটি, চাষের জমি, লাল মাটি, ধানের গন্ধ সব তিনি বোঝেন, আর বোঝেন বলেই তিনি মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতে দিতে কোনো এক মা, মাসিকে দেখে চিৎকার করে হাত নেড়ে জিজ্ঞাসা করে বসেন, তিনি জায়গা পেয়েছেন কিনা, কিম্বা কেউ গোলমাল করলে তিনি অভিভাবকের মতো বকে দেন। কারণ তিনি জানেন মঞ্চের ওপর থেকে ভারী ভারী শব্দ বলে বক্তৃতা দেওয়ার রাজনীতি ত্যাগ করেছে রাজ্যের মানুষ। একেবারে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের মতো সাধারণ তাঁর পোশাক, বক্তব্য ঠিক একই রকম। জোরে জোরে তিনি জানতে চান মানুষের ভালো থাকা না থাকার কথা। তিনি জোর দিয়ে বলতে পারেন গোটা বাংলার ভোট যুদ্ধে মুখ তিনি। এই কথা বলার জন্য যে আত্মবিশ্বাস দরকার তিনি সেটা রাখেন, তিনি সেই পরিস্থিতি ,সেই জমি তৈরি করেছেন তাঁর একার ভরসায়। রাজনীতিতে একে একে হারিয়েছেন বহু সহকর্মীদের, কেউ দল ছেড়েছেন, কেউ কেউ দুনিয়া ছেড়ে গিয়েছেন। তাদের জায়গায় নতুন মুখ এনেছেন, দলের জন্য তিলে তিলে তৈরি করেছেন অভিষেক কে।

একটা দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বানিয়েছেন, সেই একটা দল রাজ্য চালায়, দেশ চালানোর কথা ভাবে। গেরুয়া শিবিরের আস্ফালন থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কংগ্রেস কে ভাঙিয়ে দিতে পারে, সেই মমতা দেশ চালাতে পারবেন কিনা পরের প্রশ্ন, কিন্তু তিনি একথা ভাবতেই পারেন, তাঁর কাজ আরও বহু মানুষকে একই সঙ্গে একই কথা ভাবতে বাধ্য করেছে বহু মানুষকে। দেশের রাজনীতিতে এই ঘটনা খুব একটা সহজ নয়। অনুরাগীরা তাঁকে অগ্নিকন্যা বলে থাকেন, তিনি কথায় কথায় বলেন, শরীরে আঘাতের দাগ লুকিয়ে রাজ্য চালাচ্ছেন। ইন্দিরা অনুরাগী থেকে বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, রাজনীতিতে অসম্ভব ভালো বুদ্ধি নিয়ে হাজার নেতিবাচকতা কে কৌশলে একপাশে ঠেলে দিয়ে নিজের ব্যক্তি ইমেজ দিয়ে দলকে থার্ড রাউন্ড জিতিয়ে দিয়েছেন।

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories